একনেক সভায় ২৯১২ কোটি টাকায় ২৪টি জেলায় ৬১টি সেতু এবং রেলের২৫০ কোচ ও ১০ ইঞ্জিন ক্রয় প্রকল্প অনুমোদন

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

250 boggy PM Apprvdরেলসেবার মানের আধুনিকায়নে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে অনুমোদন দেয়া হলো  ২৫০টি নতুন যাত্রীবাহী কোচ ও ১০টি ইঞ্জিন ক্রয় করার। জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় বাংলাদেশ রেলওয়ের পৃথক দুটি প্রকল্প অনুমোদন দেয়া হলো।বাংলাদেশ রেলওয়ে প্রকল্প দুটো ২০১৯ সালের জুন নাগাদ শেষ করার লক্ষ্য নিয়েছে। শেরেবাংলানগরস্থ এনইসি সম্মেলনকক্ষে অনুষ্ঠিত একনেক সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। অনুমোদিত প্রকল্প দুটোর প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছে ২ হাজার ১০৮ কোটি টাকা। এ ব্যয়ের মধ্যে সরকার ৫৭৪ কোটি টাকা দেবে বাকি ১৫৩৪ কোটি টাকা এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) প্রকল্প সাহায্য হিসেবে দেবে।

বৈঠক শেষে পরিকল্পনা মন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল সাংবাদিকদের জানান—১৩৭৪ কোটি টাকার বাংলাদেশ রেলওয়ের জন্য মিটার গেজ এবং ব্রড গেজ প্যাসেঞ্জার ক্যারেজ সংগ্রহ নামক প্রকল্পের আওতায় ২০০টি মিটার গেজ এবং ৫০টি ব্রড গেজ কোচ কেনা হবে। এ ছাড়া, কোচগুলো ধুয়ে পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য ২টি ট্রেন ওয়াশিং প্ল্যান্ট এ প্রকল্পের আওতায় কেনা হবে। অন্য দিকে, ৭৩৪ কোটি টাকার লোকোমোটিভ রিলিফ ক্রেন এবং লোকোমোটিভ সিমুলেটর সংগ্রহ নামক অপর একটি প্রকল্পের আওতায় ১০টি ইঞ্জিন, ৪টি অ্যাকসিডেন্ট রিলিফ ক্রেন এবং একটি লোকোমোটিভ সিমুলেটর কেনা হবে। সভায় আরো জানানো হয়—মিটার গেজে চলার উপযোগী ১১৬৫টি যাত্রীবাহী কোচ বর্তমানে বাংলাদেশ রেলওয়ের রয়েছে, যার মধ্যে ৫৯১টির অবস্থা ভালো নয়। ফলে, বাংলাদেশ রেলওয়ে আরামদায়ক ও নিরাপদ যাত্রীসেবা দিতে পারছে না।

ব্রড গেজে চলার জন্য রেলওয়ের ৩২৪টি কোচ রয়েছে, যার মধ্যে ৭৮টির অর্থনৈতিক সময়কাল শেষ হয়ে গেছে। নতুন রেলওয়ে কোচ কেনা হলে তা ইন্টারসিটি ট্রেন হিসেবে চলবে। একই সাথে পুরোনো কোচগুলো নতুন কোচ দিয়ে স্থানান্তরিত হবে। স্থানান্তরিত পুরোনো কোচগুলো পরবর্তীতে মেইল ট্রেন ও লোকাল ট্রেন হিসেবে চলাচল করবে।

সভায় ৬২৫১ কোটি টাকায় ১০টি প্রকল্পের অনুমোদন দেয়া হয়। এর মধ্যে ৭টি নতুন এবং ৩টি সংশোধিত। মোট ব্যয়ের মধ্যে সরকারি অর্থায়ন ২৬৭৩ কোটি টাকা। বাকি ৩৫৭৮ কোটি টাকা প্রকল্প সাহায্য।

দেশের পশ্চিমাঞ্চল ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২৪টি জেলায় ৬১টি ছোট ও মাঝারি সেতু নির্মাণে আজকের একনেক সভায় ২৯১২ কোটি টাকার ‘ওয়েস্টার্ন বাংলাদেশ ব্রিজ ইমপ্রুভমেন্ট প্রজেক্ট’ নামক অপর একটি প্রকল্পের অনুমোদন দেয়া হয়।  ৬১টি সেতুর দৈর্ঘ্য একত্রে ৪৭১৫ মিটার।

অনুমোদন পাওয়া অন্য প্রকল্পগুলো হলো—৪৫ কোটি টাকা ব্যয়ে আধুনিক সুবিধাসহ ন্যাশনাল প্রোডাকটিভিটি অর্গানাইজেশন (এনপিও) ও পেটেন্ট, ডিজাইন ও ট্রেডমার্কস অধিদপ্তরের (ডিপিডিটি) অফিস ভবন নির্মাণ, ২১৮ কোটি টাকা ব্যয়ে ঢাকা জেলার দোহার উপজেলাধীন আওরঙ্গাবাদ হতে ব্রাহা বাজার ঘাট পর্যন্ত পদ্মা নদীর বামতীর সংরক্ষণমূলক কাজ, ১৭৩ কোটি টাকা ব্যয়ে সোনাপুর (নোয়াখালী)-সোনাগাজী (ফেনী)-জোরারগঞ্জ (চট্টগ্রাম) সড়ক উন্নয়ন প্রকল্প এবং ২৫৬ কোটি টাকা ব্যয়ে বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালসের উন্নয়ন প্রকল্প। এ ছাড়া সংশোধিত তিনটি প্রকল্প ২১৮ কোটি টাকা ব্যয়ে শেরেবাংলা নগরে বাংলাদেশ জাতীয় সচিবালয় কর্মকর্তা/কর্মচারীদের জন্য ৪৪৮টি ফ্ল্যাট নির্মাণ প্রকল্প (১ম সংশোধিত), ১১১ কোটি টাকা ব্যয়ে সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন প্রকল্প (২য় সংশোধিত) এবং ২১০ কোটি টাকা ব্যয়ে প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন প্রকল্প (১ম সংশোধিত)।

Leave a Reply

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

10 + 9 =