ঋণখেলাপি শাহাবুদ্দিন আলম জালিয়াতির অভিযোগে গ্রেফতার

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

এসএ গ্রুপের কর্ণধার ও মার্কেন্টাইল ব্যাংকের পরিচালক মো. শাহাবুদ্দিন আলমকে জালিয়াতির অভিযোগে গ্রেফতার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। গতকাল বুধবার দুপুরে গুলশানের একটি কফি হাউস থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। চট্টগ্রাম ইপিজেড থানায় ব্যাংক এশিয়ার করা একটি জালিয়াতি মামলায় গ্রেফতার করা হয়েছে তাকে।

শাহাবুদ্দিনের বিরুদ্ধে প্রতারণা, জালিয়াতি ও খেলাপি ঋণ-সংক্রান্ত শতাধিক মামলা রয়েছে। এর মধ্যে প্রাইম ব্যাংকের ৩৩টি মামলায় তিনি ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি। একটি মামলায় এক বছরের সাজাও হয়েছে তার। দেশের বিভিন্ন ব্যাংকে শাহাবুদ্দিন আলমের মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানের নামে তিন হাজার ৬২২ কোটি টাকার খেলাপি ঋণ রয়েছে।

সূত্রে প্রকাশ, এসএ গ্রুপের কাছে বিভিন্ন ব্যাংকের মোট ঋণের তিন হাজার ৬২২ কোটি ৪৮ লাখ টাকা এখন খেলাপি। বিভিন্ন ব্যাংকে দেনা বাড়লেও তিনি ঋণের টাকা তেমন পরিশোধ করছেন না। কৌশলে তিনি ব্যাংককে এড়িয়ে যাচ্ছেন। ঋণখেলাপি হয়েও উচ্চ আদালতের স্থগিতাদেশ নিয়ে মার্কেন্টাইল ব্যাংকের পরিচালক পদে এখনও বহাল আছেন। রাজনৈতিক অস্থিরতা ও বৈশ্বিক মন্দা বিবেচনায় ২০১৫ সালে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বিশেষ সুবিধায় দেশের ছয়টি ব্যাংকে এসএ গ্রুপের পুনর্গঠিত ঋণের পরিমাণ ছিল ৯২৮ কোটি টাকা। এই ঋণের এক টাকাও তিনি পরিশোধ করেননি। উল্টো ঋণের টাকা পরিশোধ না করে বাংলাদেশ ব্যাংকে অভিনব একটি আবেদন করেন।

চট্টগ্রামভিত্তিক ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান এসএ গ্রুপের চেয়ারম্যান শাহাবুদ্দিন আলম। মুসকান ব্র্যান্ডের সয়াবিন তেল, আটা, ময়দা, সুজি, বোতলজাত পানি এবং গোয়ালিনি ব্র্যান্ডের মিল্ক্ক পাউডার ও কনডেন্সড মিল্ক্কের উৎপাদন ও সরবরাহকারী এসএ গ্রুপ। এ ছাড়া আবাসনসহ বিভিন্ন খাতে ব্যবসা রয়েছে তার। চট্টগ্রামের আগ্রাবাদে এসএ গ্রুপের প্রধান কার্যালয়।

সিআইডির অর্গানাইজড ক্রাইম ইউনিটের বিশেষ পুলিশ সুপার মোল্যা নজরুল ইসলাম  জানান, শাহাবুদ্দিনকে ব্যাংক এশিয়ার পক্ষ থেকে দায়ের করা জালিয়াতি মামলায় গ্রেফতার করা হয়েছে। গ্রেফতারের পর তাকে আদালতে হাজির করেন সিআইডির ইকোনমি ক্রাইম স্কোয়াডের পরিদর্শক আশরাফুল ইসলাম। আদালতে হাজির করলে ঢাকা মহানগর হাকিম তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। জানতে চাইলে আশরাফুল ইসলাম বলেন, ব্যাংক এশিয়ার একটি এলসির বিপরীতে তিনি ২৭ কোটি টাকার তেল আমদানি করেন। ব্যাংক কর্মকর্তাদের স্বাক্ষর জাল করে ব্যাংকের জিম্মায় থাকা ওই পণ্য শাহাবুদ্দিন গোপনে বিক্রি করে দেন। তিনি জানান, ইউনাইটেড গ্রুপের করা একটি মামলায় শাহাবুদ্দিন এক বছরের সাজাপ্রাপ্ত আসামি এবং ১৮ কোটি টাকা অর্থদণ্ডও রয়েছে। প্রাইম ব্যাংকের করা ৪৩টি মামলার মধ্যে ৩৩টি মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি তিনি। এ ছাড়া তার বিরুদ্ধে ইসলামী ব্যাংকের ১৪টি, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকের দু’টি, ন্যাশনাল ব্যাংকের ৩০টি, পূবালী ব্যাংকের ছয়টি, কৃষি ব্যাংকের দু’টি, অগ্রণী ব্যাংকের আটটি ও জনতা ব্যাংকের একটি মামলা রয়েছে।

Leave a Reply

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

three − 3 =