কামারুজ্জামানের রায়ের কপি যায়নি কারাগারে

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

জামায়াত নেতা মুহাম্মদ কামারুজ্জামানের মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখে আপিল বিভাগের রায়ের কপি আজ সোমবার রাত পৌনে আটটা পর্যন্ত ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে পৌঁছায়নি । ডিআইজি (প্রিজন) হায়দার আলী রাত পৌনে আটটার দিকে জানান, এ সংক্রান্ত কোনো কাগজপত্র এখনো তাঁদের হাতে আসেনি।সাধারণত, আপিল বিভাগ বা হাইকোর্ট বিভাগের যেকোনো আদেশ প্রথমে সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার কার্যালয়ে যায়। এরপর রেজিস্ট্রারের কার্যালয় ওই আদেশ সংশ্লিষ্টদের পাঠান। সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার সৈয়দ আমিনুল ইসলাম সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে জানান, সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রারের কার্যালয়ে এখনো রায়ের স্বাক্ষরিত অনুলিপি যায়নি।
আসামি পক্ষের আইনজীবী শিশির মনির বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে বলেন, বিচারপতিরা আদেশে স্বাক্ষর করেননি বলে তাঁরা জানতে পেরেছেন।
কামারুজ্জামানের সঙ্গে দেখা করতে তাঁর স্ত্রী নুরুন নাহারসহ পরিবারের ১১ সদস্য একটি মাইক্রোবাসে করে সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টার দিকে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের সামনে পৌঁছান। এর ১৫ মিনিট পরে সন্ধ্যা পৌনে সাতটার দিকে তাঁদের বহনকারী মাইক্রোবাসটি কারাগারের ভেতরে প্রবেশ করে।

সোমবার সকালে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মুহাম্মদ কামারুজ্জামানের ফাঁসির আদেশ বহাল রাখেন। সকাল নয়টা পাঁচ মিনিটে এজলাসে আসেন প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহাসহ আপিল বিভাগের চার বিচারপতি। বেঞ্চের অন্য সদস্যরা হলেন বিচারপতি মো. আবদুল ওয়াহ্হাব মিঞা, বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী ও বিচারপতি এ এইচ এম শামসুদ্দিন চৌধুরী।

আদেশের পর অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম প্রথম আলোকে বলেন, এখন মৃত্যুদণ্ড থেকে রেহাই পেতে হলে তাঁকে একমাত্র রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষার আবেদন করতে হবে। রাষ্ট্রপতি ক্ষমা করলে তবেই মৃত্যুদণ্ড থেকে রেহাই পাবেন তিনি।

তবে আসামি পক্ষের আইনজীবী শিশির মনির বলেন, পুনর্বিবেচনার রায়ের বিষয়ে কামারুজ্জামানকে জানানো হবে। রাষ্ট্রপতির কাছে ক্ষমা চাওয়া হবে কি না, তাঁর সঙ্গে কথা বলে তা ঠিক করা হবে।

একাত্তরে সোহাগপুর গ্রামে নির্বিচার হত্যাযজ্ঞের দায়ে ২০১৩ সালের ৯ মে কামারুজ্জামানকে ফাঁসির আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল-২। এই রায়ের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে আপিল করে আসামিপক্ষ। গত বছরের ৩ নভেম্বর আপিল বিভাগ সংখ্যাগরিষ্ঠ মতে ফাঁসির ওই আদেশ বহাল রাখেন। এরপর গত ১৮ ফেব্রুয়ারি আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশিত হয়। পরদিন ট্রাইব্যুনাল-২ মৃত্যু পরোয়ানায় সই করে কারাগারে পাঠালে সেখানে বন্দী কামারুজ্জামানকে তা পড়ে শোনানো হয়। পরে ৫ মার্চ ফাঁসির রায় পুনর্বিবেচনার আবেদন করে আসামিপক্ষ। আজ সেই আবেদন খারিজ করেন আপিল বিভাগ।

Leave a Reply

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

14 + 5 =