একযোগে সারাদেশ শুদ্ধসুরে গেয়ে উঠল ‘আমার সোনার বাংলা’

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

জাতীয় সংগীত গাইতে হবে নিয়ম মেনে , জাতীয় দিবস উপলক্ষে জাতি আজ সারাদেশে এবং বিদেশে বাংলাদেশ মিশনে সকাল ৮টা ৮ মিনিটে শুদ্ধ সুরে কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত জাতীয় সংগীত ‘আমার সোনার বাংলা’ পরিবেশন করেছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আজ সকালে বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে এক শিশু কিশোর সমাবেশে সুদ্ধ সুরে জাতীয় সংগীত পরিবেশনের শুভ সূচনা করেন।

প্রধানমন্ত্রী শুদ্ধ সুরে জাতীয় সংগীত পরিবেশনের ওপর সারাদেশে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে অনুষ্ঠিত প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কারও বিতরণ করেন।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ও মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের তত্ত্বাবধানে ২০ জানুয়ারি থেকে ১৫ মার্চ পর্যন্ত সারাদেশে প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শুদ্ধ সুরে জাতীয় সংগীত পরিবেশন প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। এই প্রতিযোগিতায় প্রাথমিক মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক এবং মাদ্রাসা পর্যায়ে প্রায় ৬৩ লাখ শিক্ষার্থী অংশ নেয়। ১৫ মার্চ জাতীয় পর্যায়ে এই প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়।

এদিকে লন্ডনস্থ বাংলাদেশ হাইকমিশনেও শুদ্ধ সুরে জাতীয় সংগীত পরিবেশিত হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন যুক্তরাজ্য সফররত পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মো. শাহরিয়ার আলম। অনুষ্ঠানে হাইকমিশানার মো. নজমুল কাওনাইনসহ মিশনের কর্মকর্তাগণ এবং যুক্তরাজ্যে বসবাসরত বাংলাদেশের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ ও সাংবাদিকগণ উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, শুদ্ধভাবে জাতীয় সংগীত চর্চাকে অনুপ্রাণিত করতে এবার স্বাধীনতা দিবসে সারা বিশ্বে ‘আমার সোনার বাংলা’ একযোগে পরিবেশন করার সিদ্ধান্ত  সোমবার সরকারের এক তথ্য বিবরণীতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

তথ্য বিবরণীতে বলা হয়, শুদ্ধভাবে জাতীয় সংগীত চর্চাকে অনুপ্রাণিত করতে আগামী ২৬ মার্চ স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসে বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সালাম গ্রহণকালে জাতীয় সংগীত পরিবেশন করা হবে। ওইদিন একই সাথে সারা দেশ ছাড়াও প্রবাসে একযোগে জাতীয় সংগীত পরিবেশন করা হবে। দেশের সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে দলগত জাতীয় সংগীতের একটি প্রতিযোগিতাও চলছে। এ লক্ষ্যে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের একটি কমিটি কাজ করছে।

বিবরণীতে জানানো হয়, ২০ থেকে ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসা পর্যায়ে আন্তঃশ্রেণি প্রতিযোগিতা শেষ  হয়েছে। ১ থেকে ৭ ফেব্রুয়ারি চলছে ইউনিয়ন পর্যায়ের প্রতিযোগিতা।

আগামী ১০ থেকে ১৫ ফেব্রুয়ারি উপজেলা পর্যায়ে, ২২ থেকে ২৮ ফেব্রুয়ারি জেলা পর্যায়ে এবং ৫ থেকে ১১ মার্চ বিভাগীয় পর্যায়ে প্রতিযোগিতা হবে। আর ১৫ থেকে ২০ মার্চ হবে চূড়ান্ত প্রতিযোগিতা।

জাতীয় সংগীত শুদ্ধভাবে পরিবেশনা নিশ্চিত করতে ইতিমধ্যে শিল্পকলা একাডেমি অনুমোদিত জাতীয় সংগীতের সিডি ও সফট ভারসন মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ও সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে আপলোড করা হয়েছে।

এর আগে ২০১৪ সালে একসাথে সবচেয়ে বেশি সংখ্যক মানুষের জাতীয় সংগীত গাওয়ার রেকর্ড গড়ে বাংলাদেশ। গিনেস বুক অব ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস অনুযায়ী, ওই বছর ২৬ মার্চ ঢাকার জাতীয় প্যারেড গ্রাউন্ডে দুই লাখ ৫৪ হাজার ৫৩৭ জন মানুষ একসাথে জাতীয় সংগীত গেয়ে এ রেকর্ড গড়ে।

Leave a Reply

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

twelve + thirteen =