আল গোরকে প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে আনিসুল হকের ‘লেটার অন রামপাল ‘

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

সুমি খান:  রামপাল বিদ্যুৎ প্রকল্প বিষয়ে গত জানুয়ারীতে  বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের সভায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার  কাছে জানতে চেয়েছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট আল গোর । জবাবে প্রকল্পের বিভিন্ন দিক তুলে ধরে বাস্তব অবস্থা দেখার জন্য সাবেক মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্টকে বাংলাদেশে আসবার আমন্ত্রণ জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

সেই ধারাবাহিকতায়  রামপাল নিয়ে বিভিন্ন দলিলপত্র সহ মেয়রের একটি জবাব তৈরি করে পাঠিয়েছেন ঢাকা উত্তর  সিটি করপোরেশনের মেয়র আনিসুল হক।প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষ থেকে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র আনিসুল হক ‘মেয়রের চিঠি’ শিরোনামে একটি চিঠি  পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে আল গোরের কাছে পাঠান।

‘লেটার অন রামপাল কোল বেইজড পাওয়ার প্ল্যান্ট’  আল গোরের কাছে পাঠানোর জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে গত ১৩ মার্চ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে দলিলপত্র পাঠানো হয়। অবগতির জন্য দলিলের একটি কপি বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়েও পাঠিয়েছে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন।

চিঠিতে মেয়র আনিসুল হক প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে আল গোরকে জানান, রামপাল প্রকল্পের বিরোধিতা করে কয়েকটি মহল থেকে সমালোচনা করা হচ্ছে, যার সঙ্গে বাস্তবের কোন  মিল নেই। মেয়র আরো জানান,  রামপাল প্রকল্পে উন্নতমানের আল্ট্রাসুপার ক্রিটিক্যাল প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে। এই প্রযুক্তি সর্বোৎকৃষ্ট, এটা  বিরোধিতাকারীরা জানেন না।

তিনি আরো উল্লেখ করেন, ইউনেস্কো ঘোষিত বিশ্বঐতিহ্য সুন্দরবন থেকে এই প্রকল্প কমপক্ষে ৬৯.৬ কিলোমিটার  দূরে এবং সুন্দরবনের সীমানা থেকে ১৪ কিলোমিটার দূরে। রামপাল প্রকল্পে ভস্ম ব্যবস্থাপনার কার্যকর ব্যবস্থা রয়েছে। নিম্ন সালফারের কয়লা ব্যবহার করা হবে বলে বিরোধিতাকারীদের অভিযোগ ভিত্তিহীন এবং  এখান থেকে সালফার নিঃসরণের আশঙ্কাও ঠিক নয়। নাইট্রোজেনের নিঃসরণও নিয়ন্ত্রণ করা হবে। প্রকল্পের কারণে শব্দ বা নদী দূষণও হবে না। সর্বোপরি প্রকল্প এলাকায় গ্রীন বেল্ট তৈরির জন্য পাঁচ লাখ গাছ লাগানো হয়েছে।

উল্লেখ্য, গত ১৭ থেকে ২০ জানুয়ারি সুইজারল্যান্ডের পূর্বাঞ্চলীয় আল্পস পার্বত্য অঞ্চলের ডাভোস রিসোর্টে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের (ডব্লিউইএফ) ৪৭তম বার্ষিক সভা অনুষ্ঠিত হয়। এই সভার ‘লিডিং দ্য ফাইট এগেইনস্ট ক্লাইমেট চেঞ্জ’ শীর্ষক প্ল্যানারি সেশনে অংশ নেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও আল গোর। সেই সময় আল গোর রামপাল বিদ্যুৎ প্রকল্প বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর কাছে জানতে চান।
আল গোরকে লেখা চিঠিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা  গৃহীত বিভিন্ন আর্থ-সামাজিক ও পরিবেশ সংরক্ষণ বিষয়ক উন্নয়নমূলক কাজের উল্লেখ করে মেয়র আনিসুল হক বলেছেন , ২০০৯ সালের পর বাংলাদেশে বিদ্যুতের ব্যবহার ৪৭ শতাংশ থেকে বেড়ে প্রায় ৮০ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।আমাদের লক্ষ্য, ২০২১ সালের মধ্যে সবার কাছে বিদ্যুৎ পৌঁছে দেওয়া। এ সময়ের মধ্যে বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা ২৪ হাজার মেগাওয়াটে নিয়ে যাওয়া প্রয়োজন। ২০৩০ সালের মধ্যে প্রয়োজন হবে ৩৯ হাজার মেগাওয়াট।
আনিসুল হক আল গোরকে পাঠানো চিঠিতে জানান, বিদ্যুৎ উৎপাদনে বাংলাদেশ এখন সীমাবদ্ধতার মুখোমুখি। জলজ সম্পদের অভাব, নিউক্লিয়ার বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য উন্নয়ন ব্যয়, প্রযুক্তির উচ্চ মূল্যের পরিপ্রেক্ষিতে বিদ্যুৎ উৎপাদনের একমাত্র উপায় কয়লা। পাশাপাশি দূরবর্তী এলাকার জন্য সোলার বিদ্যুতের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। দেশীয় প্রাকৃতিক গ্যাসের রিজার্ভ কমে আসায় স্বল্প মেয়াদী সমাধান হিসেবে সরকার কুইক রেন্টাল পাওয়ার প্ল্যান্টে আমদানি করা তেল দিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদনের ব্যয়বহুল পথ অবলম্বন করছে।আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের মাধ্যমে লক্ষ্যে পৌঁছাতে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদনে বাংলাদেশ আগ্রহী। সারা বিশ্বে কয়লার ব্যবহার দাঁড়িয়েছে ৪১ শতাংশ। বাংলাদেশ মাত্র আড়াই শতাংশ বিদ্যুৎ উৎপাদন করছে কয়লা থেকে।

পরিশেষে বিভিন্ন দেশের বিদ্যুৎকেন্দ্রের কথা তুলে ধরে আল গোরের কাছ থেকে চিঠির প্রত্যুত্তর আশা করেন ঢাকা উত্তরের মেয়র আনিসুল হক।

Leave a Reply

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

fourteen − 4 =