রবি. অক্টো. ২০th, ২০১৯

খবরে সংস্কৃতিতে

জেএমবি’র নতুন জঙ্গি দল ‘উলফ প্যাকে’র বোমা তৈরির ম্যানুয়াল:পুলিশের উপর আত্মঘাতী হামলার ছক পন্ড

পরিকল্পনা বাস্তবায়নের আগেই পুলিশের কাউন্টার টেররিরজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিটের হাতে গ্রেফতার হয় 'উলফ প্যাকের' পাঁচ সদস্য। ছবি: সংগৃহীত

নতুনভাবে জঙ্গি হামলার পরিকল্পনা করেছিলো নব্য জেএমবির ‘উলফ প্যাকের’ জঙ্গি দল।পুলিশের কাউন্টার টেররিরজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি)’র তদন্তে জানা গেছে  নব্য জেএমবি’র জঙ্গিদের মধ্যে নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র শিবলী শাহাজাদ সাদী পরিকল্পনা করেছিল পুলিশের ওপর আত্মঘাতী হামলা চালানোর।তাদের ইলেকট্রনিক ডিভাইস পরীক্ষা করে বোমা তৈরির ম্যানুয়ালও পেয়েছে পুলিশের তদন্ত দল। ওয়েবসাইট থেকে এ ম্যানুয়াল সংগ্রহ করেছিল এই জঙ্গি দল। ঘরে বসে বোমা তৈরির কৌশল রপ্ত করার চেষ্টা করছিলো জেএমবি’র এই জঙ্গি দল। সিটিটিসি ইউনিটের তদন্তে জানা যায় ফেসবুকের মেসেঞ্জারে নিজেদের মধ্যে যোগাযোগ রক্ষা করত এই জঙ্গি সদস্যরা।

সিটিটিসি’র তদন্তে প্রকাশ, নতুনভাবে জেএমবি’র শপথ বা ’বাইয়াত’ নিয়েছে আরও চার জঙ্গি। অনলাইনে নিজস্ব যোগাযোগ মাধ্যমে ‘শপথ’ নেওয়ার ছবিও প্রকাশ করে তারা। বাইয়াত বা শপথ নেওয়া বাকী চার জঙ্গিকে শনাক্ত করে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছেন তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

সিটিটিসি’র তদন্তে বেরিয়ে এসেছে এই জঙ্গিদের মধ্যে নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র শিবলী শাহাজাদ সাদী পরিকল্পনা করেছিল পুলিশের ওপর আত্মঘাতী হামলা চালানোর।সংগঠনের জন্য অর্থ সংগ্রহের দায়িত্বে ছিল আবাবিল। বিট কয়েনের মাধ্যমে ডার্ক ওয়েব থেকে সংগঠনের জন্য অর্থ সংগ্রহ করে আসছিল আবাবিল। যশোরে গ্রামের বাড়ি হওয়ায় সীমান্ত এলাকা থেকে পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য অস্ত্র সংগ্রহের দায়িত্ব ছিল মাসরিক আহমেদের ওপর।

জঙ্গী হামলার ভয়াবহ পরিকল্পনা বাস্তবায়নের আগেই পুলিশের কাউন্টার টেররিরজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিটের হাতে শিবলী, মাশরিকসহ ‘উলফ প্যাকের’ পাঁচ সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়। তাদের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করার পর বেরিয়ে আসে নব্য জেএমবির জঙ্গি হামলার নতুন পরিকল্পনার তথ্য।

গত ৮ আগস্ট রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা থেকে ‘উলফ প্যাকের’ পাঁচ জঙ্গিকে গ্রেফতার করা হয়। তারা হলো কুমিল্লার মোহাম্মদ শিবলী শাহাজাদ ওরফে সাদী, বরিশালের শাহ এম আসাদুল্লাহ মর্তুজা কবীর ওরফে আবাবিল, যশোরের মাসরিক আহমেদ, টাঙ্গাইলের আশরাফুল আল আমীন ওরফে তারেক ও খুলনার এসএম তাসনিম রিফাত। তাদের মধ্যে সাদী ও আবাবিল নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। মাসরিক যশোর এম এম কলেজ থেকে বিবিএ শেষ করেছে। তারেক ও রিফাত সম্প্রতি এইচএসসি পাস করেছে। তাদের কাছ থেকে ১০টি ডেটোনেটর এবং চারটি গ্যাসের বোতল জব্দ করা হয়েছে।

সিটিটিসি তদন্ত দল খতিয়ে দেখছে বিদেশে পলাতক বাংলাদেশি জঙ্গিদের সঙ্গেও তাদের যোগাযোগ ছিল কি-না এবং বিদেশ থেকে কেউ তাদের অর্থ সহায়তা করেছিল কি-না।

সিটিটিসির ডিসি সাইফুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন,জঙ্গিদের ব্যাপারে নতুন তথ্য পাওয়া গেছে।উলফ প্যাকের জঙ্গিরা নতুনভাবে হামলার চেষ্টা করছিল। এই চক্রের অন্যান্যদের ও গ্রেফতার করার চেষ্টা করা হচ্ছে।

তদন্ত-সংশ্লিষ্ট একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা জানান, নব্য জেএমবির সদস্যরা এর আগে স্লিপার সেলের মাধ্যমে জড়ো হয়ে সংগঠনের দায়িত্ব পালন করত। একেকটি স্লিপার সেলে ৩ থেকে ৭ জন পর্যন্ত সদস্য থাকে। বর্তমানে তারা স্লিপার সেলের পরিবর্তে ‘উলফ প্যাকের’ মাধ্যমে কর্মকাণ্ড চালাচ্ছে। এ দুটি কাঠামোর মৌলিক পার্থক্য হলো, স্লিপার সেলের সদস্যদের মাথার ওপর একজন ‘নেতা’ বা ‘বড় ভাই’ থাকে। সেলের সদস্যরা কাজ করে তার নির্দেশনায়। এই ‘বড় ভাই’ বা ‘নেতার’ আওতায় একাধিক স্লিপার সেল থাকতে পারে। অন্যদিকে ‘উলফ প্যাকের’ সদস্যদের কোনো ‘নেতা’ বা ‘বড় ভাই’ নেই। এর সদস্যরা নিজেরাই সিদ্ধান্ত নেয়। তারাই গ্রুপের ‘নেতা’, আবার তারাই গ্রুপের সক্রিয় সদস্য।

২০১৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে মিরপুরে ব্লগার রাজীবকে হত্যার সঙ্গে ‘উলফ প্যাকের’ সদস্যরা জড়িত ছিল। এ হত্যায় জড়িত জঙ্গিদের কোনো সাংগঠনিক কাঠামো ছিল না। তবে হত্যার পর জড়িতরা সাংগঠনিক কাঠামো তৈরি করে। অন্যদিকে ২০১৬ সালের জুলাইয়ে গুলশানে হলি আর্টিজানে হামলা, শোলাকিয়ায় ঈদ জামাতে হামলার চেষ্টাসহ একাধিক ব্লগার ও লেখক হত্যায় জঙ্গিদের স্লিপার সেলের সদস্যরা জড়িত।

সিসিটিসির উচ্চপদস্থ এক কর্মকর্তা জানান, উলফ প্যাকের পাঁচ সদস্যকে গ্রেফতার করা হলেও এই জঙ্গি দলের আরো ৩-৪ জন এখনও পালিয়ে আছে। তাদের আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে।বসুন্ধরা এলাকায় একটি মসজিদে প্রায় নিয়মিত সাংগঠনিক শলাপরামর্শ করত এ গ্রুপের সদস্যরা। বসুন্ধরা এলাকার ‘ডি’ ব্লকে তাদের একটি আস্তানা ছিল।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সম্প্রতি গুলিস্তান, পল্টন ও খামারবাড়ি ট্রাফিক বক্সের পাশে ইমপ্রোভাইজড ইলেকট্রনিক্স ডিভাইস (আইইডি) পাওয়া যায়। তবে ওই আইইডির সঙ্গে জড়িত থাকার কথা অস্বীকার করেছে গ্রেফতারকৃত জেএমবি উলফ প্যাকের জঙ্গী সদস্যরা।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।