‘কালো শক্তির’ বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর আহ্বান জানালেন রাবি উপাচার্য

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

‘কালো শক্তির’ বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে না পারলে অধ্যাপক এ এফ এম রেজাউল করিম সিদ্দিকীর মতো সবাইকেই হয়তো খুন হতে হবে’ বললেন রাবি উপাচার্য অধ্যাপক মুহাম্মদ মিজানউদ্দিন। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে একের পর এক শিক্ষক খুন হবার পরও বিচার না পাওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করে রাবি উপাচার্য বলেন,“পিছনের দিকে তাকালে অনেক মানুষকে হত্যা করা হয়েছে সেটা আমরা দেখতে পাচ্ছি। এটা দেখে প্রতিদিন মনে হচ্ছে আমরা হত্যার মিছিলে শামিল হচ্ছি। যেভাবে শিক্ষক ও মুক্তমনাদের হত্যা করা হচ্ছে তাতে মনে হচ্ছে এবার আমাদের সবাইকে হত্যা করা হবে।”

নিহত অধ্যাপক রেজাউল করিমের জানাজা তর উপাচার্য অধ্যাপক ড. মিজানুর রহমান
নিহত অধ্যাপক রেজাউল করিমের জানাজা তর উপাচার্য অধ্যাপক ড. মিজানুর রহমান

অধ্যাপক রেজাউলের হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে রোববার বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির মৌন মিছিল শেষে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে এ কথা বলেন উপচার্য।

শনিবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে শালবাগানের সপুরা এলাকায় নিজের বাড়ি থেকে মাত্র ৫০ গজ খুন হন ইংরেজি বিভাগের শিক্ষক রেজাউল। মোটর সাইকেলে আসা দুই যুবক তাকে কুপিয়ে পালিয়ে যায় বলে প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানিয়েছে পুলিশ।
শিক্ষক রাজনীতি থেকে ‘দূরে থেকে’ অধ্যাপনা, সাহিত্য আর সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে মেতে থাকা ‘শান্তিপ্রিয়’ মানুষ হিসেবে পরিচিত রেজাউল করিমকে কারা-কেন হত্যা করলো, তার জবাব খুঁজে পাচ্ছেন না সহকর্মী ও শিক্ষার্থীরা।
তবে মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক জঙ্গিগোষ্ঠী আইএস এ হত্যার দায় স্বীকার করেছে বলে জঙ্গি হুমকি পর্যবেক্ষণকারী এক ওয়েবসাইট খবর দিয়েছে। পুলিশও জঙ্গি সংশ্লিষ্টতার সন্দেহের কথাই বলছে।

এর আগে ২০১৪ সালে এ বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞানের অধ্যাপক শফিউল ইসলাম, ২০০৬ সালে ভূতত্ত্ব ও খনিবিদ্যার এস তাহের আহমেদ এবং ২০০৪ সালে অর্থনীতির ড. ইউনুস খুন হন।

এক যুগে চার শিক্ষককে এভাবে হারানোর কথা মনে করিয়ে দিয়ে উপাচার্য বলেন, “শিক্ষকরা চরম সঙ্কটে পড়েছে। আমরা হত্যাকারীদের দেখতে পাচ্ছি না। তাদের বিচারও হচ্ছে না। আমার বিভিন্ন সহকর্মীকে হত্যার হুমকি দিয়ে চিঠি দেওয়া হচ্ছে। আমাদের এই মন শান্ত হবে না, যতক্ষণ পর্যন্ত ওই হত্যাকারীদের সামনে আনা না হবে।”

উপাচার্য বলেন, “এ ধরনের কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে ভয়ের সংস্কৃতি তৈরি করা হচ্ছে। আমাদের এই কালো শক্তির বিরুদ্ধে দাঁড়াতে হবে। আমরা যদি প্রতিরোধ করতে না পারি তাহলে আমাদের দুঃখ কখনোই মোচন হবে না।”

অধ্যাপক রেজাউল হত্যার প্রতিবাদে মানববন্ধন ও বিক্ষোভের পাশাপাশি সোমবার পর্যন্ত ক্লাস-পরীক্ষা বর্জনের কর্মসূচির পালন করছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি। বেশ কয়েকটি বিভাগের পূর্ব নির্ধারিত পরীক্ষাও স্থগিত করা হয়েছে।
রোববার সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের সব বিভাগের অফিস রুম খোলা থাকলেও শ্রেণিকক্ষগুলো বন্ধ দেখা যায়। ক্যাম্পাসের ব্যস্ততম এলাকা ‘টুকিটাকি চত্বর’ ছিল প্রায় ফাঁকা।Rezaul Killing Protest
পরে ইংরেজি বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা শহীদুল্লাহ কলা ভবনের সামনে থেকে শোক মিছিল শুরু করে ক্যাম্পাসের প্রধান সড়কগুলো প্রদক্ষিণ করেন। সিনেট ভবনের সমনে এসে শিক্ষক সমিতির মৌন মিছিল ও সমাবেশে একাত্মতা ঘোষণা করেন তারা।

সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক সাইদুর রহমান খান, ইংরেজি বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক এ এফ এম মাসউদ আখতার, অধ্যাপক মো. শহীদুল্লাহ, অধ্যাপক মো. জহুরুল ইসলাম এই সমাবেশে বক্তব্য দেন।

শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক শাহ আজম শান্তনু সমাবেশে বলেন, “বারবার কেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের এভাবে হত্যাকাণ্ডের শিকার হতে হচ্ছে? আমরা সরকারের কাছে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক বিচার চাই।”

সোমবারও ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধ রেখে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিলে প্রতিবাদ জানানো হবে বলে জানান তিনি।

ইংরেজি বিভাগের অধ্যাপক জহুরুল ইসলাম জানান, হত্যায় জড়িতদের শাস্তির দাবিতে আগামী মঙ্গলবার পর্যন্ত এ বিভাগে ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধ থাকবে। প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে সিনেট ভবনের সামনে প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করা হবে। এছাড়া সোমবার বিভাগে হবে শোকসভা।

এদিকে ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী ও বিভিন্ন সংগঠন এদিন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে দশ মিনিট মহাসড়ক অবরোধ করেন। পরে তারা মৌন মিছিল করে ক্যাম্পাসে ফেরেন।

Leave a Reply

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

8 + four =