বাংলাদেশের আরেকটি স্বর্ণ জেতার সুযোগ ছিনিয়ে নিলেন ফেডারেশন সভাপতি কোরাইশি:সূর্যবার্তাকে মাবিয়া

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

সুমি খান: মাবিয়া আক্তার সীমান্তকে দমাতে সারা বাংলাদেশকে দমিয়ে দিলেন বাংলাদেশ ভারোত্তোলন ফেডারেশনের সভাপতি মঞ্জুর কাদের কোরাইশি। আরেকটি স্বর্ণ জয়ের সম্ভাবনা থেকে বঞ্চিত হলো বাংলাদেশ। এমন দেশদ্রোহী আচরণের নেপথ্যে সাফল্য ঠেকানোর পরিকল্পিত গোষ্ঠীর বিপুল ক্ষমতা! এর প্রতিকার চেয়ে কসচিবের কাছে আবেদন করেছেন কৃতি স্বর্ণকন্যা মাবিয়া আক্তার সীমান্ত।  সূর্যবার্তা নিউজডটকমের সাথে একান্ত সাক্ষাৎকারে বাংলাদেশ ভারোত্তোলন ফেডারেশনের সভাপতি মঞ্জুর কাদের কোরাইশির অন্যায় আচরণের তীব্র প্রতিবাদ করলেন মাবিয়া আক্তার সীমান্ত।

১৯ অক্টোবর থেকে ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত  মালয়েশিয়ার পেনাংয়ে  ইয়ুথ ওয়ার্ল্ড চ্যাম্পিয়নশীপ শুরু হচ্ছে; বাংলাদেশের কোন অংশগ্রহণ এতে নেই ।  মালয়েশিয়া ভারোত্তোলোন ফেডারেশন  আয়োজিত  ‘2016 IWF YOUTH WORLD CHAMPIONSHIPS’ প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে ব্যর্থ হলো বাংলাদেশ।

গত ফেব্রুয়ারিতে ভারতের গৌহাটিতে সাফ গেমসে হাতের ইনজুরি নিয়েও ৬৩ কেজি ওজন শ্রেণিতে ১৪৯ কেজি তুলে স্বর্ণ জিতে মাবিয়া আক্তার সীমান্ত বাংলাদেশকে সাফল্য এনে দিয়েছিলেন। অনুর্ধ্ব -১৬ তে মাবিয়া আর খেলতে পারবেন না। বয়স অনুযায়ী তার এ বছর শেষ সুযোগ। তাই এই প্রতিযোগিতায় অংশ নেবার জন্যে ফেডারেশনের কাছে আবেদন জানিয়েছিলেন সীমান্ত ।  ইতিমধ্যে ইয়ুথ বিভাগে তার সাফল্য প্রমাণিত।

কিন্তু না, ফেডারেশনের সভাপতি মঞ্জুর কাদের কোরাইশি উৎসাহ দেবার বদলে চরম ক্ষেপে প্রচন্ড দুর্ব্যবহার করে গায়ে হাত তুলে ধাক্কা দিয়ে বের করে দিলেন স্বর্ণজয়ী এই কৃতি কন্যাকে ।

ফেডারেশনের সভাপতির বক্তব্য , তারা মাবিয়াকে  জুনিয়র সিনিয়র প্রতিযোগিতাতে নেবেন।  মাবিয়ার সমবয়সীদের সাথে প্রতিযোগিতা থেকে তাকে বিরত রেখে সিনিয়র দের সাথে মাবিয়াকে প্রতিযোগিতায় নামানোর মধ্যে বিকৃত আনন্দ আছে বৈকি।

মালয়েশিয়া  ভারোত্তোলোন ফেডারেশনের চ্যাম্পয়নশীপ প্রতিযোগিতায় যোগ দেবার আগ্রহ প্রকাশ করে এ ব্যাপারে সহযোগিতা কামনা করে গত ৯ অক্টোবর মাবিয়া ফেডারেশন কর্তাদের দ্বারস্থ হন। সময় থাকতে প্রশিক্ষণ এবং প্রতিযোগিতায় অংশ নেবার উদ্যোগ নিতে আবেদন জানান তিনি।

ফেডারেশন সভাপতি এতে চরম ক্ষুব্ধ হয়ে মালয়েশিয়ার অনুর্ধ-১৬   ইয়ুথ ওয়ার্ল্ড চ্যাম্পিয়নশীপে অংশ নিতে নিরুৎসাহিত করেন সীমান্তকে। পাল্টা প্রশ্ন করেন,“ আমার কথা মতো চলবে, না তোমার কথা মতো চলবে? ..” চরম অশ্লীল ভাষায় গালাগাল করে  এক পর্যায়ে তিনি মাবিয়া আক্তার সীমান্তের গায়ে হাত দিয়ে তাকে ফেডারেশন কার্যালয় থেকে বের করে দেন । ফেডারেশনের সভাপতির দায়িত্বে থেকে সহযোগিতা করা দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন দূরের কথা   উল্টো এমন কৃতি আ্যাথলেট মাবিয়ার বাবা-মা, তার বেড়ে ওঠার পিছিয়ে থাকা পরিবেশ নিয়ে অনেক  ধরণের হুমকি দেন , মাবিয়া  প্রধানমন্ত্রীর দেয়া ফ্ল্যাট  কী করে পাবে , সেটা ও দেখে নেবার হুমকি দেন তিনি। হতাশ হলেও  এর জবাবে বিনীত মাবিয়া ফেডারেশন সভাপতিকে বলেছেন, “ স্যার আপনি এভাবে কথা বললে তো কোন মেয়ে আর এভাবে খেলতে আসবে না। ”

সেদিনের ঘটনা বলতে গিয়ে হতাশ সীমান্ত সূর্যবার্তাকে নিউজ ডট কমকে জানান ,এমন অন্যায় আচরণের প্রতিকার চেয়ে সচিবের কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন তিনি।

স্বর্ণকন্যা মাবিয়া আক্তার সীমান্তর গত ফেব্রুয়ারিতে ভারতের গৌহাটিতে সাফ গেমসে হাতের ইনজুরি নিয়েও ৬৩ কেজি ওজন শ্রেণিতে ১৪৯ কেজি তুলে স্বর্ণ জিতে দেশকে গর্বিত করেছিলেন। আবেগে অঝোরে কেঁদেছিলেন পুরস্কারের মঞ্চে দাঁড়িয়ে। যে কান্নায় আল্পুত হয়েছিল পুরো দেশ। জায়গা করে নিয়েছিলেন কোটি কোটি মানুষের হৃদয়ে। সাফ মসে শ্রেষ্ঠ ভূমিকা রেখে  স্বর্ণ জয়  সীমান্তের জীবনটাকে অনেকটাই সহজ করে দিয়েছে মনে করলেও বাস্তবে তা হয় নি। রুদ্ধ করে দিলো কি তার ভবিষ্যৎ?

মাবিয়ার বর্তমান বাস্তবতা নিয়ে আলাপচারিতায় সীমান্ত জানান,  প্রধানমন্ত্রীর নিয়ত মনিটরিং এবং যত্ন রয়েছে তার প্রতি । তাই আনসার বাহিনীতে তার চাকরি স্থায়ী হয়েছে।অনেক দিন অস্থায়ী থাকলেও এখন স্থায়ী । বেতন ও সুযোগ সুবিধা বেড়েছে।অফিস করতে হয় না।অফিসে কোনো কাজ নেই। নিয়মিত ট্রেনিং করাটাই তার চাকরি।

বললেন, আমি চিন্তা করতে পারিনি ইন্ডিয়াতে স্বর্ণ জিততে পারব। ইনজুরিতে ছিলাম। সেভাবে প্রস্তুতিও ছিল না। আপনারা যারা সাংবাদিক আছেন,আমি তাদের কাছ চিরকৃতজ্ঞ। তারা আমাকে অনেক সমর্থন দিয়েছেন। সাফে স্বর্ণ জেতাটা আমার জীবনকে সহজ করে দিল।

্ কিছুই আমার অনুকূলে ছিল না। দুই সপ্তাহ আগে হাতের ইনজুরিতে আক্রান্ত হই। ওই হাত নিয়েই স্বর্ণপদক জিতি। পুরস্কার নেওয়ার সময় জাতীয় সঙ্গীত বাজছিল। পাশেই উড়ছিল জাতীয় পতাকা। সে সময়ের অনুভূতি ভাষায় প্রকাশ করবার মতো নয়। এর আগের দিনগুলো অনেক সংকটে কেটেছে   ২০১৪ সালে আমার পারফরমেন্স বেশ ভালো ছিল। সিনিয়রিটি প্রায়োরিটির কারণে আমি তখন কমনওয়েলথ গেমসে যেতে পারিনি। তাই খুব কষ্ট পেয়েছিলাম। রিও অলিম্পিকেও আমার যাওয়ার কথা ছিল। যেকোনো কারণে আমি যেতে পারিনি। সেটাতেও অনেক কষ্ট পেয়েছি। এখনো এ দুটো জিনিস আমার মনে পড়লে খুব কষ্ট পাই।

সীমান্ত বলেন,  আমি খুব অল্পতেই সন্তুষ্ট হই। আমার মনে হয়, আমি যেটুকু পেয়েছি সেগুলো ভবিষ্যতে এগিয়ে যাবার প্রেরণা যোগাবে।সামনে দুই বছর আমার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। ২০২০ সালের লক্ষ্যে আমি এগিয়ে যাচ্ছি। অলিম্পিকে আমি খেলতে পারব এ বিশ্বাসটা আমার আছে। তবে সে সময়ে  যদি আমি নাও খেলতে পারি মাঝখানে আমি অনেক গেম পাব। সে গেমগুলোতে আমি ভালো রেজাল্ট করতে চাই। সে ক্ষেত্রে আমাদের পারিপার্শ্বিক পরিবেশ এবং ফেডারেশনের আচরণ অনেক অনুকূল হওয়া জররী।

আসন্ন এশিয়ান গেমসে  স্বর্ণ জেতার আশা করছেন মাবিয়া আক্তার সীমান্ত।এ জন্য  তার যে রকম সুযোগ-সুবিধা  ্পএবং সহযোগিতা প্রয়োজন, তা এখনো পাচ্ছেন না জানালেন সীমান্ত। নিজের উদ্যোগে গিয়ে প্রতিদিন প্র্যাকটিস শেষ করে আবার বাসায় চলে যান তারা।

এবার  ্আন্তর্জাতিক অঙ্গনে জিতে  গোল্ড বা সিলভার জয় করার প্রত্যাশা কিশোরী মাবিয়া আক্তার সীমান্তের। বললেন, কোন রকম সহযোগিতা না থাকলে  ইন্টারন্যাশনাল লেভেলে গিয়ে পদক পাওয়ার কথা নয়। সেই লেভেলে ভালো করতে হলে সুযোগ সুবিধাও বাড়াতে হবে। শুধু আমাকে নয়,পুরো টিমটাকে যদি একটু আলাদা করে দেখা যায় তাহলে আমরা শুধু সাউথ এশিয়ান গেমসে নয় ; যেকোনো গেমসে দেশের জন্যে সাফল্য জিতে আনতে পারি বলে আমি বিশ্বাস করি।

মাবিয়ার এ আত্মবিশ্বাসকে গলা টিপে মেরে ফেলা দেশের স্বার্থকে জলাঞ্জলি দেয়া, অনেকটা আত্মহত্যার সামিল । যদি এ কাজ টা স্বয়ং ফেডারেশন সভাপতি করেন।

উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত দল গঠন করে এই স্বর্ণকন্যা এবং তার সহযোগীদের এগিয়ে যাবার পথে সকল প্রতিবন্ধকতা দূর করা দেশের স্বার্থে জরুরী  মনে করছেন সকলে।

Leave a Reply

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

three × 2 =