খালেদার রাষ্ট্রদ্রোহ মামলার শুনানি শুরু

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে ঢাকার সিএমএম আদালতে দায়ের করা রাষ্ট্রদ্রোহ মামলার শুনানি শুরু হয়েছে।

মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের সংখ্যা নিয়ে কটূক্তি করায় সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মমতাজ উদ্দিন আহমদ মেহেদী আজ সোমবার সকালে মামলাটি দায়ের করেন। তিনি সশরীরে সিএমএম সংশ্লিষ্ট আদালতে এ আবেদন জমা দিয়েছেন বলে সূর্যবার্তা২৪.কম-কে জানান।

বেলা এগারটার দিকে মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট রাশেদ তালুকদারের আদালতে এর শুনানি শুরু হয়।

বাদীর পক্ষে শুনানিতে অংশ নিয়ে খালেদার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির আবেদন জানিয়েছেন অ্যাডভোকেট সাহারা খাতুন।

অন্যদিকে খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে আদালত চত্বরে বিক্ষোভ করছেন বিএনপিপন্থী আইনজীবীরা। ২৫/৩০ জন আইনজীবী এ বিক্ষোভে অংশ নিচ্ছেন।

গত বছরের ২১ ডিসেম্বর রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে ‘মুক্তিযোদ্ধা সমাবেশে’ খালেদা জিয়া বলেন, “মুক্তিযুদ্ধে শহীদের সংখ্যা নিয়ে বিতর্ক আছে। আজকে বলা হয়, এত লাখ লোক শহীদ হয়েছে। এটা নিয়েও অনেক বিতর্ক আছে।” বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নামোল্লেখ না করে খালেদা দাবি করেন, “তিনি বাংলাদেশের স্বাধীনতা চাননি। তিনি পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হতে চেয়েছিলেন। জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা না দিলে মুক্তিযুদ্ধ হতো না।”

এরপর ২৩ ডিসেম্বর বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার বক্তব্যে ‘দেশদ্রোহী’ মনোভাব পাওয়া যাচ্ছে অভিযোগ করে তা প্রত্যাহার করতে উকিল নোটিস পাঠান সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সাবেক সম্পাদক ড. মমতাজ উদ্দিন আহমদ মেহেদী। নোটিসের জবাব না পাওয়ায় ফৌজদারি কার্যবিধির ১৯৬ ধারা মোতাবেক রাষ্ট্রদ্রোহ মামলার অনুমোদনের জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আবেদন জানান তিনি।

গত ২১ জানুয়ারি রাষ্ট্রদ্রোহ মামলার অনুমোদন দেয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। রোববার (২৪ জানুয়ারি) এ অনুমোদনের চিঠি হাতে পেয়ে সোমবার বিচারিক আদালতে মামলা করেন মমতাজ উদ্দিন আহমদ মেহেদী।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, মমতাজ উদ্দিন ওই রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা করতে সম্প্রতি সরকারের উচ্চপর্যায়ের কাছে সহায়তা চান। এর পর সরকারের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহায়তার আশ্বাস দেওয়া হয়। এর ধারাবাহিকতায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে অনুমতি চেয়ে আবেদন করেন ওই আইনজীবী। মন্ত্রণালয় গত বৃহস্পতিবার তাঁকে মামলা করার অনুমতি দেয়।

মমতাজ উদ্দিন বলেন, খালেদা জিয়া যেসব বক্তব্য দিয়েছেন, তিনি মনে করেন সেটা রাষ্ট্রদ্রোহের শামিল। এখন আদালত পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখবেন, রাষ্ট্রদ্রোহমূলক অপরাধ হয়েছে কি হয়নি। মামলার পর ম্যাজিস্ট্রেট ২০০ ধারায় আবেদন আমলে নিয়ে খতিয়ে দেখবেন। অপরাধ হয়েছে কি হয়নি, খতিয়ে দেখে আদালত গ্রেপ্তারি পরোয়ানা দিতে পারেন, সমন দিতে পারেন।

আইনজীবীর আবেদনে জানানো হয়, বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া মুক্তিযুদ্ধে শহীদের সংখ্যা নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি করেছেন। এ ছাড়া জাতির পিতা ও আওয়ামী লীগ নিয়েও বিরূপ মন্তব্য করেছেন তিনি। এটা রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র ও রাষ্ট্রদ্রোহের শামিল বলে মনে করা হচ্ছে। এ ব্যাপারে আইনি নোটিশ দেওয়ার পরও তিনি ক্ষমা চাননি বা বক্তব্য প্রত্যাহার করেননি।

তবে মুক্তিযুদ্ধে শহীদের সংখ্যা নিয়ে খালেদা জিয়ার বক্তব্যে রাষ্ট্রদ্রোহের কিছু নেই বলে জানিয়েছেন তাঁর আইনজীবী ও সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি খন্দকার মাহবুব হোসেন। তিনি বলেন, দণ্ডবিধির ১২৪-এ ধারায় রাষ্ট্রদ্রোহের যে সংজ্ঞা দেওয়া হয়েছে, খালেদা জিয়ার বক্তব্য এ সংজ্ঞার মধ্যে পড়ে না। রাষ্ট্রদ্রোহ হয় যদি কেউ সরকার উৎখাতের চেষ্টা করে। যদি কেউ সরকারের প্রতি জনগণকে উসকে দেওয়ার জন্য বক্তৃতা দেয়, তাহলে সেটা রাষ্ট্রদ্রোহ। এখানে খালেদা জিয়া কোনো রাষ্ট্রদ্রোহ করেননি।

Leave a Reply

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

12 − 2 =