‘সংবাদপত্রের স্বাধীনতা না থাকলে টকশোতে বলছেন কীভাবে?’-প্রধানমন্ত্রী

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

গণতন্ত্রের ‘সুষ্ঠু ধারা’ যেন বানচাল না হয় ,সাংবাদিকদের সহযোগিতা চেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের পর আওয়ামী লীগের নেতৃত্ব নিয়ে ১৯৮১ সালে দেশে ফেরার পর থেকে সংবাদমাধ্যমের বৈরী আচরণের মুখোমুখি হওয়ার কথাও বলেছেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, “আওয়ামী লীগের সভাপতি হয়ে বাংলাদেশে আসার পর আজকে ৩৭ বছর পূর্ণ হল। তবে দুঃখের কথা, আমি কখনও প্রেসের কাছ থেকে খুব বেশি সহযোগিতা পাইনি। সব সময় একটা বৈরিতা নিয়েই আমাকে এগোতে হয়েছে।

বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজ) দ্বিবার্ষিক সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্যে মানুষের কল্যাণে সরকারের কার্যক্রমগুলো সঠিকভাবে তুলে আনার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।
প্রধানমন্ত্রী আরো  বলেন , “সমালোচনার মুখোমুখি হয়েই আমাকে এগুতে হয়েছে। কিন্তু এগুলি নিয়ে আমি কখনও মাথা ঘামাইনি। কারণ আমি জানি আমি কী কাজ করছি এবং ন্যায় ও সত্যের পথে থাকলে, সৎ পথে থাকলে ফলাফল পাওয়া যায়- এটা আমি বিশ্বাস করি।”

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “দেশে গণতন্ত্রের সুষ্ঠু ধারা ফিরে আসুক এবং সেটা ফিরে এসেছে। এটা যেন কেউ বানচাল করতে না পারে।”

নাম উল্লেখ না করলেও ‘প্রথম আলো’ ও ‘ডেইলি স্টার এর প্রতি ঈঙ্গিত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “দুটি পত্রিকা আমি পড়িও না, রাখিও না। আমার গণভবনে ঢোকা নিষেধ। তাদের আমার দরকার নেই।”

’বর্তমানে বাংলাদেশে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নেই ’ বলে অভিযোগের বিষয়ে শেখ হাসিনা বলেন, “অনেক সময় আমরা দেখি অনেকেই বলেন, সংবাদপত্রের স্বাধীনতা নাই। টক শো তেও বলছে বা মাইকের সামনেও বলছে। কথাবার্তা বলে যাচ্ছে সমানে টেলিভিশনগুলোতে ,আবার বলে যাচ্ছে স্বাধীনতা নাই। তাদের কাছে আমার প্রশ্ন, তাহলে কথাগুলো বললেন কীভাবে?”

জাতীয় প্রেস ক্লাবে বৃহস্পতিবার এই অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের কল্যাণে তার সরকারের নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপের কথাও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

প্রস্তাবিত ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই বলে সাংবাদিকদের আশ্বস্ত করেন প্রধানমন্ত্রী।তিনি বলেন, “এখানে জানি না, আমাদের সাংবাদিকরা কেন অহেতুক আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে যাচ্ছে। সাইবার ক্রাইম আইন হলে বোধ হয়, সাংবাদিকদের হয়রানি করা হবে। কোনো সাংবাদিক যদি হয়রানি করার মতো কিছু না করে থাকে, তাকে কেন হয়রানি করা হবে?”

বিএফইউজের সভাপতি মঞ্জুরুল আহসান বুলবুলের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠান  পরিচালনা করেন বিএফইউজের মহাসচিব ওমর ফারুক।

অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু, প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা ইকবাল সোবহান চৌধুরী, প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি আবু জাফর সূর্য, ময়মনসিংহ সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি আতাউল করিম খোকন, কুষ্টিয়া সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি রাশেদুল ইসলাম বিপ্লব, বগুড়া সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি আমজাদ হোসেন মিন্টু, রাজশাহী সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি কাজী শাহেদ, নারায়ণগঞ্জ সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি আবদুস সালাম, যশোর সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি সাজেদ রহমান, কক্সবাজার সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি আবু তাহের, খুলনা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি জাহিদ হোসেন এবং চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি নাজিমউদ্দিন শ্যামল।

Leave a Reply

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

20 + 11 =