আপন জুয়েলার্সের মালিককে তলব করেছে কাস্টমস গোয়েন্দা

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

আপন জুয়েলার্সের স্বত্ত্বাধিকারী দিলদার আহমেদকে বুধবার (১৭ মে) কাস্টমস গোয়েন্দা দফতরে তলব করা হয়েছে। এর আগে আপন জুয়েলার্সের মালিক দিলদার আহমেদ ও শাফাত আহমেদের ব্যাংক হিসাব চেয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকে চিঠি পাঠায় বাংলাদেশ ফিন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ)।

বনানীতে দুই ছাত্রী ধর্ষণে অভিযুক্ত সাফাত আহমেদ ও তার বাবা দিলদার আহমেদ সেলিমের বিরুদ্ধে কর ফাঁকির অভিযোগ উঠেছে। দিলদারের আপন জুয়েলার্স যে সকল মূল্যবান স্বর্ণালংকার ও ডায়মন্ড বিক্রি হয় সেগুলোর অধিকাংশই অবৈধ পথে দেশে নিয়ে আসছেন। শুল্ক ও কর ফাঁকি দিতেই এই অবৈধ পথ অবলম্বন করেছেন দিলদার।

বিষয়টি নিয়ে এনবিআর চেয়ারম্যান মো. নজিবুর রহমান বলেন, কর রাষ্ট্রীয় আমানত। এটা জনগণের সম্পদ। জনগণের সম্পদ না দিয়ে কেউ ফাঁকি দিলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কর ফাঁকিবাজ যত প্রভাবশালীই হোক না কেন কোন ছাড় দেওয়া হবে না। এনবিআর দুষ্টের দমন ও শিষ্টের পালন করবে।

এ দিকে শুল্ক গোয়েন্দা আপন জুয়েলার্সের মালিক দিলদার ও সাফাতের কর ফাঁকির বিষয়টি বাংলাদেশ ব্যাংকে পাঠানো চিঠিতেও উল্লেখ করেছে। চিঠিতে বলা হয়, এরই মধ্যে প্রাপ্ত তথ্য পর্যালোচনায় এ দপ্তরের কাছে দিলদার ও সাফাতের ব্যবসায় অস্বচ্ছতা থাকার বিষয়টি প্রতীয়মান হয়েছে। যে সব মূল্যবান পণ্য তিনি বিক্রি করেন তার বৈধ ঘোষণা ও যথাযথ ট্যাক্স পরিশোধ নিয়ে প্রশ্ন উত্থাপিত হয়েছে।

ওই চিঠিতে বলা হয়, উল্লেখিত ধর্ষণের ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্থাপিত অবৈধ ব্যবসার অভিযোগটি খতিয়ে দেখাটা এখন পাবলিক ডিমান্ড। শুল্ক গোয়েন্দা কর্তৃপক্ষ এই গুরুতর অভিযোগটি আমলে নিয়ে গভীরভাবে অনুসন্ধান করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ইতোমধ্যে এ দপ্তরের উপ পরিচালক এইচ এম শফিকুল হাসানের নেতৃত্বে দুই সদস্য বিশিষ্ট একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। এমতবস্থায় আপন জুয়েলার্স এবং এই প্রতিষ্ঠানের মালিকগণের যাবতীয় আর্থিক লেনদেন এক সপ্তাহের মধ্যে সরবরাহরে জন্য অনুরোধ করা হয়েছে ।

 

গত ২৮ মার্চ বনানীতে দ্য রেইনট্রি হোটেলে বন্ধুর মাধ্যমে এক জন্মদিনের অনুষ্ঠানে যোগ দিতে গিয়ে ধর্ষণের শিকার হন বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই ছাত্রী। এরপর ওই ঘটনার ভিডিও ধারণ করে রাখে ধর্ষকরা।

যাদের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে, তাদের একজন আপন জুয়েলার্সের মালিক দিলদার আহমেদ সেলিমের ছেলে সাফাত আহমেদ। প্রাণনাশসহ বিভিন্ন হুমকি উপেক্ষা করে ঘটনার একমাসের বেশি দিন পর ওই দুই তরুণী ৪ মে বনানী থানায় ধর্ষণের অভিযোগে মামলা করতে যান। তবে থানা পুলিশ মামলা না নিয়ে তাদেরকে হয়রানী করে বলে অভিযোগ ওঠার ৪৮ ঘণ্টা পর ৬ মে ওই অভিযোগ লিপিবদ্ধ করে।

গত ১১ মে সাফাত ও তার বন্ধু সাদমান সাকিফকে সিলেট থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর দিন আদালতে তোলা হলে আদালত সাফাতকে ৬ দিন এবং সাদমান সাকিফকে ৫ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

Leave a Reply

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

eighteen − one =