“এভাবে কোন দেশ চলতে পারে না”-জাফর ইকবাল

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

বরেণ্য শিক্ষাবিদ, লেখক ড. মুহাম্মদ জাফর ইকবাল ব্লগার অনন্ত বিজয় দাশের হত্যাকাণ্ডে তীব্র নিন্দা ও দুঃখপ্রকাশ করে বলেছেন, “এভাবে কোন দেশ চলতে পারে না।”

অনন্তের বাড়িতে তার মা'কে স্বান্তনা দিচ্ছেন ড.জাফর ইকবাল এবং ড.ইয়াসমীন হক
অনন্তের বাড়িতে তার মা’কে স্বান্তনা দিচ্ছেন ড.জাফর ইকবাল এবং ড.ইয়াসমীন হক

জাফর ইকবাল অনন্ত বিজয় দাশকে দেখতে ওসমানি মেডিকেল হাসপাতালে মর্গে যান এবং সেখানে কিছু সময় কাটিয়ে উপস্থিত সংবাদকর্মিদের কাছে তাঁর প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন।

তিনি তারুণ্যের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন- যে কোন নৃশংস মৃত্যু আমাদের প্রথমে ভয় ধরিয়ে দেয়। আমাদের ভয় পেলে চলবে না। এই ভয়কে জয় করতে হবে।তিনি তরুণদের উদ্দেশে বলেন- তবু তোমরা ভয় পেয়ো না।তিনি অনন্ত বিজয় দাশের হত্যাকারীদের গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। জাফর ইকবাল, ইয়াসমিন হক  অনন্ত বিজয় দাশের বাড়িতে গিয়ে তাঁর মা’কে স্বান্তনা জানান।

মৃত্যুর কয়েক মিনিট আগেই ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দিয়েছিলেন অনন্ত। হয়তো তখনও অনন্ত বিজয় দাস জানতেন না এটাই তাঁর শেষ স্ট্যাটাস। স্ট্যাটাসটা দিয়েই হয়তো সুবিদ বাজারের বাসা থেকে বেরিয়েছিলেন তিনি। এরপরই হামলার শিকার হন তিনি।সকাল ৯টার দিকে সিলেটে গণজাগরণ মঞ্চের সংগঠক ও ব্লগার অনন্তকে নগরীর সুবিদ বাজার এলাকায় কুপিয়ে হত্যা করা হয়।

সম্প্রতি অধ্যাপক ড.জাফর ইকবাল কে চাবুক মারার কথা বলেছেন স্থানীয় সাংসদ। এর বিরুদ্ধে প্রতিবাদী পোস্ট দিয়েছেন অনন্ত।সেটাই তার শেষ স্ট্যাটাস।

“একজন ক্ষমতাসীন সাংসদ শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষককে প্রকাশ্যে চাবুক মারার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। চাবুক তো এক সময় জমিদারদের হাতে হাতে থাকত। প্রজাদের পান থেকে চুন খসলেই বলা নেই, কওয়া নেই চাবকিয়ে পিঠের চামড়া তুলে ফেলত তারা। কিন্তু জমিদাররা পুকুর চুরি করলেও কারও মুখে রা কাটতো না!ভাগ্য ভালো বলতে হয়, আমাদের এখন সেই আর জমিদারি যুগ নেই। তবে বিলুপ্তপ্রায় অঙ্গ অ্যাপেনডিক্সের মতো কতিপয় উচ্ছিষ্ট জমিদার রয়ে গেছে এখনও! জনাব সাংসদ, আপনি কোন অ্যাপেনডিক্স বংশের জমিদার,বলবেন কি?সাংসদের চাবুক মারার কথা শুনে আমারও অধ্যাপক আজাদের মতো জানতে ইচ্ছে করে, আপনি কী পাস সেটা এখন আর জানার দরকার নেই, আপনি কী ফেল সেটাই না-হয় বলুন! মেধা-গুণ-বুদ্ধিবৃত্তিক চর্চার কোনও দিক দিয়ে যে অধ্যাপকের হাঁটুর কাছে বসার যোগ্যতা এদের নেই তারাই আবার ওই অধ্যাপককে চাবুক মারার কথা বলে! কলিকালের শিক্ষা একেই বলে! সাংসদ ক্ষমতার জোরে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট মেম্বার হয়েছেন, তাতেই লঙ্কা বিজয় করে ফেলেছেন ভাবখানা ধারণ করে আছেন! একটা অনির্বাচিত সংসদের মেম্বার হয়েছেন, যেখানে লজ্জায় আপনাদের বিনম্র হওয়ার কথা, তা-না, উল্টো আপনাদের অনির্বাচিতদের ক্ষমতার দম্ভ দেখলে মনে হয়, বেহায়া আর কাকে বলে!

সাংসদ, কোন বিশ্ববিদ্যালয়ের দোরগোড়ায় আপনি কখনও গিয়েছেন কিনা সেটা জানার দরকার নেই আমাদের। আপনি বরং প্রাইমারি স্কুলের একজন শিক্ষককের নাম বলুন। বেঁচে থাকলে ওই শিক্ষককে আমরা জিজ্ঞেস করতাম, শৈশবে এরকম একটা বেয়াদবকে শিক্ষা দিয়ে নিজের অর্থপ্রাপ্তি ঘটানোর চেয়ে আপনার বরং কৃষিকাজই উত্তম ছিল। শিক্ষকতা পেশাকে কলুষিত করার কী দরকার ছিল!”

ব্লগার ও বিজ্ঞানমনস্ক লেখক অভিজিৎ রায়, ওয়াশিকুর রহমান বাবুসহ ব্লগার হত্যাকাণ্ড নিয়ে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে আলোচনায় এসেছে বাংলাদেশ। এর রেশ কাটতে না কাটতেই ঠিক একইভাবে নৃশংসতার স্বীকার হয়ে প্রাণ হারালেন মুক্তমনা ব্লগের আরেক লেখক অনন্ত বিজয় দাস। তাই ফের ফলাও করে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলোর সংবাদ হতে শুরু করেছে বাংলাদেশ।বেশ কিছু আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম গুরুত্বের সঙ্গে এই খবর প্রকাশ করেছে।’ বাংলাদেশে আরও এক ব্লগার খুন’ শিরোনামে বিবিসি বাংলা খবর প্রকাশ করেছে। সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার রহমত উল্লাহর বরাত দিয়ে বিবিসি জানায়, ধারালো অস্ত্র ও হাতুড়ি দিয়ে আঘাতের কারণে ঘটনাস্থলেই মারা যান অনন্ত। তিনি লেখালেখি করতেন এবং সম্প্রতি তার একটি বইও প্রকাশ হয়েছে।এছাড়া অনন্তের ঘনিষ্ঠ বন্ধুদের একজন বিনয় ভদ্রের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, ঢাকায় সম্প্রতি ওয়াশিকুর রহমানকে যেভাবে আঘাত করে হত্যা করা হয়েছিল অনন্তের ওপরও একইভাবে হামলা করা হয়েছে।লেবাননভিত্তিক ডেইলি স্টার ‘বাংলাদেশে তৃতীয় ধর্মনিরপেক্ষ ব্লগার খুন’ শিরোনামে খবর প্রকাশ করেছে। বার্তাসংস্থা এএফপিও গুরুত্বের সঙ্গে এই খবর প্রকাশ করেছে।

কাতারভিত্তিক সংবাদ মাধ্যম আল-জাজিরা জানায়, একদল মুখোশধারী অনন্তকে কুপিয়ে হত্যা করে। এটি চলতি বছর বাংলাদেশে তৃতীয় হত্যাকাণ্ড।

এছাড়া বার্তা সংস্থা এপি, রয়টার্স, ডেইলি মেইল, গার্ডিয়ান, ভারতের টাইমস অব ইন্ডিয়া, জি নিউজ, পাকিস্তানের ডন এই খবর গুরুত্ব সহকারে প্রকাশ করেছে।

Leave a Reply

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

15 + seventeen =