এবার জঙ্গী স্টাইলে ব্যাংকে ডাকাতি: পুলিশ তদন্তে নেমেছে

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

Savar Bank Robbery 01জঙ্গী স্টাইলে ব্যাংকে ডাকাতি হলো সাভারে । দেশে ব্যাংক খাতে এতো দুর্ধর্ষ ডাকাতির ঘটনা এবার ই প্রথম । সাভারের আশুলিয়ায় বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংকে  মঙ্গলবার ডাকাতির ঘটনায় ৭ জন নিহত হয়েছে। ডাকাত দল পালানোর পথে শুধু এলোপাতাড়ি গুলি, বোমার বিস্ফোরণই ঘটায়নি। ছুরি চালিয়েও অনেককে হতাহত করেছে।ডাকাতদের ব্যবহৃত বোমার কয়েকটিতে ব্যাটারি সংযোগ দেওয়া ছিল। এগুলো টাইমবোমা বলে মনে করছেন বোমাবিশেষজ্ঞরা। এ ছাড়া তারা দেশে তৈরি গ্রেনেডও ব্যবহার করেছে।
গোয়েন্দা বিশেষজ্ঞরা বলেন, এ ধরনের গ্রেনেড ও বোমা ব্যবহার করার আগে প্রশিক্ষণের প্রয়োজন রয়েছে। তাদের আসল উদ্দেশ্য কী, ডাকাতদের সঙ্গে কোনো জঙ্গি সংগঠনের সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ব্যাংক ডাকাতির জন্যেই এই জঙ্গী ডাকাত দল সেই এলাকায় বাসা ভাড়া নিয়েছে বলে সন্দেহ করছে  র‍্যাব ,পুলিশ এবং স্থানীয় জনগণ।
আশুলিয়ার কাঠগড়া এলাকায় বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংকে ডাকাতদের আক্রমণের ধরন পুরোপুরি ভিন্ন। এদের ব্যবহৃত অস্ত্রের মধ্যে ছিল ছুরি, চাপাতি এবং হাতে তৈরি গ্রেনেড। এরা কোনো জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ত কি না, তা খতিয়ে দেখা  বলে জানিয়েছেন পুলিশ কর্মকর্তারা।
পুলিশ বলছে, ব্যাংকের ভেতরে সিসিটিভি থাকা সত্ত্বেও ডাকাতেরা কেউই মুখ ঢাকেনি। তাদের ব্যাগে মাংকি ক্যাপ পাওয়া গেছে, যা তারা ব্যবহার করেনি। পুলিশ সিসিটিভির ক্যামেরার ফুটেজ বিশ্লেষণ করছে।
আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোস্তফা কামাল বলেন,ধরা পড়া দুই ডাকাতের গ্রামের বাড়িতে খবর নিয়ে তাদের পরিবারের বিষয়ে কিছু তথ্য মিলেছে। ১৫-২০ দিন আগে কালিয়াকৈরের চন্দ্রা এলাকায় তারা বাসা ভাড়া নেয়।
স্থানীয় লোকজন জানায়, ডাকাতির আগে এলাকা সম্পর্কে তথ্য নিয়েছে ডাকাতেরা। পুলিশ বলছে, ব্যাংকের ভল্টের চাবি না পাওয়ায় ডাকাতেরা ক্যাশে থাকা টাকা লুট করে পালিয়ে যায় । কিন্তু তাদের উদ্দেশ্য ছিল ভল্টের টাকা।সাধারণ কোন  ডাকাত এ রকম জায়গায় দিনের বেলায় ডাকাতির চেষ্টা করবে, এটা ভাবা যায় না।
পা হারাতে হলো শরিফুলের
ডাকাতদের বোমার আঘাতে সবজি ব্যবসায়ী শফিকুল ইসলামের বাঁ পা ছিন্নভিন্ন হয়ে গেছে। তার বাঁ পায়ের পাতা কেটে ফেলতে হয়েছে;ডান পায়ের আঘাতও গুরুতর। সাভারের এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে শফিকুলকে। পা হারিয়ে কীভাবে জীবিকা নির্বাহ করবেন এ উদ্বেগে দিন কাটাচ্ছেন শফিকুল।
শফিকুল বলেন, তিনি চুল কাটাতে যাচ্ছিলেন। ডাকাতের কথা শুনে মসজিদের কাছে এগিয়ে গেলে দেখেন, একজন অস্ত্র উঁচিয়ে বলছে, ‘আসলেই গুলি করব। কেউ আগাবি না।’ এর পরই একজন তাঁর পায়ের কাছে বোমা মারে।
এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে দুই ডাকাতসহ গতকাল রাতে ১৬ জন চিকিৎসাধীন ছিল। গুলি-বোমায় এরা সবাই আহত হয়েছে।
‘আমি বাবা বুড়া মানুষ। আমি ডাকাত ধরতেও যাইনি। পালানোর সুমায় হ্যারা আমার প্যাটে ছুরি মাইরা গেলো গা ” বললেন এনাম হাসপাতালে ভর্তি ঝালমুড়ি বিক্রেতা নুরুল ইসলাম। ব্যাংকের সিঁড়ির নিচেই পসরা সাজিয়ে বসেছিলেন তিনি। ডাকাতদের ধরার চেষ্টাও করেননি তিনি। তবু পালানোর সময় প্রায় ৬০ বছর বয়সী এই ব্যক্তির পেটে ছুরিকাঘাত করে এক ডাকাত।
ভ্যানগাড়ির চালক ৫০ বছরের রমজান আলী বলেন, ‘ডাকাত ডাকাত’ চিৎকার শুনে তিনি ব্যাংকের উল্টো দিকে মসজিদের কোনায় এসে দাঁড়ানো মাত্রই একটি বোমা ছুড়ে দেয় ডাকাতেরা। বোমার বিস্ফোরণে ঊরু ও হাতে গুরুতর আঘাত পান তিনি।
ডাকাতদের ধরতে নিজের গাড়ি নিয়ে ছুটে গিয়েছিলেন রনি দেওয়ান। তিনি বলেন, তিনি কাঠগড়ার বাসার সামনে নিজের গাড়িতে বসে ছিলেন। মাইকে ‘ডাকাত’ ‘ ডাকাত’ চিৎকার শুনে চাচাতো ভাই সোহেল ও নয়নকে নিয়ে বাজারের দিকে আসেন। এ সময় সবাই চিৎকার করছিল, ‘ওই যে ডাকাত গেল।’ তাঁরা দেখেন একটি বাজাজ ডিসকোভার মোটরসাইকেলে (ঢাকা মেট্রো হ ৪১-৬৬৭৬) দ্রুতগতিতে তিনজন পালিয়ে যাচ্ছে। তিনি গাড়ি নিয়ে ওই মোটরসাইকেলের পিছু ধাওয়া করেন। এই অবস্থায় প্রায় দেড় কিলোমিটার ধাওয়া করে পেছনে ধাক্কা দিলে মোটরসাইকেলটি ছিটকে পড়ে। তিনি গাড়ি থামাতে না থামাতেই ডাকাতেরা একটি বোমার বিস্ফোরণ ঘটায়। এ সময় মোটরসাইকেল আরোহী দুজন দৌড়ে পালাতে থাকেন। রনির গাড়িতে থাকা দুজন তাদের ধাওয়া করেন। রনি বের হয়ে মোটরসাইকেল নিয়ে পড়ে যাওয়া একজনকে ধরেও ফেলেন। তাদের ব্যাগে বেশ কিছু টাকাও পাওয়া যায়।
আমতলা বাজারের লোকজন ওই ডাকাতকে ধরে গণপিটুনি দেন। সেখানকার ব্যবসায়ী মো. আমিনুল বলেন, সেই ডাকাত প্যান্টের নিচে ফুটবল খেলার অ্যাঙ্কেলেট পরে ছিলেন। সম্ভবত সম্ভাব্য মার বা হামলা এড়াতে এ প্রস্তুতি। এ ছাড়া তাদের ব্যাগ থেকে আরও কয়েকটি গ্রেনেড ও একটি মুখ ঢাকার টুপি উদ্ধার করা হয়েছে।

Leave a Reply

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

sixteen − six =