আওয়ামী লীগের সাংসদ তুহিনের উপর আসলামের সমর্থকদের গুলি:মিরপুরে হরতালবিরোধী কর্মসূচিতে গুলিতে ১৬ কর্মী আহত

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

রাজধানীর  আওয়ামী লীগের সাংসদ তুহিনের সমর্থকদের উপর হামলা করেছে আরেক সাংসদ আসলামের অনুসারীরা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশের গুলিতে তাদের ১৬ কর্মী গুলিবিদ্ধ হয়েছে বলে জানায় প্রত্যক্ষদর্শীরা।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, ঘটনায় গুলিবিদ্ধ ১৬ জনকে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। তারা বিভিন্ন জায়গায় গুলিবিদ্ধ হয়েছে। তবে এর মধ্যে  তুহিনের মিছিলে গুলি করতে গিয়ে পুলিশের গুলিতে আসলামের অনুসারী ছাত্রলীগ সভাপতি  জাকিরের মাথায় গুলি লেগেছে। তার অবস্থা আশঙ্কাজনক। তাকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। বাকিদের প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ছেড়ে দেয়া হয়েছে।

জামায়াত-শিবিরের হরতালবিরোধী কর্মসূচি পালনের সময়  ৮ মে রবিবার দুপুর ১২টার দিকে আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য আসলামুল হক ও সাবিনা আক্তার তুহিনের সমর্থকদের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া হয়। এর পরেই আসলামের সমর্থক জাকিরের নেতৃত্বে গোলাগুলি শুরু হয় বলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক পুলিশ কর্মকর্তা সূর্যবার্তাকে জানান।

ঘটনায় আহত হন যুবলীগ নেতা মো. শামীম হোসেন (৩৩), মনোয়ার হোসেন (৩০), মনির হোসেনের (৪০), জাকির হোসেন (২৮), আল-আমীন (২৭), হাবিব (২৫), কোরবান (২৫), আবুল কালাম (৩৪), রাফি (২০), সুজন (২০), শুভ (২০), সবুর আলী (২৪) ও মো. ইব্রাহীম (২৭)।
জানা গেছে, রাজনৈতিক আধিপত্য বিস্তার নিয়ে মিরপুরে স্থানীয় সংসদ সদস্য আসলামুল হক ও সংরক্ষিত মহিলা আসনের এমপি সাবিনা আক্তার তুহিনের মধ্যে দীর্ঘদিনের বিরোধ।  তা প্রকাশ্যে রূপ নেয় রবিবার দুপুরে ।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে এমপি সাবিনা আক্তার তুহিনের নেতৃত্বে সমর্থকেরা মিরপুর-১ নম্বর এলাকায় মুক্তিযোদ্ধা শপিং কমপ্লেক্সের সামনে অবস্থান করছিলেন। তারা জামায়াত-শিবিরের হরতালবিরোধী মিছিলের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। এ সময় জাকিরের  নেতৃত্বে আরেকটি হরতালবিরোধী মিছিল সামনা সামনি হলে সংঘর্ষ বাধে, ধাওয়া-পাল্টা-ধাওয়া ও গুলি বিনিময় হয়।

পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বাইরে চলে যায়। দফায় দফায় গোলাগুলিতে পুরো এলাকায় রণক্ষেত্রে পরিণত হয়।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে  ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। সূত্র আরও জানায়, পুলিশের সামনে অবৈধ অস্ত্র নিয়ে গোলাগুলি চলাকালে পুলিশও অসহায় অবস্থার মধ্যে পড়ে যায়। অস্ত্র নিয়ে প্রকাশ্যে মহড়া ও গুলি চলে।  ঘটনায় গুলিতে ১৬ জন আহত হলেও নানাভাবে আরও অনেকে আহত হয়। গুলিবিদ্ধদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠনো হলেও অন্যান্য আহতদের স্থানীয় বিভিন্ন ক্লিনিক হাসাপাতালে পাঠানো হয়।
আওয়ামী লীগের একটি সূত্র জানায়,  ওই এলাকায় আমওয়ামী লীগ ও যুবলীগসহ বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের মধ্যেও আসলাম গ্রুপ ও তুহিন গ্রুপে বিভক্ত হয়। একপক্ষ দলীয় কোন কর্মসূচি দিলে পাল্টা কর্মসূচি দেয় অপরপক্ষ। দীর্ঘদিন ধরে এ বিরোধ চলে আসলেও সম্প্রতি বিরোধ প্রকাশ্যে রূপ নেয় যুবলীগ ও আওয়ামী লীগের কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে।

এ বিরোধের জের ধরে গতকাল মিরপুর মুক্তিযোদ্ধা মার্কেট এলাকায় হরতালবিরোধী মিছিল করতে করতে জড়ো হলে মিছিলকারী যুবলীগের সাথে আওয়ামী লীগের বিপক্ষ গ্রুপের সংঘর্ষ শুরু হয়। সূত্র আরও জানায় স্থানীয় আসন নিয়ে এমপি আসলামুল হকের সঙ্গে সাবিনা আক্তারের দ্বন্দ্ব রয়েছে। দুজনই ওই আসন থেকে মনোনয়ন পেতে কয়েক বছর আগ থেকে  লেগে আছে।
পুলিশের মিরপুরে বিভাগের উপ-কমিশনার (ডিসি) মাসুদ আহমেদ টেলিফোনে সংবাদ জানান, মূলত কমিটি গঠনসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আওয়ামী লীগের দুটি গ্রুপের মধ্যে বিরোধ রয়েছে।Mirpur Conflict

ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে বেশ কয়েক রাউন্ড  গুলি ছোড়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছিলো পুলিশ। কিন্তু হঠাৎ করেই গোলাগুলির ঘটনায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়।

এ ঘটনায় শাহআলী থানার পরিদর্শক (অপারেশনস) ফিরোজসহ পুলিশ ও আনসারের ৩ সদস্য আহত হয়। ঘটনায় উভয়পক্ষের ১৬ জন গুলিবিদ্ধ হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। ডিসি মাসুদ আরও জানান, সংরক্ষিত আসনের মহিলা সংসদ সদস্য সাবিনা আক্তার তুহিনের পক্ষ থেকে থানায় দুটি লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে। অভিযোগ দুটি তদন্ত করে দায়ীদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ ও অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে পুলিশ সতর্ক অবস্থান নিয়েছে।

সংরক্ষিত আসনের মহিলা এমপি সাবিনা আক্তার তুহিন সাংবাদিকদের জানান, আসলামের সমর্থকরাই প্রথমে তাদের মিছিলে হামলা করেন। আসলামুল হকের সমর্থকদের হামলায় তাদেরও কয়েকজন কর্মী আহত হয়েছেন।
ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের (উত্তর) সাধারণ সম্পাদক সাদেক খান টেলিফোনে সংবাদকে জানান, আধিপত্য নিয়েই দুই এমপির গ্রুপের মধ্যে এ ঘটনা ঘটেছে। আমরা বিষয়টি শুনেছি। তবে এ বিষয়ে আরও খোঁজখবর নেয়া হচ্ছে।

এ বিষয়ে সংসদ সদস্য আসলামুল হক সাংবাদিকদের বলেন, সংরিক্ষত আসনের মহিলা এমপি সাবিনা আক্তার তুহিন আমার রাজনৈতিক সহকর্মী। তার সাথে আমার কোন রাজনৈতিক বিরোধ নেই। সেখানে ঘটনার সময় আমি উপস্থিত ছিলাম না। যারা উপস্থিত ছিলো কি হয়েছে তারাই বলতে পারবে। তবে আমি ঘটনা শুনার পর পরিস্থিতি শান্ত করতে পুলিশের সাথে কথা বলেছি।

Leave a Reply

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

7 − 6 =