ইন্টারপোলের রেড নোটিশ:জঙ্গি তাজউদ্দিন পাকিস্তানি পাসপোর্ট নিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকায়

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

হুজি জঙ্গি তাজউদ্দিন পাকিস্তানি পাসপোর্ট নিয়ে দ. আফ্রিকান সরকারের কাছে রাজনৈতিক আশ্রয় চেয়েছে। গত কয়েকবছর থেকে জঙ্গী তাজউদ্দিন সেখানেই অবস্থান করছে।আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সমাবেশে ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার অন্যতম  এই আসামিকে ধরতে আন্তর্জাতিক পুলিশ সংস্থা ইন্টারপোল সম্প্রতি  রেড নোটিশ জারি করেছে। বিএনপি নেতা জামাত বিএনপি পরিচালিত সরকারের উপমন্ত্রী আবদুস সালাম পিন্টুর ছোট ভাই তাজউদ্দীন পাকিস্তানের পাসপোর্টধারী হলো কী করে সে বিষয়ে গভীর তদন্তে নেমেছেন গোয়েন্দারা। Tajuddin 2008

এ ব্যাপারে ইন্টারপোল থেকে পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের ইন্টারপোল শাখায় বিস্তারিত তথ্য জানতে চেয়ে চলতি মাসের প্রথম সপ্তাহে ই-মেইল বার্তা পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে পুলিশ সদর দফতর থেকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে লিখিত জানানো হয়েছে।
পুলিশ সদর দফতর সূত্র জানায়, ইন্টাপোলের রেড নোটিশ মাথায় নিয়ে ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার পলাতক আসামি মাওলানা মুহাম্মদ তাজউদ্দীন মিয়াকে দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে বাংলাদেশে ফেরত আনার বিষয়ে একটি চিঠি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে দেয়া হয়েছে।

চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে মাওলানা তাজউদ্দীন মিয়া সম্পর্কে তথ্য চেয়ে গত ৪ এপ্রিল এবং ১৫ ফেব্রুয়ারি ইন্টারপোল থেকে দুটি ই-মেইল পাঠানো হয়েছে।

এতে উল্লেখ করা হয়, ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার আসামি বাংলাদেশি রেড নোটিশধারী মাওলানা তাজউদ্দীন মিয়া পাকিস্তানি পাসপোর্ট দিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকায় রাজনৈতিক আশ্রয় লাভের উদ্দেশ্যে পাকিস্তানি নাগরিক হিসেবে প্রবেশ করেছে।

প্রকৃত তথ্যাদি যাচাই ও অনুসন্ধানে তাজউদ্দিনের পাসপোর্ট সংক্রান্ত তথ্য প্রদান করতে ইন্টারপোল থেকে অনুরোধ করা হয়েছে।

মাওলানা তাজউদ্দীন মিয়াকে পাকিস্তানি পাসপোর্ট প্রদান করা হয়ে থাকলে তার পাসপোর্ট সংক্রান্ত তথ্যদি পাকিস্তানের বাংলাদেশের হাইকমিশনারের মাধ্যমে সংগ্রহের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। তাই রেড নোটিশধারী আসামি মাওলানা তাজউদ্দীন মিয়াকে পাকিস্তানি পাসপোর্ট প্রদান করা হয়েছে কিনা এবং তার বিস্তারিত তথ্য (যদি পাসপোর্ট ইস্যু করা হয়) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে সংগ্রহ করার ব্যবস্থা নেয়ার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ করা হয়েছে বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়।

গ্রেনেড হামলা মামলার তদন্তকারী সংস্থা সূত্র জানায়, গ্রেনেড হামলা মামলার আসামি মাওলানা তাজউদ্দিন হামলার পরিকল্পনাকারী এবং হামলা চালিয়ে দেশ ছেড়ে পাকিস্তানে পালিয়ে গেছে বা তাকে ঘটনার পর পাকিস্তানে পাঠিয়ে দেয়া হয়েছে। তাকে দেশে ফিরিয়ে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করলে গ্রেনেড হামলার পরিকল্পনার ছকসহ আরও নেপথ্য কাহিনী বেরিয়ে আসবে। নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন (হুজ্জি) পলাতকরা কে কোথায় আছে তাদের সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য জানা সম্ভব হবে বলে সূত্র জানায়।
উল্লেখ্য, বিগত বিএনপি জামায়াত জোট সরকারের আমলে বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার সমাবেশে ভয়াবহ গ্রেনেড হামলা চালানো হয়।

এই হামলা আওয়ামী লীগের প্রধান নেতা বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনাকে উদ্দেশ্য করে হলেও সেদিন অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে গেছেন বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তবে নিহত হন প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমানের স্ত্রী আইভি রহমানসহ ২৪ জন।অনেক নেতাকর্মী আহত হয়েছেন।

তৎকালীন রাষ্ট্র্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় খুনিরা  মুক্তিযুদ্ধের পক্ষশক্তি যেন আর রাষ্ট্রক্ষমতায় আসতে না পারে এবং আওয়ামী লীগকে নেতৃত্ব শূন্য করার টার্গেট নিয়ে সেদিন গ্রেনেড হামলা চালায়।

গ্রেনেড হামলার পর ঘটনা ধামাচাপা দিয়ে  বিএনপি জামাত নেতারা জজ মিয়া নাটক সাজায়।সচিবালয়ের ১০০ গজের মধ্যে এ ভয়াবহ গ্রেনেড হামলা হলেও তৎকালীন স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর অথবা দায়িত্বপ্রাপ্ত অন্য কেউ ঘটনাস্থলে যান নি।

সর্বশেষ বর্তমান সরকারের আমলে সিআইডি চাঞ্চল্যকর এই মামলার তদন্ত করে আদালতে চার্জশিট জমা দেন। এই মামলার পরিকল্পনা ছক তৈরি কারি অনেক আসামিকে ঘটনার পরপর বিদেশে পালিয়ে গেছে। তাদের মধ্যে মাওলানা তাজউদ্দিন অন্যতম। সে সাবেক উপমন্ত্রী ও বিএনপি নেতা আব্দুস সালাম পিণ্টুর ভাই।
২০০৪ সালের প্রথম দিকে লস্কর-ই-তৈয়বার একাধিক গ্রেনেড ভর্তি একটি কার্টন নিজের হেফাজতে রেখেছিল তাজউদ্দিন। বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে গ্রেনেড হামলা, সিলেটের শাহজালাল মাজারে ব্রিটিশ হাইকমিশনারের উপর হামলাসহ প্রতিটি গ্রেনেড হামলার সাথে হরকাতুল জেহাদ (হুজি) জঙ্গি নেতা মুফতি হান্নান  জড়িত থাকার কথা পুলিশ হেফাজতে এবং আদালতে স্বীকার করেছে।
মাওলানা তাজউদ্দিনসহ পলাতক আসামিদের দেশে ফিরিয়ে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করলে  এসব হামলায় ব্যবহৃত গ্রেনেডের উৎস, মদতদাতা, সরবরাহকারীসহ  সকল তথ্য উদ্ঘাটিত হতে পারে। চাঞ্চল্যকর এই মামলায় এখনো মাওলানা তাজউদ্দিনসহ ১৪জন পলাতক রয়েছে বলে আদালত সূত্রে জানা গেছে।
বিশ্বজুড়ে আলোচিত চাঞ্চল্যকর এই গ্রেনেড হামলা আদালতে স্বীকারোক্তি দিয়েছে জঙ্গি নেতা মুফতি হান্নানসহ কয়েকজন। তাদের স্বীকারোক্তিতে মাওলানা তাজউদ্দিনের নাম এসেছে। চাঞ্চল্যকর এই মামলায় ৪৯১জনকে সাক্ষী করা হয়েছে। ৬৯ প্রকারের আলামত আদালতে জব্দ দেখানো হয়েছে।

ঘটনার পর থেকে প্রতি বছর ২১ আগস্ট দেশব্যাপী গ্রেনেড হামলার দিনটি স্মরণ করা হয়। সেদিনের ঘটনা তুলে ধরেন নেতা কর্মীরা। অনেকেই গ্রেনেড হামলার ক্ষত ও স্প্লিন্টার নিয়ে দুঃসহ পঙ্গু জীবন কাটাচ্ছেন।

Leave a Reply

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

eleven − five =