খাগড়াছড়িতে ৬ হত্যার প্রতিবাদ বিক্ষোভে হামলায় শন কুমার চাকমা নিহত

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

ব্রাশফায়ারে ৬ জন নিহত হওয়ার প্রতিবাদে খাগড়াছড়িতে ইউপিডিএফের বিক্ষোভ চলাকালে হামলায় শন কুমার চাকমা ( ৫৫) নামে আরও ১ জন মারা গেছেন। শনিবার দুপুরে জেলার সদরের পেরাছড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

ব্রাশফায়ারে নিহতদের অন্যতম ধীরাজ চাকমা ঢাকার একটি কোম্পানিতে চাকরি করেন। ঈদের বন্ধে তিনি শনিবার সকালে ঢাকা থেকে খাগড়াছড়িতে আসেন। পানছড়ির উলুছড়িতে নিজ বাড়িতে যেতে গাড়ির জন্য অপেক্ষা করছিলেন ধীরাজ। সন্ত্রাসীরা তাকেও গুলি করেছে।

হাসপাতালে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন রূপম চাকমার মা সেবিকা চাকমা। তিনি বলেন, ‘রূপম কোনো দলের সাথে সম্পৃক্ত নয়। উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আমার ছেলে এবার এইসএসসি পরিক্ষার্থী ছিল। আমার ছেলের কী দোষ? আমার বুকটা কেন খালি করলো?

সূত্রে জানা যায়,‘পানছড়ি সড়কের বিভিন্ন বাজার বন্ধ, চাঁদাবাজি ও শনিবার সকালে স্বনির্ভর এলাকায় ব্রাশফায়ারে ৬ জন নিহত হওয়ার প্রতিবাদে মিছিল করে ইউপিডিএফ। এ সময় খাগড়াছড়ি শহর পৌঁছানোর আগে পেরাছড়া এলাকায় গুলিবর্ষণ করে সন্ত্রাসীরা।  শন কুমার চাকমা মাথায় আঘাত পান। এই ঘটনায় আরও তিনজন আহত হয়। তাদের উদ্ধার করে খাগড়াছড়ি সদর হাসপাতালে নিয়ে যায় স্থানীয়রা। পরে সেখানেই শন কুমার চাকমা মারা যান। খাগড়াছড়ি থানার ওসি সাহাদাত হোসেন টিটো ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

স্থানীয়রা জানান, দীর্ঘদিন থেকে ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট- ইউপিডিএফ (প্রসিত গ্রুপ) এবং ইউপিডিএফ (গণতান্ত্রিক) এই দুই গ্রুপের মধ্যে এলাকায় আধিপত্য নিয়ে বিরোধ চলছিল।

উল্লেখ্য ৬ জন নিহত হওয়ার ঘটনার প্রেক্ষিতে ,খাগড়াছড়ি সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাহাদাৎ হোসেন বলেন, ‘শনিবার সকালে গ্রামবাসীদের নিয়ে একটি বিক্ষোভ সমাবেশ করার কথা ছিলো ইউপিডিএফ-এর। আমরা সকালে ওই কর্মসূচির জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম। এর আগেই ঘটনাটি ঘটে। সন্ত্রাসীরা কয়েকটি গ্রুপে ভাগ হয়ে হামলাটি করেছে। প্রথমে পুলিশ বক্স লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে তারা। হামলায় সন্ত্রাসীরা সর্বোচ্চ ১৫ মিনিটের মতো সময় নিয়েছে। আমরা যে পাল্টা আক্রমণ করবো সেই সুযোগ ছিল না।তিনি বলেন, সন্ত্রাসীরা ভারী অস্ত্র দিয়ে হামলা চালায়। ইউপিডিএফ-এর কাছেও অস্ত্র ছিল। কিন্তু সন্ত্রাসীরা হঠাৎ আক্রমণ করায় ইউপিডিএফ সুবিধা করতে পারেনি।

ইউপিডিএফ’র জেলা সংগঠক মাইকেল চাকমা বলেন, এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। জনসংহতি সমিতির সংস্কারবাদীরা এ ঘটনায় জড়িত। তারা পাহাড়ে হত্যার রাজনীতিতে নেমেছে। তবে অভিযোগ অস্বীকার করে পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির তথ্য ও প্রচার সম্পাদক সুধাকর ত্রিপুরা বলেন, ঘটনাটি ইউপিডিএফ’র অভ্যন্তরীণ কোন্দলের ফল। এ ঘটনায় আমাদের পার্টি কোনভাবে জড়িত না।

ঘটনার পর থেকে খাগড়াছড়ি-পানছড়ি সড়কে যানচলাচল বন্ধ রয়েছে। স্বনির্ভর বাজারসহ আশপাশের এলাকার সব ধরনের দোকানপাটও বন্ধ হয়ে গেছে। স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। শহরে জোরদার করা হয়েছে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা।

 

Leave a Reply

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

19 − 15 =