আওয়ামী লীগের জাতীয় সম্মেলন আনন্দমুখর মন ভোলানো ঐতিহাসিক আয়োজন

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

রাজসিক ঐতিহাসিক আয়োজন। সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আওয়ামী লীগের জাতীয় সম্মেলনে বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে প্রাচীন এবং বৃহত্তম দলটির  ইতিহাস ও অর্জনের চিত্র ফুটিয়ে তোলা হয়েছে ।মঞ্চে বসে ছিলেন প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনাসহ দলের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদ নেতারা। সামনের বিশাল প্যান্ডেলে ছিলেন সম্মানিত বিদেশি নেতৃবৃন্দ, মন্ত্রিসভার সদস্য, বিশিষ্টজন ও কাউন্সিলররা।
দিনভর সম্মেলন মঞ্চের পেছনে ৩৫ ফুট উচ্চতার এলইডি পর্দায় পাওয়ার পয়েন্টের মাধ্যমে আওয়ামী লীগের ইতিহাস ও অর্জনের                        পাশাপাশি সরকারের উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড তুলে ধরা হয়েছে। ১৫ আগস্টে শহীদ ও বঙ্গবন্ধু পরিবারের সদস্যদের ছবিও এলইডি পর্দায় ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।সম্মেলনে তথ্যপ্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার ছিল। মঞ্চ ও আশপাশের ২৮টি এলইডি পর্দায় পুরো সম্মেলনের দৃশ্যপট। সোহরাওয়ার্দী উদ্যান ওয়াই-ফাই করা হয়েছে।

আওয়ামী লীগের জাতীয় সম্মেলনের   এমন মনভোলানো  আনন্দমুখর আয়োজন-  উপস্থিত অতিথিদের  স্মৃতিতে স্মরণীয় হয়ে থাকবে ।দেড়শ’ ফুট লম্বা এবং ৪৮ ফুট চওড়া তিন স্তরবিশিষ্ট মঞ্চের সামনের দিকের উচ্চতা ছিল আট ফুট। মাঝখানের নয় ফুট এবং পেছনের দিকে ১০ ফুট।
মঞ্চের ডান দিকে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের দুই পাশে  বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব, জাতীয় চার নেতা সৈয়দ নজরুল ইসলাম, তাজউদ্দীন আহমদ, ক্যাপ্টেন এম মনসুর আলী, এইচএম কামরুজ্জামান, শেখ রাসেল এবং বাঁ দিকে প্রধানমন্ত্রীর দু’পাশে হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী, মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী, শামসুল হক, মাওলানা আবদুর রশীদ তর্কবাগীশ, শেখ কামাল ও শেখ জামালের প্রতিকৃতি। মঞ্চের মাঝখানে এলইডি পর্দায় ফুটে উঠেছে বঙ্গবন্ধু, জাতীয় চার নেতা, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তাঁর  পুত্র এবং তথ্যপ্রযুক্তি উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়ের প্রতিকৃতি।
সম্মেলন উপলক্ষে গোটা রাজধানী দৃষ্টিনন্দন ও বর্ণিল সাজসজ্জায় সেজেছে। ঢাকার প্রবেশমুখ, বিভিন্ন সড়ক, সড়কদ্বীপ, ফোয়ারা ও গুরুত্বপূর্ণ স্থানে দৃষ্টিনন্দন তোরণ, ব্যানার-ফেস্টুন দিয়ে সুসজ্জিত করা হয়।সোহরাওয়ার্দী উদ্যানকেও নতুন সাজে সাজিয়ে তোলা হয়।

বিশাল নৌকাকৃতির মঞ্চ ঘিরে ছিল চমৎকার লেজার শো। সম্মেলনস্থলে দুটি বুক স্টল খুলেছিল জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেমোরিয়াল ট্রাস্ট ও সেন্টার অব রিসার্চ ইনস্টিটিউট (সিআরআই)। অতিথিদের জন্য দুটি স্টলে চায়ের ব্যবস্থা ছিল।
কেবল মঞ্চই নয়, গোটা সোহরাওয়ার্দী উদ্যান ও আশপাশের এলাকায়ও রঙবেরঙের নানা আয়োজন দেখা গেছে। ব্যানার-ফেস্টুন, পোস্টার এবং বড় বড় বিলবোর্ডে শোভা পেয়েছে বঙ্গবন্ধু, জাতীয় চার নেতা, আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক, অন্যান্য নেতা, প্রধানমন্ত্রী, সজীব ওয়াজেদ জয় এবং বঙ্গবন্ধু পরিবারের সদস্যদের ছবি।
এমন মনোমুগ্ধকর পরিবেশে শনিবার সকালে সম্মেলনের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। উদ্বোধনী অধিবেশনের ফাঁকে এবং সন্ধ্যায় দেশ-বিদেশের বিশিষ্ট শিল্পীদের অংশগ্রহণে বর্ণাঢ্য সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান সম্মেলনে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। সন্ধ্যা থেকে বর্ণাঢ্য আলোকসজ্জায় মুগ্ধতা ছড়িয়েছিল রাজধানীজুড়ে।
সকাল ১০টায় সম্মেলন উদ্বোধনের নির্ধারিত সময়ের অনেক আগ থেকেই দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে কাউন্সিলর, ডেলিগেট, আমন্ত্রিত অতিথিসহ দল ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা সম্মেলনস্থলে আসতে শুরু করেন। নির্ধারিত সময়ের আগেই সম্মেলনস্থল জনারণ্যে রূপ নেয়। গোটা সম্মেলনস্থলে ছিল জাঁকজমকপূর্ণ, উৎসবমুখর ও আনন্দঘন পরিবেশ। নেতাকর্মীরা সার্বক্ষণিক বিভিন্ন রকম স্লোগানে মুখরিত ছিলেন।
সম্মেলন ঘিরে সম্মেলনস্থলসহ আশপাশের এলাকায় কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার ছিল। কঠোর তল্লাশির পর সবাই সম্মেলনস্থলে প্রবেশ করেন। প্রবেশমুখগুলোতে কমপক্ষে দুই হাজার স্বেচ্ছাসেবকের পাশাপাশি এসএসএফ, পিজিআর, র‌্যাব, পুলিশসহ রাষ্ট্রের নিরাপত্তা এবং গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা নিরাপত্তাসহ শৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্ব পালন করেন। তাদের সঙ্গে ছিল বেশ কয়েকটি মেডিকেল টিম ও অ্যাম্বুলেন্স। সার্বিক নিরাপত্তার জন্য সিসিটিভি ক্যামেরা বসানো হয়েছে।

Leave a Reply

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

20 + 12 =