‘একই কায়দায়’ রাজশাহীতে কুপিয়ে কথিত ‘পীর’ হত্যা

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

“শিক্ষক রেজাউল করিমের মতো শহিদুল্লাহকেও ঘাড়ের ডান পাশে কুপিয়ে হত্যা করা হয়।” বললেন ময়না তদন্তকারী চিকিৎসক। পুলিশ সুপার নিশারুল আরিফ নিশ্চিত করেছেন শহিদুল্লাহর খুনের ধরনের সঙ্গে সম্প্রতিক ঘটে যাওয়া হত্যাকাণ্ডের মিল রয়েছে।

রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগের চিকিৎসক এনামুল হক  সাংবাদিকদের বলেন, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের অধ্যাপক রেজাউল করিমকে যে ধরনের অস্ত্র দিয়ে হত্যা করা হয়েছিল ঠিক সে ধরনের অস্ত্র দিয়েই শহিদুল্লাহকে হত্যা করা হয়েছে।শুক্রবার সন্ধ্যায় তানোরের জুমারপাড়া আমবাগান থেকে শহিদুল্লাহর (৬০) লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।

শনিবার বিকালে নিশারুল আরিফ সাংবাদিকদের বলেন, “সেদিকে গুরুত্ব দিয়ে ঘটনাটি তদন্ত করা হচ্ছে। তবে অন্য কোনো কারণে একই কায়দায় কেউ এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে কিনা সে বিষয়টিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।”

শহিদুল্লাহর বাড়ি পবা উপজেলার নওহাটা এলাকায়। শনিবার বিকালে জানাজা শেষে পরিবারিক কবরস্থানে লাশ দাফন করা হয়েছে।

শহিদুল্লাহর বড় ছেলে রাসেল আহমেদ বলেন, গোয়ালন্দ ঘাটের পীর নূর মোহাম্মদ দয়ালের ভক্ত ছিলেন তার বাবা শহিদুল্লাহ। মাঝেমধ্যেই তিনি সেখানে গিয়ে থাকতেন।

“আমার বাবার নওহাটা কলেজ মোড়ে একটি মুদি দোকান রয়েছে। সম্প্রতি চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোল ও গোমস্তাপুর এলাকায় বাবার কিছু ভক্ত হয়েছে। ভক্তরা বাবাকে পীর হিসেবে মান্য করতেন।”

শুক্রবার সকালে শহিদুল্লাহকে মোবাইলে ফোন করে নওহাটা কলেজ মোড়ে ডেকে নিয়ে যাওয়া হয় বলে তার ছেলে রাসেল জানান।

“সেখান থেকে দুই মোটরসাইকেল আরোহী বাবাকে মোটরসাইকেলের পিছনে বসিয়ে নিয়ে যায় বলে শুনেছি।”

শহিদুল্লাহর ভক্ত নাচোল উপজেলার গোলাবাড়ি গ্রামের মামুনুর রশিদ মামুন বলেন, নাচোল ও গোমস্তাপুর উপজেলা এলাকায় পীর শহিদুল্লাহর প্রায় আড়াই হাজার ভক্ত রয়েছে।

“মাঝেমধ্যে তিনি ভক্তদের সঙ্গে দেখা করে তাদের আল্লাহর পথে চলার পরামর্শ দিতেন। তিনি আমাদের শেখাতেন, ইমাম মেহেদি (আ.) আসবেন। তার আদর্শে চলতে হবে। সত্যের পথে থাকতে হবে।”

গোলাবাড়ির ভক্তদের সঙ্গে দেখা করতে শুক্রবার সন্ধ্যায় শহিদুল্লাহর যাওয়ার কথা ছিল বলে মামুন জানান।

“বৃহস্পতিবার সর্বশেষ তার সঙ্গে মোবাইল ফোনে কথা হয়। তিনি জানিয়েছিলেন, চাঁপাইনবাবগঞ্জের আমনুরায় তার কিছু নতুন ভক্ত হয়েছে। শুক্রবার সকালে তিনি সেখানে যেতে চেয়েছিলেন। এরপর সন্ধ্যায় গোলাবাড়ি যাবেন বলে তিনি জানান। কিন্তু বিকালে মোবাইলে ফোন দিয়ে তাকে আর পাইনি।”

নওহাটা পৌরসভার মেয়র মোকবুল হোসেন বলেন, এলাকায় শহিদুল্লাহর সাথে কারও কোনো বিরোধ নেই। জমিজমার কাগজপত্র তিনি ভালো বুঝতেন। এ কারণে লোকজন তার কাছে গিয়ে জমিজমা সংক্রান্ত কাজের সহযোগিতা নিত।

“তবে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক রেজাউল করিমসহ সম্প্রতি যেসব হত্যাকাণ্ড ঘটেছে তার সঙ্গে পীর শহিদুল্লাহ হত্যার মিল রয়েছে।” কোনো মৌলবাদী জঙ্গিগোষ্ঠী এ হত্যাকাণ্ড ঘটাতে পারে বলে মেয়রের ধারণা।

এদিকে এ ঘটনায় শহিদুল্লাহর ছেলে রাসেল আহমেদ তানোর থানায় অজ্ঞাতপরিচয় দুই জনকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা করেছেন।

Leave a Reply

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

fifteen − 2 =