ইনি কী করে বাংলা একাডেমি পুরস্কার পেলেন! -খন্দকার মুনতাসীর মামুন

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে যিনি তার লেখায় ‘স্বভাবসুলভ স্বৈরাচার’ হিসেবে কটূক্তি করেছিলেন, সেই নিয়াজ জামানই পেলেন এ বছরের বাংলা একাডেমি পুরস্কার। অনুবাদ সাহিত্যে বিশেষ অবদান রাখায় এ বছর বাংলা একাডেমি পুরস্কার দেয়া হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজির অধ্যাপক ড. নিয়াজ জামানকে।

সাপ্তাহিক হলিডে পত্রিকায় ১৯৯৬ সালের ২২ মার্চ প্রকাশিত ‘Forget About The Caretaker Issue শিরোনামের এক লেখায় নিয়াজ জামান ‘বঙ্গবন্ধুকে serpent’ বা দানবীয় সাপ’ বলে অভিহিত করেন। তিনি সেখানে বলেন, Fearing, what might happen if any one of the family were left alive, the Bengali majors did what the Pakistani’s had not; destroyed the serpent and his eggs- except for two daughters who were out of the country.’ অর্থাৎ ‘বঙ্গবন্ধুর পরিবারের কেউ যদি বেঁচে থাকে সে ব্যাপারে আতঙ্কিত বাঙালি মেজররা যা করেছিল, পাকিস্তানিরাও তা পারেনি। দানবীয় সাপটাকে (বঙ্গবন্ধু) ঝাড়ে বংশে শেষ করতে পেরেছে। শুধু দুই মেয়ে রক্ষা পেয়েছে, যারা সেসময় দেশের বাইরে ছিল।’

হলিডে পত্রিকায় ১৯৯৪ সালের ২ ডিসেম্বর প্রকাশিত Rainbows: Auto Biography and Politics in S. M. Ali’s Rainbow over Padma’ শীর্ষক লেখায় নিয়াজ জামান আরও লিখেছেন When the Sheikh came to power, he emerged as a natural dictator who could not accept a free discussion on any of his bedroom decisions’। অর্থাৎ ‘ক্ষমতায় আসার পর ‘শেখ’ একজন স্বভাবসুলভ স্বৈরাচারীর রূপ নিলেন। তিনি তার শয়নকক্ষে নেয়া কোনো সিদ্ধান্ত সম্পর্কেই কোনো খোলামেলা আলোচনা গ্রহণ করতে পারতেন না’।
‘৯০ দশকে হলিডে পত্রিকার একাধিক সংখ্যা পড়ে দেখা গেছে, নিয়াজ জামানের অধিকাংশ নিবন্ধ পাকিস্তান রাষ্ট্রের অখ-তা রক্ষায় পাকিস্তানি মুসলমান আর বাঙালি মুসলমানদের ব্যর্থতাকে উপজীব্য করে লেখা। বাংলাদেশের স্বাধীনতার ও বাঙালির মুক্তিসংগ্রামের বিষয়ে এক ধরনের হতাশাই লক্ষণীয় নিয়াজ জামানের লেখায়। অথচ বিতর্কিত এই লেখকই এবার পেলেন সাহিত্য পদক। পুরস্কার বিজয়ী হিসেবে নিয়াজ জামানের নাম ঘোষিত হলে ফেসবুকসহ নানা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে তুমুল বিতর্ক তৈরি হয়।
পাঞ্জাবি বংশোদ্ভূত নিয়াজ জামান মাগুরার নির্বাচনে বিতর্কিত বিএনপি নেতা মেজর জেনারেল মাজেদুল হকের আত্মীয়। তার এই পুরস্কার পাওয়া নিয়ে সমালোচনার ঝড় যখন তুঙ্গে তখন বাংলা একাডেমি বলেছে, এটা কারও একক ভুল নয়- সম্মিলিত ভুল। বাংলা একাডেমির কাউন্সিল মেম্বার কথাসাহিত্যিক সেলিনা হোসেন বলেছেন, ‘২৫ থেকে ৩০ জন লেখকের সমন্বয়ে সুপারিশ কমিটি তৈরি করা হয়। তারা যাদের নাম বাছাই করে পাঠান, সেখান থেকে আবারও বাছাই করার পর সেটি অনুমোদনের জন্য আমাদের কাছে, মানে কাউন্সিলরদের সভায় আসে। সেখানে নোট অব ডিসেন্ট দেয়ার কোনও বিষয় থাকে না, কেবল স্বাক্ষর করা। ফলে এককভাবে বাংলা একাডেমির মহাপরিচালককে এটি নিয়ে দোষারোপের সুযোগ নেই।’ জানা যায়, এই তোলপাড়ের কারণেই যেকোন অনাহুত পরিস্থিতি ঠেকাতে পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে নিয়াজ জামানকে না আসার অনুরোধ জানানো হয় প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে। বাংলা একাডেমি বলেছে, তারা পদকটি নিয়াজ জামানের কাছে পেঁৗছে দেবে। তবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রশ্ন উঠেছে, যিনি বঙ্গবন্ধুকে কোনদিন সম্মান করেননি, মুক্তিযুদ্ধকে কটাক্ষ করেছেন তিনি কিভাবে আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে বাংলা একাডেমি পুরস্কার জেতেন? তবে কি চেতনায়, বিশ্বাসে ঘাটতি রয়েছে তাদের যারা তাকে পুরস্কৃত করতে আগ্রহী অথবা ক্রিয়াশীল বাংলাদেশবিরোধী শক্তি তাদের মধ্যে?

Leave a Reply

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

five × 4 =