রবি. অক্টো. ২০th, ২০১৯

খবরে সংস্কৃতিতে

রমনা কালী মন্দিরের সামনে ৭ টাকায় পূজার পোশাক

রমনা কালিমন্দিরের সামনে ৭ টাকার পূজার বাজারে জামা দেখছে শিশুরা

নতুন জামা, ফতুয়া, টি–শার্ট, ফ্রক, শাড়িসহ অনেক পোশাক মাত্র ৭ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে। ’বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশন’ নামের একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন এর উদ্যোগে এই আয়োজন । বাংলা একাডেমির উল্টো দিকে প্রবেশ করে রমনা কালীমন্দিরের দিকে এগিয়ে গেলেই এই দোকান। মণ্ডপের সামনে পূজা উপলক্ষে খাবার ও রকমারি সামগ্রীর স্টল। সেখানেই ৭ টাকা মূল্যের পোশাকেরএই দোকান। দোকানটি সাজানো হয়েছে শিশু ও নারীদের হরেক রকমের পোশাকে। পূজায় সুবিধাবঞ্চিত শিশু এবং নিম্ন আয়ের পরিবারের সদস্যদের নতুন পোশাকের ব্যবস্থা করতে নামমাত্র মূল্যের এই দোকান অনেকের দৃষ্টি কেড়েছে।

বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশনের মূল উদ্যোক্তা কিশোর কুমার। তিনি এখন প্রবাসী। সমাজের বিভিন্ন মানুষের দান করা অর্থেই বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশনের কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। কর্মীরা সবাই স্বেচ্ছাসেবী।

বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশনের কার্যালয় মিরপুরে। সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের খাবারের ব্যবস্থা করতে ‘এক টাকায় আহার’ নামের কর্মসূচির মধ্য দিয়ে ২০১৬ সালে এর কার্যক্রম শুরু। তাঁরা জানালেন, গ্রহীতাদের ভেতর ‘ভিক্ষা’ ও বণ্টনকারীদের মধ্যে ‘দান’ শব্দটি মুছে ফেলতে চান তাঁরা। গ্রহীতারা যেন ভাবতে পারেন, কিছু দাম দিয়েই খাবার বা পোশাকটি তাঁরা কিনেছেন। সংগঠনের ‘এক টাকায় আহার’ কার্যক্রম বেশ জনপ্রিয়তা পেয়েছে। এ ছাড়া সম্প্রতি সংগঠনটি ‘এক টাকার চিকিৎসা’ ও ‘পাঁচ টাকায় স্যানিটারি প্যাড’ বিতরণের কার্যক্রমও শুরু করেছে।

শনিবার দুপুরে শার্ট কিনতে এসেছিল গুলিস্তান–সদরঘাট রুটের টমটম গাড়ির চালকের সহকারী ৯ বছর বয়সী শুভ। দোকানে সাজিয়ে রাখা পোশাকগুলোর মধ্যে একটি টি-শার্ট বাছাই করে সেটি গায়ে দিয়ে মাপে ঠিক হওয়ার কিনে নেয় শুভ। এই টি–শার্ট অন্য কোথাও কিনতে গেলে অন্তত ৩০০ টাকা দাম দিতে হতো। তাই সাত টাকা দিয়ে নতুন টি–শার্ট কিনতে পেরে শুভ ভীষণ খুশি ।

দোকানে শিশুদের পোশাক দেখানো এবং বিক্রির দায়িত্বে বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশনের স্বেচ্ছাসেবী সুলতানা জান্নাত। সুলতানা বলেন, যাদের বাজার থেকে বেশি দামে পোশাক কেনার সামর্থ্য নেই, তারা শুভেচ্ছামূল্য হিসেবে সাত টাকা দিয়ে পছন্দমতো একটি পোশাক কিনতে পারছে। সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের মনে যাতে কোনো হীনম্মন্যতা বোধ না হয়, সে জন্য তাদের কাছ থেকে এই টাকা নেওয়া হয়। টাকা দিয়ে কেনাকাটার মধ্য দিয়ে তারাও এই কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করে।

আয়োজকেরা জানালেন, মূলত শিশুদের জন্য এই আয়োজন। তবে প্রবীণ ও নারীদের পোশাক ও রয়েছে। এক বছরের কম বয়সী থেকে শুরু করে ১২ বছর পর্যন্ত শিশুদের পোশাক বিক্রি হচ্ছে এই নামমাত্র মূল্যের দোকানে। এখানে শার্ট, পাঞ্জাবি, ফতুয়া, টি–শার্ট ও মেয়েদের ফ্রক, জামা বিক্রি হচ্ছে মাত্র ৭ টাকার বিনিময়ে। তবে একজন কেবল একটি পোশাক কিনতে পারবে। এ ছাড়া প্রবীণ নারীরাও এই সুবিধা পাবেন। সাত টাকায় তাঁরা একটি শাড়ি বা পাঞ্জাবি কিনতে পারছেন। গত ২৮ সেপ্টেম্বর থেকে ‘৭ টাকায় পুজোর বাজার’ নামের এই দোকান চালু করেছে বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশন। আগামী মঙ্গলবার বিজয়া দশমীর দিন পর্যন্ত কালীমন্দিরের সামনে এই দোকান চলবে। পূজার জন্য এই নতুন পোশাকের আয়োজন। তবে সব ধর্মের সুবিধাবঞ্চিত শিশুরাই এখান থেকে পোশাক কিনতে পারছে।

রমনা কালীমন্দিরে পূজা দেখতে আসা অনেকেই এই দোকানে আসছেন। উপস্থিত সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের সাত টাকায় পোশাক কিনে দিচ্ছিলেন অনেকে। আবার অনেকে একটি করে পোশাকের আর্থিক মূল্য দিয়ে এই কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করেন। একজন চাকরিজীবী অনুপ কুমার ঘোষ একটি পোশাকের সমমূল্যের টাকা দিয়ে এই কার্যক্রমে অংশ নেন। অনুপ কুমার ঘোষ বলেন, ‘বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশনের কার্যক্রমের বিষয়ে শুনেছি। তাদের কাজ ভালো লাগে। সাত টাকায় পোশাক দেওয়ার এই কার্যক্রমও ভালো লেগেছে। টাকা দিয়ে তাদের এ কাজে অংশ নিয়েছি।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।