গণমাধ্যমের স্বাধীনতা খর্ব হয় এমন আইনে যাব না: মোস্তাফা জব্বার

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার বলেছেন, আমরা চাই অবশ্যই সংবাদপত্রের ভিত্তি অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা থাক। কোথাও দুর্নীতি, অপরাধ, অনিয়ম হলে মিডিয়া তা তুলে ধরুক। সংবাদপত্রের স্বাধীনতা আছে। সেই স্বাধীনতা খর্ব হবে এমন কোনো আইনে আমরা যাব না।
বুধবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে বাংলাদেশ কমনওয়েলথ জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশন আয়োজিত ‘বাংলাদেশে মুক্ত গণমাধ্যমের বর্তমান চিত্র’ শীর্ষক এক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম দিবস ২০১৮ উপলক্ষে এই সেমিনারের আয়োজন করা হয়।
সাংবাদিকদের ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন নিয়ে আশ্বস্ত করে মোস্তাফা জব্বার বলেন, ‘জনগণের মতামতের বাইরে আমার মনে হয় না কোনো আইনকে চূড়ান্তভাবে পাস করতে পারব। আসলে মিডিয়া জগতের বাইরে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই। নিরাপদ ইন্টারনেটের জন্য আইনের দরকার আছে। আমরা অবশ্যই সবার সঙ্গে বসব ধারাগুলো নিয়ে। বিশেষ করে ৩২ ধারায় গুপ্তচরবৃত্তির কথা উল্লেখ আছে। আইনমন্ত্রী স্পষ্টভাবে বলেছেন, ‘গুপ্তচরবৃত্তি এবং সাংবাদিকতা এক জিনিস নয়। সাংবাদিকতাকে আমরা কখনও গুপ্তচরবৃত্তির ছকের মধ্যে ফেলতে পারি না।’
আমরা যতই ডিজিটাল হচ্ছি, ততই এ সংক্রান্ত অপরাধ বাড়ছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘এখন ব্যক্তিগত তথ্য চুরি হচ্ছে। সোস্যাল মিডিয়া থেকে আমরা কেউই রক্ষা পাচ্ছি না। এমনকি প্রধানমন্ত্রীও বিরূপ মন্তব্য থেকে রক্ষা পাননি। রামু, রংপুর, নাসিরনগরের মতো ঘটনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচারের মাধ্যমে সংঘটিত হচ্ছে। আর এসব ডিজিটাল অপরাধের জন্য ডিজিটাল আইন করা হচ্ছে। এ আইন সাংবাদিকদের দমনের জন্য করা হচ্ছে না।’
মোস্তাফা জব্বার বলেন, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনটি চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। এ আইনে বিতর্কিত যে বিষয়গুলো আছে, তা লাইন বাই লাইন আমি সংশ্নিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করব। বিতর্কিত ধারাগুলো এখনও পরিবর্তনের সুযোগ রয়েছে। সবার মতামত নিয়ে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন চূড়ান্ত হবে।
তিনি বলেন, এ বিষয়ে জাতীয় পত্রিকার সম্পাদকদের সংগঠন সম্পাদক পরিষদের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। যেসব ধারায় সাংবাদিকদের উদ্বিগ্ন, সেগুলো লিখিত আকারে তাদের সংসদীয় স্থায়ী কমিটির কাছে দিতে বলা হয়েছে। স্থায়ী কমিটির পরবর্তী সভায় লিখিত আপত্তি নিয়ে আলোচনা হবে। সভায় সম্পাদক পরিষদের প্রতিনিধিদেরও অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া হবে।
সাংবাদিক শ্যামল দত্তের সঞ্চালনায় সেমিনারে পৃথক দুটি প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন প্রথম আলোর সহযোগী সম্পাদক আব্দুল কাইয়ুম ও ব্যারিস্টার তানজীব উল আলম। কমনওয়েলথ জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের সহসভাপতি আবদুর রহমান খানের সভাপতিত্বে এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন সাংবাদিক আবদুল জলিল ভুঁইয়া, মাইনুল আলম, জুলহাস আলম, সাইফুল হক প্রমুখ।

Leave a Reply

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

four × 3 =