কামদুনির ধর্ষণ-খুনের মামলায় ৩ জনের ফাঁসি

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

দিল্লির নির্ভয়া কাণ্ডের পর ভারত সরকার প্রণীত নতুন আইন অনুসারে কামদুনির ঘটনাকে বিরলের মধ্যে বিরলতম হিসেবে বিবেচনা করে, ঘটনার দীর্ঘ আড়াই বছর পর পশ্চিমবঙ্গের কামদুনি ঘটনার সাজা ঘোষণা করলো ভারতীয় আদালত।

দেশব্যাপী চাঞ্চল্য সৃষ্টিকারী এ-মামলায় মোট আট জন অভিযুক্তের মধ্য ৬ জনকে বৃহষ্পতিবার দোষী সাব্যস্ত করে কলকাতার ব্যাঙ্কশাল দায়রা আদালত। এর মধ্যে তিনজনকে খুনের মামলায় দোষী সাব্যস্ত করা হয়। মামলাটির মূল আসামি সাইফুল আলি ছাড়াও আনসার আলি, শেখ ইমানুল ইসলাম, ভোলানাথ নস্কর ও আমিনুর ইসলামকে দোষী সাব্যস্ত করেছে, এবং শেখ আমিন ও রফিকুল গাজিকে বেকসুর খালাস দিয়েছে আদালত।

দায়রা জজ সঞ্চিতা সরকার দোষীদের মধ্যে সাইফুল, আমিন ও আনসারকে মৃত্যুদণ্ড এবং ভোলা, আমিনুর ও ইমানুলকে আমৃত্যু কারাদণ্ড প্রদান করেন। এ মামলার আরেক আসামি গোপাল নস্কর ইতোমধ্যে মারা গেছে।

বিগত ২০১৩’র ৭ জুন পশ্চিমবঙ্গের রাজারহাট ডিরোজিও কলেজে পরীক্ষা দিয়ে ফেরার পথে আক্রান্ত হন কামদুনির এক তরুণী। গণধর্ষণের পর তাকে খুন করে দুষ্কৃতীরা ।

 

কামদুনির ঘটনাপঞ্জী

২০১৩

৭ জুন: কামদুনিতে কলেজ ছাত্রীকে গণধর্ষণের পর খুন।

৮ জুন: ছাত্রীর মৃতদেহ উদ্ধার ও সিআইডি’র তদন্ত শুরু।

৯ জুন: ৮ অভিযুক্ত গ্রেপ্তার, একজন পলাতক।

১৭ জুন: কামদুনি গ্রামে গেলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

২৮ জুন: প্রথম অভিযোগপত্র পেশ বারাসত আদালতে।

৩ জুলাই: দ্বিতীয় অভিযোগপত্র  পেশ।

১৭ অগস্ট: কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশে কামদুনি মামলা বারাসত থেকে ব্যাঙ্কশাল আদালতে স্থানান্তরিত।

২৩ অগস্ট: ব্যাঙ্কশাল আদালতের দ্বিতীয় ফাস্ট ট্র্যাক কোর্টে বিচারপ্রক্রিয়া শুরু।

১০ সেপ্টেম্বর: ধৃত ৮ অভিযুক্তের বিরুদ্ধে ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩৭৬(এ), ৩৭৬(ডি), ৩০২, ১২০(বি), ৩৪ ধারায়  অভিযোগ গঠন।

১৮ সেপ্টেম্বর: রুদ্ধদ্বার কক্ষে সাক্ষ্যগ্রহণ পর্ব শুরু।

২০১৪

১৩ জানুয়ারি: পলাতক রফিকুল গাজি ধৃত। সেদিনই তার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন।

২০১৫

২২ ডিসেম্বর: গণধর্ষণ মামলার শুনানি শেষ ও রায়ের দিন ঘোষণা।

২০১৬

২৮ জানুয়ারি : ৬ জন দোষী সাব্যস্ত, বেকসুর খালাস ২ জন।

২৯ জানুয়ারি : দফায় দফায় শুনানি। সাজা নিয়ে রুদ্ধদ্বার কক্ষে আইনজীবীদের সঙ্গে কথা বলেন বিচারক।

৩০ জানুয়ারি : সাজা ঘোষণা করল নগর দায়রা আদালত: ৩ জনের ফাঁসি, ৩ জনের আমৃত্যু কারাবাস।

Leave a Reply

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

eight + 14 =