করাচীর ক্লিফটন এলাকার বাংলোয় দাউদ:ঘিরে রেখেছে আইএসআই ও পাকিস্তানি রেঞ্জার্স

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

Daud -Pakশীর্ষ সন্ত্রাসী দাউদ ইব্রাহিম কাসকার ওরফে দাউদ ইব্রাহিম পাকিস্তানেই আছে -এমন  তথ্য-প্রমাণ উপস্থাপন করেছে ভারতের গোয়েন্দা সংস্থা রিসার্চ অ্যান্ড অ্যানালাইসিস উইং ‘র’। ইসলামাবাদ বরাবরই অস্বীকার করেছে পাকিস্তানে দাউদের অবস্থান নিয়ে। ভারতের গোয়েন্দা রিপোর্ট বলছে, করাচিতে ক্লিফটন এলাকার বাড়িতেই সপরিবারে রয়েছেন দাউদ।  সন্ত্রাস জঙ্গীবাদ প্রশ্নে কোন জবাবদিহিতা না করার জন্যে দু’দেশের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা পর্যায়ের বৈঠক বাতিল করে দিলো পাকিস্তান। যতো চেষ্টাই করুক তথ্যপ্রমাণ তুলে ধরে ও ইসলামাবাদকে কাঠগড়ায় তুলতে পারলো না নয়াদিল্লি।

এদিকে, দাউদ সম্পর্কিত খবর প্রকাশ্যে আসার পরই রাজনৈতিক মহলেও এ নিয়ে চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে।
কংগ্রেসের মুখপাত্র মনীশ তেওয়ারি বলেছেন, ‘এনডিএ বা আগের ইউপিএ সরকারের সবাই জানে দাউদ পাকিস্তানে লুকিয়ে আছে। এরকম অবস্থায় তাকে ফিরিয়ে আনার জন্য শক্ত পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন। ” মনীশ বলেন, ‘আমেরিকা যখন জানতে পেরেছিলো ওসামা বিন লাদেন পাকিস্তানে লুকিয়ে আছে, তারা কোনো সংবাদপত্রে তা প্রকাশ করেনি, বরং সেখানে গিয়েই তাকে হত্যা করেছে।’ বিশ্বজুড়ে সন্ত্রাসবাদ দমন করতে হলে দাউদের বিরুদ্ধে শক্ত পদক্ষেপ জরৃরী মনে করছে ভারত। তিনি বলেন, ‘দাউদ ভারতের ওসামা বিন লাদেন। পাকিস্তানে ঢুকেই তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে।’ বিসিসিআই সচিব অনুরাগ ঠাকুরও স্পষ্ট করে বলে দিয়েছেন, দাউদকে আশ্রয় দেওয়া বন্ধ না করলে পাকিস্তানের সঙ্গে ক্রিকেট খেলবে না ভারত। কেন্দ্রে ক্ষমতাসীন এনডিএ জোটের শরিক শিবসেনা সরকারকে পরামর্শ দিয়ে বলেছে, যদি সাহস থাকে তাহলে পাকিস্তানে ঢুকে তাকে ধরে নিয়ে আসা হোক।

১৯৯৩ সালের ১২ মার্চ মুম্বাই স্টক এক্সচেঞ্জে সিরিজ বোমা হামলায় কমপক্ষে ৩১৫ জন লোক নিহতের ঘটনার সঙ্গে জড়িত ছিলেন দাউদ ইব্রাহিম। সেই ঘটনার পর থেকে তিনি পাকিস্তানে গা ঢাকা দিয়ে আছেন প্রমাণ পেয়েছে ভারত।ভারতের এ অভিযোগ বরাবরই নাকচ করেছে পাকিস্তান। এবার এমন কিছু তথ্য-উপাত্ত ভারতের পক্ষ থেকে হাজির করা হয়েছে, যা দিয়ে ওই অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হয়েছে ।

Daud double pic

তথ্য-প্রমাণ মতে, দাউদ ইব্রাহিমের স্ত্রী মাহজাবিন শেখের নামে এ বছরের এপ্রিল মাসে করাচির ঠিকানার একটি টেলিফোন বিল এসেছে তাদের হাতে। পাওয়া গেছে দাউদের তিনটি পাকিস্তানী পাসপোর্ট। এতে আলাদা আলাদা ঠিকানা রয়েছে। এর মধ্যে সব থেকে পুরনো পাসপোর্ট তৈরি হয়েছে ১৯৯৬ সালে। করাচি থেকে দাউদের জন্য তৈরি সি-২৬৭১৮৫ নম্বরের পাসপোর্টটিতে নাম দেওয়া হয়েছে শেখ দাউদ হাসানের। বাকি দু’টি পাসপোর্টের মধ্যে একটিতে করাচির ঠিকানা রয়েছে। একটিতে রাওয়ালপিন্ডির ঠিকানাও রয়েছে।

১৯৯৩-র মুম্বই ধারাবাহিক বিস্ফোরণের মূল ষড়যন্ত্রকারী দাউদের শেষ যে ছবিটি গোয়েন্দাদের হাতে এসেছে; তাতে দাউদের গোঁফ কামানো। মাথার চুলও পাতলা হয়ে এসেছে। ভারতের গোয়েন্দারা বলছেন, চলতি বছরে করাচি থেকে দাউদ দুবাই গেছেন বলেও প্রমাণ পেয়েছেন তারা।

ভারতের গোয়েন্দা সূত্রে প্রকাশ, করাচিতের ক্লিফটন এলাকার যে বাংলোয় দাউদ থাকেন, সেটা ঘিরে রেখেছে  পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই এর  এজেন্ট ও পাকিস্তানি রেঞ্জার্সরা। সব মিলিয়ে করাচিতে দাউদের দশটা বাড়ি রয়েছে বলে প্রমাণ পেয়েছে ভারত। ইসালামাবাদেও তার গোটা তিনেক বাড়ি রয়েছে। যার মধ্যে রয়েছে আইএসআই-এর একটি ‘সেফ হাউস’-ও।

Leave a Reply

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

7 − three =