রাজনৈতিক কোমা থেকে বেরিয়ে আসতে খালেদাকে নৌমন্ত্রীর আহ্বান

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

Ctg Port Ministerসিটি করপোরেশন নির্বাচনে অংশ নিয়ে বিএনপি’র চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে ‘রাজনৈতিক কোমা’ থেকে বেরিয়ে আসার জন্য আহ্বান জানিয়েছেন নৌ পরিবহন মন্ত্রী শাজাহান খান। চট্টগ্রাম বন্দরের ডিস্যালাইনেশন অ্যান্ড ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্টের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে শনিবার বিকেলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে  মন্ত্রী এ আহ্বান জানান।
শাজাহান খান। বলেন, ‘যখন দেখি আপনার দলের নেতারা হরতাল মানে না। বিএনপি নেতাদের মালিকানাধীন দেশের অর্ধেক গার্মেন্টস, অর্ধেক লঞ্চ, দোকানপাট, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হরতালে বন্ধ রাখছে না। নেতারা গাড়িতে চড়ে দলীয় কার্যালয়ে আসেন তখন বুঝতে হয়-ডাল মে কুচ কালা হায়। সেটি হচ্ছে-এ অবরোধ, হরতাল যে গণতন্ত্র রক্ষার জন্য নয়, যুদ্ধাপরাধীদের মুক্ত করার জন্য- সেটি তারা বুঝতে পেরেছেন। তাই আপনাকে গণতন্ত্রের পথে ফিরে আসতে হবে। আপনাকে অনুরোধ জানাবো জামায়াতকে তালাক দিন। সন্ত্রাসের পথ পরিহার করুন। নির্বাচনের পথ ধরুন। নইলে সব পথ রুদ্ধ হয়ে যাবে।’
পেট্রোলবোমা মেরে বেগম খালেদা জিয়া দেশের চেহারা, মানুষের চেহারা পাল্টে দিয়েছেন উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, ‘এত কিছুর পরও তার এতটুকু অনুশোচনা নেই। যে মহাপাপ তিনি করে চলেছেন তার শাস্তি বাংলার মাটিতেই হবে। ২০১৩ সালে ৫৫ জন চালক ও সহযোগী, ১৭ পুলিশ, ৩ বিজিবি জওয়ান, ২ মুক্তিযোদ্ধাকে পুড়িয়ে, পিটিয়ে, কুপিয়ে মারা হয়েছে। ২ হাজার গাড়ি পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। বায়তুল মোকাররমে জায়নামাজে আগুন দেওয়া হয়েছে। কোরআন শরিফ, হাদিস শরিফ পোড়ানো হয়েছে। পতাকা পোড়ানো হয়েছে। শহীদ মিনার গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। ধর্মীয় উপাসনালয় পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। এ বছর দেড়শ’ মানুষকে পুড়িয়ে মারা হয়েছে। এভাবে ক্ষমতায় যাওয়া দূরে থাক অস্তিত্বও খুঁজে পাবে না।’
আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বন্দরের উন্নয়নচিত্র তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, ‘চট্টগ্রাম বন্দরের ১২৮ বছর হলো। এটি বাংলাদেশের হৃদয়ের স্পন্দন, লাইফলাইন। এ বন্দরের উন্নয়ন প্রশ্নে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন। ইতিমধ্যে বন্দরে সিটিএমএস, ভিটিএমআইএস চালু করা হয়েছে। ২টি বে ক্লিনার জাহাজ, সাড়ে চার হাজার অশ্বশক্তির টাগ বোট, অ্যাম্বুল্যান্স শিপ, কনটেইনার জাহাজ কেনা হয়েছে। পানগাঁও কনটেইনার টার্মিনাল চালু করা হয়েছে। ট্রাক টার্মিনাল করেছি। ৩৪ বছর মাটির নিচে ছিল যে স্লিপওয়ে তা সচল করা হয়েছে। সিমুলেটর, মোবাইল স্ক্যানিং ভেহিক্যাল কিনেছি। ২০০৯ সালে লয়েডসের জরিপে এ বন্দরের অবস’ান ছিল ৯৮। এখন তা উন্নীত হয়েছে ৮৬তে। এ বছর আমাদের অবস’ান আরও ভালোর দিকে আসবে। আমরা পণ্যবাহী গাড়ির জন্য আরেকটি টার্মিনাল করবো। কর্মচারীদের থাকার জন্য ৩ হাজার ৬৬০টি নতুন ইউনিট করতে যাচ্ছি।’
তিনি বলেন, ‘চট্টগ্রাম বন্দর নিয়ে আমরা গর্ব করি। এ বন্দর বাঙালি জাতির ঐতিহ্যবাহী একটি প্রতিষ্ঠান। বন্দরের অর্থ শুধু বন্দরের কাজে ব্যয় হবে তা নয়। চট্টগ্রাম সিটির নাগরিকদের কল্যাণেও ব্যয় হবে। জলাবদ্ধতা নিরসনে টাস্কফোর্স কাজ করছে। মাল্টিপারপাস ড্রেজার কেনা হয়েছে। যেটি দিয়ে খাল খনন করা হচ্ছে। মহেশখালের ওপর স্লুইসগেট হবে। ফ্লাইওভার হবে।’
সকালে আরেকটি অনুষ্ঠান শেষে মন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেছিলেন, ‘খালেদা জিয়া বন্দিদশা থেকে মুক্ত হওয়ার জন্য একটি পরিবেশ তৈরি হয়েছে সিটি নির্বাচনকে ঘিরে। এর আগে কয়েকটি নির্বাচনী ট্রেন মিস করেছিলেন তিনি। আমরা আহ্বান জানাচ্ছি বিএনপিকে সিটি নির্বাচনে আসার জন্য। নির্বাচনের বাইরে থেকে কোনো গণতান্ত্রিক আন্দোলন হয় না। নির্বাচনকে ঘিরে জনমত তৈরি করতে পারেন। জনসম্পৃক্ততা সৃষ্টি করতে পারেন। সন্ত্রাস দিয়ে কোনো দেশে গণতান্ত্রিক বিজয় লাভ করা যায়নি।’ মন্ত্রী বিএনপি’র চলমান আন্দোলনকে অন্তঃসারশূন্য নিষ্ফল বলেও মন্তব্য করেন।
 ভদ্রলোক কোন’ কথা রাখেননি:মেয়র মনজুর আলমের দিকে ইংগিত 
চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র মনজুর আলমের দিকে ইংগিত করে মন্ত্রী বলেন, ‘বর্তমান মেয়রকে করপোরেশনের পাওনা বাবদ চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের তহবিল থেকে ১১২ কোটি টাকা এক চেকে দিয়েছিলাম। ভদ্রলোক কথা রাখেন নি। বন্দরের ট্রাক টার্মিনাল তৈরির জন্য জমির দাম চাইলেন ৩০০ কোটি টাকা। তার মতো ব্যক্তিত্ব আমার কথা রাখলেন না।’

 

Leave a Reply

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

ten − 8 =