অবমূল্যায়ন ও মৌলবাদী রক্তচক্ষুর জবাব – টি টোয়েন্টি এশিয়া কাপ ছিনিয়ে আনলো বাঘিনীরা

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

পৃষ্ঠপোষকতার অভাব, নামমাত্র পারিশ্রমিকসহ আরও অনেক সমস্যায় জর্জরিত থেকেছেন জাহানারা-সালমারাসহ বাংলাদেশের নারী ক্রিকেটাররা । জাতীয় লিগে এক ম্যাচে তাদের জন্যে ম্যাচ ফি বরাদ্দ ছিল মাত্র ৬০০ টাকা। ‘মেয়েদের ম্যাচ ফি ছেলেদের তুলনায় এত কম কেন?’ সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সভাপতি নাজমুল হাসান বেশ বিরক্ত হয়ে বলেছিলেন , ‘আপনি কার সঙ্গে তুলনা করছেন সেটা বললে বুঝতে পারবো। বিরাট কোহলি যে পারিশ্রমিক পায় ভারতের নারী দলের অধিনায়ক তা পায় না। দেখুন গিয়ে, আমি লিখে দিতে পারি।’

২০১৭ সালের কথা, নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বাংলাদেশ জাতীয় দলের এক খেলোয়াড়ের অভিযোগ, জাতীয় লিগে ম্যাচ ফি তো বাড়েইনি, কমিয়ে দেওয়া হয়েছে প্রতিদিনের ভাতাও (ডিএ), ‘জাতীয় লিগে আগে আমরা ম্যাচ ফি পেয়েছি ৫০০ টাকা, সেটি ছিল টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে। এবার ৫০ ওভারের ম্যাচ হওয়ায় একটু বেড়েছে, ৬০০ টাকা। তবে ১ হাজার টাকা বাড়ানোর কথা বললেও সেটি হয়নি। আগের মৌসুমে ডিএ পেয়েছি ৮০০ টাকা। এবার এটাও ১ হাজার করার কথা বলা হয়েছিল। পরে সেটি ১০০ কমিয়ে ৭০০ টাকা করে দেওয়া হয়েছে!’

নারী দলের আরেক খেলোয়াড় জানিয়েছিলেন , জাতীয় লিগে চ্যাম্পিয়ন দলের প্রাইজমানিও কমানো হয়েছে এবার। আগে যেটি ছিল ১ লাখ টাকা। এবার সেটি করা হয় ৫০ হাজার টাকা। প্রতিশ্রুতি দিয়েও কেন ম্যাচ ফি বাড়ানো হয়নি, এ প্রশ্নে বিসিবির মহিলা ক্রিকেটের চেয়ারম্যান আবদুল আওয়াল চৌধুরী বলেছিলেন , ‘আন্তর্জাতিক সিরিজ বা টুর্নামেন্টে দেওয়া হলেও ঘরোয়া ক্রিকেটে ওইভাবে মেয়েদের ম্যাচ ফি দেওয়া হয় না। আমরা মাত্রই ধারাটা শুরু করেছি। মেয়েদের ক্রিকেটে ধীরে ধীরে উন্নতি হচ্ছে। একবার শুরু হলে পরে আরও বাড়ানো যাবে। অ্যাকাউন্টসকে বলেছি, যেন ১ হাজার করে দেয়। আমি চাই ওরা পয়সাটা পাক।’

ধর্মব্যবসায়ী গোষ্ঠী মতে, ”নারীদের ক্রিকেট নামে আজকাল এক ধরণের ক্রিকেট বের হয়েছে যা ইসলামের মারাত্মক লঙ্ঘন। ইসলাম কোনো সময় এভাবে বেপর্দা হয়ে নারীদের বেলাল্লাপানা খেলাধুলাকে সমর্থন করে না”।

এই সমস্ত পরিস্থিতির মধ্যে বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসে প্রথম টুর্নামেন্ট ট্রফি এনে দিল বাংলাদেশে মেয়েরাই ।

সাকিবরা এর আগে দুবার এশিয়া কাপের ফাইনালে উঠেও শিরোপা জিততে পারেননি। নারী আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অঙ্গনে বাংলাদেশের প্রথম ফাইনাল। শেষ বলে ২ রান, নাটকীয় ম্যাচে ৬ বারের চ্যাম্পিয়ন ভারতকে হারিয়ে শেষ বলেই জিতল বাংলাদেশের মহিলা ক্রিকেট দল ।

টস জিতে বল বেছে নিয়ে ভারতে ২০ ওভারে ৯ উইকেটে ১১২ রানে বেধে ফেলে বাংলাদেশ। দুটি করে উইকেট নেন খাদিজা ও রুমানা। ভারতের হয়ে সর্বোচ্চ ৫৬ রান করেন অধিনায়ক হারমানপ্রিত কাউর। জবাবে লক্ষ্যে পৌছাতে পুরো ২০ ওভার খেলা লেগেছে বাংলাদেশের, ১১৩ রানের লক্ষ্যে ব্যাটিংয়ে নেমে মাঝে বেশ চাপে পড়েছিল বাংলাদেশ।

কিন্তু চতুর্থ উইকেটে ২৮ রানের জুটিতে দলকে জয়ের পথে ফেরান রুমানা আহমেদ-নিগার সুলতানা। পুনম-ঝুলন গোস্বামীদের নিয়ন্ত্রিত লাইন-লেংথের জবাবে রয়ে সয়ে খেলেছেন এই দুই ব্যাটার । ১৫তম ওভারে ভারতের পেসার ঝুলনের শেষ তিন বলেই চার মেরে লক্ষ্যটাকে নিয়ন্ত্রণের মধ্যে নিয়ে আসেন নিগার। জয়ের জন্য শেষ ৫ ওভারে ৩১ রান দরকার ছিল বাংলাদেশের। হাতে ছিল ৭ উইকেট। সর্বোচ্চ ২৭ রান আসে নিগার সুলতানার ব্যাট থেকে।  ২ উইকেট ও ২৩ রান করে রুমানা আহমেদ হন ম্যাচ সেরা।

Leave a Reply

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

thirteen + thirteen =