একই পরিবারের ১২ সদস্য নিখোঁজ, অস্ত্র হাতে ছবি পেল পুলিশ

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

সিলেটে ফেঞ্চুগঞ্জের মাইজগাঁও গ্রামের বাসিন্দা লন্ডন প্রবাসী নবীনের হাতে আগ্নেয়াস্ত্রের ছবি হাতে পেয়ে বাংলাদেশ পুলিশ নড়চড়ে বসেছে। প্রায় দু’বছর আগে নবীনসহ তার পরিবারের ১২ সদস্য নিখোঁজ ছিল। অস্ত্র হাতে নবীনের ছবিটি যে তার নিখোঁজ ভাইপো, পুলিশের কাছে তা নিশ্চিত করেছেন চাচা  আবদুল লতিফ লুলু মিয়া।

তিনি জানিয়েছেন, ‘আমার ভাইপো ২০১৫ সালের এপ্রিল মাসে লন্ডন থেকে বাংলাদেশে আসে। এক মাস দেশে থাকার পর তারা আবার লন্ডনে ফিরে যাবে বলে আমাকে জানায়। তারা সেখানে গিয়েছে কি না, তা জানার জন্য লন্ডনে আমার অন্য আত্মীয়দের সঙ্গে যোগাযোগ করেছি। তারা আমাকে জানিয়েছে, তুরস্কে যাওয়া পর্যন্ত তাদের সঙ্গে ফোনে কথা হয়েছে। এরপর আর কোনও খবর নেই।

এরপর আমরা ব্রিটিশ পুলিশসহ আত্মীয়স্বজনের মাধ্যমে খবর পেয়েছি, আইএস জঙ্গিদের সাহায্য করতে পরিবারের ১২ জন সদস্যসহ নবীন সিরিয়ায় চলে গিয়েছে। সেদেশে যাওয়ার নেপথ্যে রয়েছে নবীনের ছোট বোন রাজিয়া বেগম। কয়েক মাস আগে লন্ডন থেকে রাজিয়াসহ তার তিন বান্ধবী লন্ডনের হিথ্রো বিমানবন্দর হয়ে তুরস্কে যেতে চাইলে সেখানকার পুলিশ তাদের যেতে দেয়নি। তাদের কোনও খোঁজখবর আমরা কেউ জানি না।’

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, অস্ত্র হাতে নবীন হোসেনের ছবি লন্ডন প্রবাসী আত্মীয়দের মাধ্যমেই বাংলাদেশে আসে। ব্রিটেনের বেড ফোর্ডশায়ারের লুটন শহরে স্থায়ীভাবে বসবাস করত আবদুল মান্নান। ষাটের দশকে সে লন্ডনে পাড়ি জমায়। লন্ডনে তার প্রথম স্ত্রী মারা যাওয়ার পর মান্নান মৌলভীবাজারে কুলাউড়ার মিনারা বেগমকে দ্বিতীয় বিয়ে করে। তাদের সব ছেলে-মেয়ের জন্ম লন্ডনে। তবে লন্ডনে এখনও মান্নানের প্রথম স্ত্রীর সন্তানরা রয়েছেন।

এই দ্বিতীয় পক্ষের সন্তান নবীন হোসেন। প্রায় দুই বছর আগে নবীনদের পরিবারের ১২জন সদস্য নিখোঁজ হওয়ার পর বিষয়টি ব্রিটিশ হাইকমিশনকে লিখিতভাবে অভিযোগ করা হয়েছিল। এরপর ব্রিটিশ হাইকমিশনের কর্মীরা লন্ডনসহ বাংলাদেশের বাড়িতে এসেও খোঁজ খবর নিয়ে যান।

সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত ওসি আবদুস সালেক বলেন, ‘পুলিশ নবীনদের বাড়িতে গিয়ে সব ধরনের তথ্য ও ছবি সংগ্রহ করেছে। অস্ত্র হাতে যে যুবকটির ছবি পাওয়া হাতে এসেছে, তার নাম নবীন। প্রায় দু’বছর আগে নবীন তার বোন রাজিয়া বেগমের মাধ্যমে সিরিয়ায় গিয়েছে বলে বাড়িতে থাকা নবীনের কাকা লতিফ মিয়া পুলিশকে জানিয়েছেন।’ নবীন কোথায় এখনও জানা না গেলেও নজরদারি আরও জোরদার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

Leave a Reply

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

7 + 3 =