ঐক্য প্রক্রিয়ার দলগুলো একমঞ্চে, নেতা নির্বাচন নিয়ে মতদ্বৈধতা

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে যুক্তফ্রন্ট গঠনের পর জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়া বৃহত্তর ‘জাতীয় ঐক্য’ গঠনের জন্য পাঁচ দফা দাবিও ঘোষণা করেছে ৷ আর সেই ঘোষণার মূল বিষয় হল সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন ৷

তারই ধারাবাহিকতায় শনিবার ঢাকায় মহানগর নাট্যমঞ্চে সমাবেশের কর্মসূচি দেন ড. কামাল হোসেন৷ আর সেই সমাবেশের মঞ্চে হাজির হন বিএনপি’র মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাস আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ ও ড. আবদুল মঈন খান৷ আর জামায়াত ছাড়া বিএনপি-নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটের অন্য কয়েকটি শরিক দলের নেতাও যোগ দেন সমাবেশে ৷ অধ্যাপক বদরুদদোজা ওরফে বি চৌধুরী ছিলেন সমাবেশের প্রধান অতিথি আর অনুষ্ঠানে সভাপত্বি করেন ড. কামাল হোসেন৷

সমাবেশে ছিলেন জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল জেএসডি সভাপতি আ স ম আবদুর রব, গণফোরামের নির্বাহী সভাপতি অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা মহসীন মন্টু, আওয়ামী লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক সুলতান মোহাম্মদ মনসুর আহমেদ, জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের চেয়ারম্যান নূর হোসেন কাশেমী, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি (বিজেপি) চেয়ারম্যান আন্দালিভ রহমান পার্থ।

এছাড়া তেল-গ্যাস, বিদ্যুৎ-বন্দর ও খনিজ সম্পদ রক্ষা জাতীয় কমিটির আহ্বায়ক শেখ মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ, গণতান্ত্রিক বাম জোটের নেতা ও গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকিও যোগ দেন ঐক্য প্রক্রিয়ার সমাবেশে ৷

শনিবার মহানগর নাট্যমঞ্চে সমাবেশের পর ঐক্য প্রক্রিয়ার অন্যতম নেতা গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেনের চেম্বারে যান সমমনা দলগুলোর নেতারা। সেখানে বিকল্পধারা সভাপতি অধ্যাপক ডা. বদরুদ্দোজা চৌধুরীরকে আহ্বায়ক এবং ড. কামাল হোসেন ও বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে যুগ্ম আহ্বায়ক করার প্রস্তাব দেন তারা। কিন্তু বিরোধিতা থাকার কারণে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। ড. কামালের নেতৃত্বেই জাতীয় ঐক্য চালানোর পক্ষে অনেকে। বিএনপি নেতা একক নেতৃত্বের বিষয়ে ডা. একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরীকে আস্থায় নিতে পারছেন না। কারণ বিএনপির কাছে খবর আছে, তার ছেলে মাহি বি. চৌধুরীর সঙ্গে ক্ষমতাসীন দলের উচ্চপর্যায়ের ব্যক্তিদের ঘনিষ্ঠতা রয়েছে, তাদের সঙ্গে তার ব্যবসাও রয়েছে। এছাড়া মাহি বি. চৌধুরীর নানা কথাবার্তায়ও সন্দেহ আছে তাদের। এ অবস্থায় ড. কামাল হোসেনের ওপরই বিএনপির তুলনামুলক বেশি আস্থা। তবে কিছু নেতা সমস্যা সমাধানে ড. কামাল, বি. চৌধুরী, ফখরুলের যৌথ নেতৃত্ব চাচ্ছেন।
শনিবার নবগঠিত ঐক্য প্রক্রিয়ায় ড. কামাল হোসেনকে মূল নেতা হিসেবে ঘোষণা করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ফখরুল বলেন, এই ঐক্য প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ড. কামাল হোসেন দিশেহারা জাতিকে পথ দেখাচ্ছেন বলে মন্তব্য করেন। কিন্তু তা মানতে নারাজ বিএনপির কোন কোন নেতা। কারো একক নেতৃত্বে নয়, যার যার অবস্থান থেকে যুগপত্ আন্দোলনের কথা বলছেন তারা।
স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী গতকাল রবিবার গণমাধ্যমকে বলেন, এখন কারোর একক নেতৃত্বে কিছু হবে এমনটা এখনো হয়নি যার যার অবস্থান থেকে সবাই সামনে এগিয়ে যাচ্ছে। এখানে একতা থাকলেই যথেষ্ট। নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান বলেন, আন্দোলন যৌথ নেতৃত্বেও হতে পারে। স্টিয়ারিং কমিটির মাধ্যমে সবার সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। আন্দোলন কীভাবে হবে একমঞ্চে না যুগপত্, এ বিষয়েও সবার সঙ্গে আলোচনা হতে হবে। গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, দ্রুত সময়ের মধ্যে বৃহত্তর ঐক্য প্রক্রিয়ার নেতারা তিন বিভাগীয় শহর রাজশাহী, সিলেট ও ময়মনসিংহে জনসভা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এদিকে ড. কামাল হোসেন গতকাল ইডেন কমপ্লেক্সে গণফোরাম নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। তিনি সেখানে বলেন, জাতীয় ঐক্য জেলা, উপজেলা, গ্রাম পর্যায় পর্যন্ত বিস্তৃত করতে হবে।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সরকার ও রাজনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. তারেক শামসুর রহমান বলেন, ‘‘নির্বাচনের আগে এই ধরণের ঐক্য প্রক্রিয়া একটি উল্লেখযোগ্য রাজনৈতিক অগ্রগতি৷ আজকের (শনিবার) সমাবেশ বিরোধী দলের এই ঐক্য প্রক্রিয়াকে আরো সামনে নিয়ে যাবে৷ তবে শেষ পর্যন্ত কোন ইস্যুতে ঐক্য হবে তা এখনো স্পষ্ট নয়৷ কারণ প্রশ্ন আছে, ঐক্য জামাতকে নিয়ে না বাদ দিয়ে৷ খালেদা জিয়ার মুক্তি দাবি করা হবে কি না৷ যদিও মাহমুদুর রহমান আজকে খালেদা জিয়ার মুক্তি দাবি করেছেন৷ ঐক্যের ইস্যুগুলো এখনো চূড়ান্ত নয়৷ যদিও তারা বলছেন, তাদের ভিত্তি একটি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন৷ কিন্তু সেটার প্রক্রিয়া কী হবে? তারপরও আজকের সমাবেশ বড় ধরনের অগ্রগতি৷ তারা যদি এভাবে আগামীতে আরো কর্মসূচি দেন, তা নিঃসন্দেহে সরকারের ওপর বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি করবে৷”

তিনি বলেন, ‘‘আবার এটা এমন একটা নাগরিক ঐক্য, এখানে অনেক নেতারই নির্বাচনি এলাকা কোনটা হবে তা নিশ্চিত নয়৷ অতীতে এঁদের অনেকে নির্বাচনে জামানত হারিয়েছেন৷ তাই প্রশ্ন হলো, এদের সঙ্গে নির্বাচনি ঐক্যটা কীভাবে গড়ে তুলবে বিএনপি?”

আরেক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘‘বিএনপি অত্যন্ত সুচতুরভাবে এই জাতীয় ঐক্যের নেতা হিসেবে ড. কামালকে মেনে নিয়েছে৷ কারণ খালেদা জিয়া কারাগারে৷ তারেক রহমান আগামী নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না৷ বিএনপিতে এই ঐক্যের নেতৃত্ব দিতে তৃতীয় ব্যক্তি খুঁজে বের করতে সমস্যা আছে৷ ড. কামালের দেশে বিদেশে একটা ভালো যোগাযোগ আছে৷ তারা সেটা বিবেচনায় নিয়েছে৷”

 

Leave a Reply

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

1 × five =