খালেদা জিয়া কারাগারে

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

বৃহস্পতিবার বেলা ২টা ২০ মিনিটে পুরান ঢাকার বকশীবাজারে  কেন্দ্রীয় কারাগারের মাঠে স্থাপিত ঢাকার পাঁচ নম্বর বিশেষ জজ আদালতের বিচারক ড. আখতারুজ্জামান জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় খালেদা জিয়াকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেন।এ ছাড়া তারেক রহমানসহ অন্য পাঁচ আসামির প্রত্যেককে ১০ বছর করে কারাদণ্ড ও দুই কোটি টাকা করে জরিমানা করেন আদালত।জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় ৫ বছরের সাজা ঘোষণার পর কঠোর নিরাপত্তায় নাজিমুদ্দিন রোডের পুরানো কেন্দ্রীয় কারাগারে নেয়া হয়েছে বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়াকে।

রায়ের পর বিকাল ৩টার কিছুক্ষণ আগে খালেদা জিয়াকে আদালত প্রাঙ্গণ থেকে বের করে কেন্দ্রীয় আদালতের দিকে নিয়ে যাওয়া হয়।

এ মামলার অন্য চার অাসামীকে বিএনপির সাবেক সাংসদ কাজী সালিমুল হক কামাল, সাবেক মুখ্য সচিব কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী, ব্যবসায়ী শরফুদ্দিন আহমেদ ও প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ভাগনে মমিনুর রহমানকে ১০ বছর করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

তাছাড়াও আত্মসাত করা ২ কোটি, ১০ লাখ ৭১ হাজার টাকা খালেদা জিয়া বাদে অন্য অাসামীদের জরিমানা করেছেন আদালত।

রায় ঘোষণার সময় আদালতে খালেদা জিয়ার পক্ষে ছিলেন সাবেক আইনমন্ত্রী ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল এজে মোহাম্মাদ আলী, সাবেক অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল আব্দুর রেজাক খান, সাবেক স্পিকার ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার ও আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেন। আর দুদকের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী মোশাররফ হোসেন কাজল।

গত ২৫ জানুয়ারি এই মামলার উভয় পক্ষের যুক্তিতর্ক শুনানি শেষ হলে আদালত রায়ের জন্য আট ফেব্রুয়ারি দিন ধার্য করেন।

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্টের নামে বিদেশ থেকে আসা ২ কোটি ১০ লাখ ৭১ হাজার ৬৭১ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ২০০৮ সালের ৩ জুলাই জরুরি অবস্থার মধ্যে রমনা থানায় এই মামলাটি করে দুদক।

তদন্ত শেষে ২০০৯ সালের ৫ আগস্ট খালেদা জিয়া, তার ছেলে তারেক রহমান, মাগুরার বিএনপির সাবেক সাংসদ কাজী সালিমুল হক কামাল, সাবেক মুখ্য সচিব কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী, ব্যবসায়ী শরফুদ্দিন আহমেদ ও প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ভাগনে মমিনুর রহমানের বিরুদ্ধে এই মামলার অভিযোগপত্র দেওয়া হয়।

এরপর ২০১৪ সালের ১৯ মার্চ ঢাকার তৃতীয় বিশেষ জজ আদালত খালেদাসহ ছয় আসামির বিরুদ্ধে ফৌজদারি দণ্ডবিধির ৪০৯ এবং দুদক আইনের ৫(২) ধারায় অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরু করে।

ছয় আসামীর মধ্যে খালেদা জিয়া জামিনে ছিলেন। আর বিএনপির সাবেক সাংসদ কাজী সালিমুল হক কামাল ও ব্যবসায়ী শরফুদ্দিন আহমেদ রয়েছেন কারাগারে। এদিকে তারেক রহমান, সাবেক মুখ্য সচিব ড. কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী এবং প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ভাগ্নে মমিনুর রহমান মামলার শুরু থেকেই পলাতক।

আলোচিত এই মামলায় দুদক ও আসামিপক্ষ আদালতে মোট ১৬ কার্যদিবস যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করে। আর মোট ২৩৬ কার্যদিবস শুনানির পর মামলাটি রায়ের পর্যায়ে আসে।

খালেদা জিয়ার অনাস্থার কারণে উচ্চ আদালতের নির্দেশে এর আগে তিনবার এই মামলার বিচারক বদল হয়।

 

আদালত সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার রায় হওয়ায় রোববারের আগে সার্টিফায়েড কপি পাওয়ার সম্ভাবনা নেই। এ কারণে ওই দিনের আগে খালেদা জিয়ার পক্ষে আপিল করা সম্ভব হচ্ছে না।

রায়ের পর আদালতে উপস্থিত খালেদা জি​​
য়ার পক্ষের আইনজীবীরা বলেন, এ রায় পক্ষপাতদুষ্ট। রোববারের মধ্যে রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করবেন তারা।

খালেদার আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেন, এটি প্রতিহিংসামূলক রায়। জনগণ থেকে খালেদা জিয়াকে বিছিন্ন করতে আর রাজনীতি থেকে সরিয়ে নিতেই এ অশুভ চেষ্টা।

তিনি বলেন, রায়ের সার্টিফায়েড কপি হাতে পেলেই জামিনের জন্য উচ্চ আদালতে যাব আমরা।

কারা অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে, খালেদা জিয়াকে নাজিমউদ্দিন রোডের পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগারে রাখা হবে। এ জন্য সেখানকার একটি ভবনের দ্বিতীয় তলার ডে-কেয়ার সেন্টারটি প্রস্তুত করা হয়েছে।

গতকাল বুধবার নাজিমউদ্দিন রোডের পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগারের আশপাশে নতুন করে সিসি ক্যামেরা বসানো হয়েছে। মোতায়েন করা হয়েছে র‌্যাব ও পুলিশ। জনসাধারণের চলাচলেও কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে।

প্রায় দেড় বছর আগে পুরনো এ কারাগার থেকে বন্দিদের ধাপে ধাপে কেরানীগঞ্জে নির্মিত নতুন কেন্দ্রীয় কারাগারে স্থানান্তরের পর দৃশ্যত এটি এখন ফাঁকা পড়ে আছে। বুধবার দুপুরে র‌্যাবের সিভিল টিমের সদস্যদের কারাগারের পুরনো অভ্যর্থনা ভবনসংলগ্ন বিদ্যুতের খুঁটিতে সিসি ক্যামেরা বসিয়েছে।

কারা অধিদফতরের নির্ভরযোগ্য একটি সূত্র জানিয়েছে, খালেদা জিয়াকে পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগারের একটি ডে-কেয়ার সেন্টারে রাখা হবে। সেখানে অতিরিক্ত ১০ জন কারারক্ষী মোতায়েন করা হয়েছে। এছাড়া ভেতরে-বাইরে মিলে দুজন ডেপুটি জেলার থাকার ব্যবস্থা করা হয়েছে। তাদের মধ্যে মহিলা জেলার কারাগারের ভেতরে এবং পুরুষ জেলার বাইরে অবস্থান করবেন।

Leave a Reply

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

10 + 16 =