অস্ত্রের মুখে দুই শিক্ষার্থীকে ধর্ষণকারী একজন আপন জুয়েলার্সের মালিকের পুত্র সাফাত

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

জন্মদিনের পার্টির নামে হোটেল কক্ষে ধর্ষণের শিকার বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই শিক্ষার্থী  জানিয়েছে ,গত ২৮ মার্চ রাতে তারা  বন্ধু সাদমান সাকিফের অনুরোধে বনানীর ‘দি রেইনট্রি’ হোটেলে একটি জন্মদিনের অনুষ্ঠানে যান। অস্ত্রের মুখে হোটেলের একটি কক্ষে  তাদের আটক করে রাতভর ধর্ষণ করা হয়। ধর্ষণকারী সাফাত আহমেদ আপন জুয়েলার্সের মালিক দিলদার আহমেদের ছেলে। মামলা না করার  জন্যে অনেক হুমকির পরও গত বৃহস্পতিবার তারা বনানী থানায় অভিযোগ নিয়ে যান। কিন্তু পুলিশ ‘ যাচাই’ য়ের নামে মামলা নেয়নি। শিক্ষার্থীরা মূল দুই ধর্ষনকারীসহ অভিযুক্তদের নাম পুলিশকে বলেছিলেন। তখন তাদের  আটক করা হয়নি।  শনিবার পুলিশ মামলা রেকর্ড করলেও ততক্ষণে আসামি সাফাত আহমেদ, নাঈম আশরাফ, সাদমান সাকিফ, সাফাতের গাড়িচালক বিল্লাল এবং দেহরক্ষী আত্মগোপনে চলে যায়। পুলিশের দাবি  তাদের খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।

এজাহারে ছাত্রীরা অভিযোগ করেছেন, আসামিরা জন্মদিনের অনুষ্ঠানে থাকা তাদের তিন বান্ধবী ও এক বন্ধুকে মারধর করে অস্ত্রের মুখে আটকে রাখে। গাড়ির চাবি রেখে দেয়। এক পর্যায়ে তাদের মধ্যে দু’জনকে হোটেলের একটি কক্ষে নিয়ে জোর করে মদপান করায়। এরপর তাদের দু’জনকে আসামি সাফাত ও নাঈম একাধিকবার ধর্ষণ করে। সাফাতের গাড়িচালক বিল্লাল ধর্ষণের দৃশ্য ধারণ করে। ঘটনার প্রতিবাদ করলে আসামি সাফাতের দেহরক্ষীও  তাদের মারধর করে এবং ঘটনার পর তাদের অনুসরণ করে। অপর আসামি সাদমানের মাধ্যমেই ঘটনার ১০ /১৫ দিন আগে মূল দুই আসামির সঙ্গে তাদের পরিচয় হয়।

ঘটনার শিকার এক শিক্ষার্থী রোববার  সাংবাদিকদের বলেন, তারা বৃহস্পতিবার মামলা করতে গিয়েছিলেন। পুলিশকে লিখিত অভিযোগও দেন। পুলিশ গ্রাহ্য করেনি। তারা বলেন, আসামিদের নাম জানিয়েছি এবং তাদের আটকের অনুরোধও করেছি। পুলিশ কিছুই করেনি। দু’দিন ঘুরিয়ে লিখিত অভিযোগই মামলা আকারে নিয়েছে। ওই ছাত্রী বলেন, শুরুর দিকে পুলিশের আচরণ দেখে এখন মনে হচ্ছে আসামিরা প্রভাবশালী হওয়ায় তাদের পালিয়ে যাওয়ার সুযোগ করে দেয়া হয়েছে।

মূল অভিযুক্ত সাফাত, নাঈম ও তাদের বন্ধু সাদমান ধনাঢ্য এবং প্রভাবশালী পরিবারের সন্তান হবার কারণে পুলিশ তাৎক্ষণিক তাদের আটক করেনি। ৪৮ ঘণ্টা নানা নাটক করে পরে শনিবার রাতে মামলা নেয় পুলিশ।এর মধ্যেই অভিযুক্তরা পালিয়ে যেতে সক্ষম হয় ।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফরেসনিক বিভাগে  রোববার দুপুরে দুই ছাত্রীর শারীরিক পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে।তাদের এখন তেজগাঁওয়ের ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারে রাখা হয়েছে। ৫ সদস্যের একটি চিকিৎসক বোর্ড তাদের শারীরিক পরীক্ষা সম্পন্ন করেন। পরে তাদের তেজগাঁওয়ে ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারে নিয়ে যাওয়া হয়। ঢাকা মেডিকেল কলেজের ফরেনসিক বিভাগের বিভাগীয় প্রধান সোহেল মাহমুদকে  চিকিৎসা বোর্ডের প্রধান করা হয়েছে। তাঁর সঙ্গে  নিলুফার ইয়াসমিন, কবির সোহেল, মমতাজ আরা, কবিতা সাহা নামে আরও চার চিকিৎসক ছিলেন।

তবে বনানী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আবদুল মতিন সমকালকে বলেন, ঘটনাটি জানার পর থেকেই পুলিশ গুরুত্ব দিয়ে দেখছে। মামলা হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আসামিদের গ্রেফতারে তাদের বাসায় অভিযান চালানো হয়েছে। সম্ভাব্য স্থানে অভিযানও চলছে। পুলিশের এ কর্মকর্তা আসামিদের পালিয়ে যাওয়ার সুযোগকে ভিত্তিহীন উল্লেখ করে বলেন, অবশ্যই আসামিদের গ্রেফতার করা হবে।
পুলিশ আসামিদের নাম-পরিচয় প্রকাশ করতে না চাইলেও মামলার এজাহারে দেখা যায়, মূল আসামি সাফাতের বাবার নাম দিলদার আহমেদ। তার ঠিকানা দেওয়া হয়েছে- গুলশান-২ এর ৬২ নম্বর রোডে, নাঈম আশরাফের বাসা মিরপুরে। তবে এজাহারে তার বাবার নাম নেই। এজাহারে সাদমান সাকিফের বাবার নাম না থাকলেও বলা হয়েছে, আসামির বাবা পিকাসো রেস্টুরেন্টের মালিক। এজাহারে বলা হয়, নাঈম আশরাফ তার দেহরক্ষী পাঠিয়ে ধর্ষণের শিকার এক তরুণীর বাসায় খোঁজ নেয়। এতে ভয় পান তিনি। এরপর লোকলজ্জা ও মানসিক অসুস্থতা কাটিয়ে মামলা দায়ের করেন তিনি।

ডা. সোহেল মাহমুদ জানান, দুই ভিকটিমের ডিএনএ প্রোফাইলিংসহ বিভিন্ন আলামত পরীক্ষার জন্য রাখা হয়েছে। পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে প্রতিবেদন পেতে ১৫ থেকে ২০ দিন সময় লাগতে পারে। প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর ধর্ষণের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যাবে। তবে ঘটনাটি বেশ কিছুদিন আগের হওয়ায় ধর্ষণের আলামত পাওয়া কঠিন হবে। পুলিশের এক কর্মকর্তা বলেন, এতদিন পর পরীক্ষা করে ধর্ষণের আলামত পাওয়া না গেলেও তদন্তের অন্যান্য সূত্র প্রয়োগ করে ঘটনার সত্যতা মেলানো সম্ভব।

Leave a Reply

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

fourteen − seven =