অসুস্থ মুক্তিযোদ্ধা তারামন বিবি আবার হাসপাতালে

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

মুক্তিযোদ্ধা তারামন বিবি বীরপ্রতীককে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় গতকাল সোমবার ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

তিনি শ্বাসকষ্টজনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন।

হাসপাতাল সূত্র জানায়, তারামন বিবির শারীরিক অবস্থা উন্নতির দিকে। সোমবার দুপুরে শ্বাসকষ্টজনিত কারণে তাঁকে কুড়িগ্রামের নিজ বাড়ি থেকে ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের করোনারি কেয়ার ইউনিটে (সিসিইউ) ভর্তি করা হয়।

গত জানুয়ারি মাসে তিনি রংপুর সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। কিছুটা সুস্থ হয়ে তিনি গত ৩১ জানুয়ারি রংপুর সিএমএইচ থেকে নিজ বাড়ি কুড়িগ্রাম জেলার রাজিবপুরে যান। কিন্তু দু সপ্তাহ পর আবার তাঁর অবস্থার অবনতি হলে সোমবার দুপুরে তাঁকে ময়মনসিংহ মেডিক্যালে আনা হয়।

সূত্র জানায়, তিনি এখন এমএমসিএইচ-এর সিসিইউ বিভাগের ডা. এস. কে. অপু ও ডা. আশীষ কুমার রায়ের তত্ত্বাবধানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

ডা. এস. কে. অপু জানান, তারামন বিবিকে অক্সিজেন দিয়ে রাখা হয়েছে। তবে তাঁর অবস্থা আগের চেয়ে উন্নতির দিকে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষই তাঁর চিকিৎসার খরচ বহন করছে। তিনি ফুসফুসের জটিল রোগে ভুগছেন ।

মুক্তিযুদ্ধের পর ১৯৭৩ সালে তৎকালীন সরকার মুক্তিযুদ্ধে তারামন বিবিকে তাঁর সাহসিকতা ও বীরত্বপূর্ণ অবদানের জন্য ‘বীর প্রতীক’ উপাধিতে ভূষিত করে। কিন্তু ১৯৯৫ সাল পর্যন্ত তাঁকে খুঁজে বের করা সম্ভব হয়নি। ১৯৯৫ সালে মযমনসিংহের একজন গবেষক প্রফেসর বিমল কান্তি প্রথম তাকে খুঁজে বের করেন এবং নারী সংগঠনগুলো তাঁকে ঢাকায় নিয়ে আসে। তখন থেকে তাঁকে নিয়ে পত্রিকায় ব্যাপক লেখালেখি হয়। অবশেষে ১৯৯৫ সালের ১৯ ডিসেম্বর সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে তারামন বিবির বীরত্বের পুরস্কার তাঁর হাতে তুলে দেন।

তারামন বিবি কুড়িগ্রামের রাজীবপুরে তার স্বামী ও দুই সন্তান নিয়ে বসবাস করছিলেন।

তারামন বিবি ১১ নম্বর সেক্টরে নিজ গ্রাম কুড়িগ্রাম জেলার শংকর মাধবপুরে ছিলেন। তখন এ সেক্টরের নেতৃত্বে ছিলেন সেক্টর কমান্ডার আবু তাহের। তিনি ‘বীর উত্তম’ খেতাবপ্রাপ্ত।

মুহিব হাবিলদার নামে এক মুক্তিযোদ্ধা তারামন বিবিকে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেয়ার জন্য উৎসাহিত করেন। তিনি তারামনের গ্রামের পাশের একটি ক্যাম্পের দায়িত্বে ছিলেন। তিনি তারামনকে ক্যাম্পে রান্নাবান্নার জন্য নিয়ে আসেন। তখন তারামনের বয়স ছিলো মাত্র ১৩ কিংবা ১৪ বছর। কিন্তু পরবর্তীতে তারামনের সাহস ও শক্তির পরিচয় পেয়ে মুহিব হাবিলদার তাঁকে অস্ত্রচালনা শেখান। এর পর তারামন তাঁর সহযোদ্ধাদের সঙ্গে যুদ্ধে অংশ নেন এবং শত্রুদের পরাস্ত করতে সক্ষম হন।

Leave a Reply

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

13 − one =