‘এনআইএ’ তিন সদস্যের প্রতিনিধিদল দ্বিতীয় দফায় ঢাকায়

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

NIAভারতের জাতীয় তদন্ত সংস্থার (এনআইএ) তিন সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল দ্বিতীয় দফায় ঢাকা এসেছে। শনিবার সন্ধ্যায় এনআইএ’র সদস্যরা ঢাকায় পৌঁছেন। এনআইএ’র মহাপরিদর্শক সঞ্জীব কুমার সিং তিন সদস্যের এই প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। আগামী ৭ মে পর্যন্ত তাদের ঢাকায় অবস্থানের কথা রয়েছে।নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পুলিশ সদর দফতরের উচ্চপদস্থ একজন কর্মকর্তা বলেন, সম্প্রতি আশুলিয়ায় ব্যাংক ডাকাতির পেছনে জঙ্গি সংগঠন আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের সম্পৃক্ততা বেরিয়ে আসার পর এনআইএ ওই ঘটনা-পরবর্তী তৎপরতা গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।জঙ্গি ও চরমপন্থী সংগঠনের বর্তমান তৎপরতার বিষয়েও জানতে চেয়েছে তারা।

বাংলাদেশের অভ্যন্তরে জঙ্গি পরিস্থিতি ও চরমপন্থী মতবাদের বিস্তার, মানব পাচার, সীমান্তের অরক্ষিত অংশ এবং উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় সাত রাজ্যের নিরাপত্তা নিয়ে প্রতিবেশী দেশ ভারতের উদ্বেগ প্রকাশ করেছে সেদেশের সরকার। ২০১৪ সালে  পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমানে বোমা বিস্ফোরণের ঘটনা ভারত এবং প্রতিবেশী দেশগুলোতে উদ্বেগের মাত্রা বাড়িয়ে তুলেছে। এ বিষয়গুলোকে দু’দেশের অভিন্ন সমস্যা ,যা যৌথভাবে মোকাবেলা করা জরুরী।

তবে এনআইএ প্রতিনিধিদলের এ সফরের বিষয়ে এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে কিছুই প্রকাশ করা হয়নি। ধারণা করা হচ্ছে, ৬মে পুলিশ সদর দফতরে অনুষ্ঠিতব্য দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের মধ্য দিয়ে এনআইএ প্রতিনিধিদলের বাংলাদেশ সফরের বিষয়টি প্রকাশ করা হতে পারে।

ঢাকা মহানগর পুলিশের একজন কর্মকর্তা রোববার বলেন, এনআইএ মনে করে- বাংলাদেশে জঙ্গি তৎপরতার বিস্তার ঘটলে ভারতের জন্য তা স্বস্তিদায়ক হবে না। বর্ধমানের খাগড়াগড়-কাণ্ডের পর বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ জঙ্গি পরিস্থিতি তারা সতর্কভাবে পর্যবেক্ষণ করে চলেছে।

জঙ্গি ও চরমপন্থীদের তৎপরতা নিয়ে এনআইএ’র আগ্রহের বিষয়ে জানতে চাইলে পুলিশের তদন্ত সংস্থা সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার (অর্গানাইজড ক্রাইম) মির্জা আবদুল্লাহেল বাকী রোববার বলেন, এ বিষয়ে ২০০৫ সাল থেকে গভীরভাবে কাজ করছে সিআইডি। বিশেষ করে জেএমবির বাংলা ভাই, ৬৪ জেলায় একযোগে বোমা হামলা ও হুজি-সংক্রান্ত মামলাগুলোর বেশিরভাগ সিআইডি তদন্ত করছে। এসব মামলা ও ঘটনার সঙ্গে জড়িত আসামিদের বিষয়ে জানতে চেয়েছে এনআইএ। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এনআইএ মনে করে বাংলাদেশে এসব বিষয় নিয়ন্ত্রিত না হলে সেটা  ভারতের জন্য ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়াবে। তাই জঙ্গী  নিয়ন্ত্রণে তারা আমাদের সহায়তা দিতে চায়।

উল্লেখ্য ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় সাতটি রাজ্যের নিরাপত্তা নিয়ে দেশটির উদ্বেগ রয়েছে। বিশেষ করে এই সাত রাজ্য ঘিরে থাকা উভয় দেশের সীমান্ত এলাকা দুর্গম হওয়ায় তা নিবিড় পর্যবেক্ষণের আওতায় আনা যাচ্ছে না। এ সুযোগে এসব এলাকায় জঙ্গিগোষ্ঠী তৎপরতা চালাতে সক্ষম হচ্ছে। এ অবস্থায় উভয় দেশের তরফ থেকে সেসব এলাকায় ২৪ ঘণ্টা হেলিকপ্টার পর্যবেক্ষণের কথাও ভাবা হচ্ছে।

এছাড়া বাংলাদেশ থেকে মানব পাচারের বিষয়েও ভারত উদ্বিগ্ন। বিশেষ করে ভারতের মুম্বাই ও পুনেতে প্রচুর বাংলাদেশি নারী পাচারের শিকার হয়ে আটকে পড়েছেন। এদের অনেককে ভারতের বিভিন্ন পতিতালয়ে বিক্রি করে দেয়া হয়েছে।সম্প্রতি কয়েকশ’ নারীকে এই দুই শহরের বিভিন্ন পতিতালয় থেকে উদ্ধার করে শেল্টার হোমে রাখা হয়েছে। এ অবস্থায় নারী পাচার রোধে আরো সজাগ হওয়ার জন্য বাংলাদেশের আইনশৃংখলা বাহিনীকে অনুরোধ জানিয়েছে এনআইএ। ভারতে মানব পাচারের বিষয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ২০১২ সাল পর্যন্ত তথ্য রয়েছে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০১২ সালে ভারতে পাচারের শিকার হন ৪২২ জন। এদের মধ্যে ৩৩৩ জনকেই উদ্ধার করা গেছে। তবে পুলিশের উচ্চপর্যায়ের একাধিক কর্মকর্তা বলেন, যারা ভারতে পাচারের শিকার হন তাদের ক্ষুদ্র অংশকেই উদ্ধার করা সম্ভব হচ্ছে। ফলে পাচারকৃতদের প্রকৃত সংখ্যা জানা সম্ভব হচ্ছে না। এদিকে ভারতে পলাতক বাংলাদেশি সন্ত্রাসীদের গ্রেফতারের বিষয়টিও আলোচনায় উঠে আসছে।

গত বছর ১৮ নভেম্বর এনআইএ’র একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল বাংলাদেশ সফরকালে ভারতে পলাতক ৪১ জন জঙ্গি সন্ত্রাসীর তালিকা হস্তান্তর করে ঢাকা। দীর্ঘদিন ধরে ভারতে আত্মগোপনে থাকা এসব সন্ত্রাসীকে গ্রেফতারে এনআইএ’র সহযোগিতাও চায় বাংলাদেশ।

প্রসঙ্গত, গত বছর ২ অক্টোবর পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমানের খাগড়াগড়ের একটি বাড়িতে বোমা বিস্ফোরণের ঘটনায়  বাংলাদেশের শাকিল আহমেদ ও সুবহান মণ্ডল নামে দু’জন মারা যান এবং একজন আহত হন। এ হামলার তদন্তে বাংলাদেশি জঙ্গিদের নাম উঠে আসে। এর পরিপ্রেক্ষিতে এনআইএ প্রধান শারদ কুমারের নেতৃত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল বাংলাদেশ সফর করে।

Leave a Reply

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

one × 5 =