আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) দেয়া সিদ্ধান্ত মায়ানমার প্রত্যাখ্যান করেছে

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

রোহিঙ্গা বিষয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) দেয়া সিদ্ধান্তকে ‘ত্রুটিপূর্ণ প্রক্রিয়া ও সন্দেহজনক আইনি ভিত্তির ফল’ হিসেবে উল্লেখ করে রায় প্রত্যাখ্যান করেছে মায়ানমার সরকার। গত বৃহস্পতিবার আইসিসির দেয়া রুলিংয়ের পরিপ্রেক্ষিতে গতকাল মায়ানমার প্রেসিডেন্টের কার্যালয় থেকে দেয়া বিবৃতিতে একথা জানানো হয়। বিবৃতিতে রোহিঙ্গাদের ওপর মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারের এখতিয়ার আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) নেই বলেও দাবি করেছে মায়ানমার সরকার। অন্যদিকে আইসিসির ওই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় আশিয়ান ভুক্ত দেশগুলোর পার্লামেন্ট সদস্যরা।

মায়ানমার সরকারের বিবৃতিতে বলা হয়, এখতিয়ারের প্রশ্নে কোন আইনি যুক্তির ওপর ভিত্তি করা হয়নি। উপরন্তু আদালতের ওপর আবেগ দিয়ে চাপ সৃষ্টি করা হয়েছে। আইসিসি’র পক্ষ থেকে রোহিঙ্গা নির্যাতনের বিষয়ে ‘বিচারের এখতিয়ার আছে’ এই মর্মে গত বৃহস্পতিবার আইসিসির দেয়া রুলিংয়ের পরিপ্রেক্ষিতে মায়ানমারের পক্ষ থেকে এই বিবৃতি আসল।

অন্যদিকে আসিয়ান পার্লামেন্ট ফর হিউম্যান রাইটস (এপিএইচআর) গত শুক্রবার এক বিবৃতিতে আইসিসির উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছে। এপিএইচআর সভাপতি ও মালয়েশিয়ার পার্লামেন্ট সদস্য চার্লস সান্তিয়াগো বিবৃতিতে বলেছেন, রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর ওপর নৃশংসতার অভিযোগের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার প্রক্রিয়া এগিয়ে নিতে এটি একটি অগ্রগতি ও মাইলফলক সিদ্ধান্ত।

বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গাদের মায়ানমার ফিরিয়ে না নিলে বা ফিরতে বাধা দিলে তা মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে গণ্য হতে পারে বলে অভিমত দিয়েছেন আন্তর্জাতিক ফৌজদারি আদালত (আইসিসি)। গত বৃহস্পতিবার রাতে নেদারল্যান্ডসের হেগে আইসিসির প্রি-ট্রায়াল চেম্বার-১-এর ঐতিহাসিক রায়ের পর্যবেক্ষণ অংশে এ অভিমত স্থান পেয়েছে। বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া লাখ লাখ রোহিঙ্গা মায়ানমারে বলপূর্বক বাস্তুচ্যুতির শিকার হওয়ার অভিযোগ সংক্রান্ত একটি আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আইসিসি রায়ে বলেছেন, বলপূর্বক বাস্তুচ্যুতি ও বিতাড়িত করে ঠেলে পাঠানোসহ অন্যান্য অভিযোগ তদন্ত করতে পারবেন আইসিসি। ওই রায়ে আইসিসির প্রসিকিউটরকে (কৌসুলি) যৌক্তিক সময়ের মধ্যে অভিযোগগুলোর প্রাথমিক তদন্ত শেষ করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এই বিষয়ে প্রাথমিক তদন্ত শুরু করতে হলে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে একটি আবেদন আইসিসিতে করতে হবে। কিন্তু সে ধরনের কোন অভিযোগ এখনও করা হয়নি।

গত মে মাসে আইসিসিতে বিচারিক এখতিয়ার সম্পর্কে ইতিবাচক অভিমত জানানোর সময়ই বলা হয়েছিল, বাংলাদেশ ওই আদালতকে যেকোনো ধরনের সহযোগিতা দিতে প্রস্তুত। আইসিসির কৌঁসুলিকেও তার তদন্ত কাজে বাংলাদেশ সর্বাত্মক সহযোগিতা করবে। গত বছর রোহিঙ্গা পল্লীতে সেনা অভিযানের পর থেকে এ পর্যন্ত সাত লাখ শরণার্থী সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। এই অভিযানকে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ‘জাতিগত নির্মূল’ প্রচেষ্টা বলে আখ্যা দেয়। এখন বাংলাদেশে রোহিঙ্গা শরণার্থীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে প্রায় ১১ লাখ।

Leave a Reply

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

20 − 13 =