গর্ব বোধ করি ’নারী নির্মাতা’ পরিচয়ে- অপর্ণা সেন

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

”একটা প্রশ্নের মুখোমুখি প্রায়শই হই। আজও হলাম। কৌতুহলউদ্দীপক প্রশ্ন। আমি চলচ্চিত্র নির্মাতা, নাকি নারী চলচ্চিত্র নির্মাতা?”

”আগে বিব্রত বোধ করতাম বেশ। মনে হত আমি কেবলই নির্মাতা। নারী নির্মাতা বললে খারাপ লাগত, এখন লাগেনা। বরং গর্ব বোধ করি নারী নির্মাতা পরিচয়ে। এটা আমার স্বাতন্ত্র্য পরিচয় মানুষ হিসেবে।’ বলেছেন বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে আমন্ত্রিত ‘পরমা’ সহ অসংখ্য সফল চলচ্চিত্র নির্মাতা ও পরিচালক অপর্ণা সেন।

যুক্তরাষ্ট্রের চলচ্চিত্র বিশেষজ্ঞ সিডনি বলনে, রাজনৈতিক ক্ষেত্রেও নারী অনেক এগিয়ে ।এ প্রসঙ্গে লেভিন বাংলাদেশের নেতৃত্বে প্রধানমন্ত্রী এবং বিরোধীদলীয় নেত্রী ও একই সঙ্গে স্পীকারের পদে নারীর অসাধারণ ভূমিকার ভূয়সী প্রশংসা করেন। আত্মসমালোচনা  করে বলেন, সমতার পিঠ বলে নিজেদের পরিচিত করালেও বিশ্বের সবচেয়ে পরিচিত চলচ্চিত্র ইন্ডাস্ট্রি হলিউডে নারী নির্মাতার সংখ্যা শতকরা ১ ভাগ।

‘সিনেমার আয়নায় পাশ্চাত্য এবং প্রাচ্যের নারীর তুলনামূলক ধারণা’ বিষয়ে বেশ জমজমাট আলোচনার আসরে মেতে উঠেছিল ধানমন্ডি আলিঁয়স ফ্রাঁসেজ মিলনায়তন।  লিখিত বক্তব্য তুলে ধরেন সিডনি লেভিন ।তাঁর মূল আলোচনাপত্রে উঠে আসে চলচ্চিত্র পরিচালনা ও নির্মানে নারী পুরুষের তুলনামূলক  অবস্থানের বিস্তারিত চিত্র। এই আমেরিকান চলচ্চিত্র বিশেষজ্ঞ আত্মসমালোচনা করে বলেন, ‘আমরা ততটা মানবিক কোমল নই, যতটা প্রচারিত হয়। আমাদের আয়নায় আমরা প্রাচ্যকে দেখার চেষ্টা করি। সেটা মনে হয় ঠিক নয়। বরং প্রাচ্য বিশেষ করে দক্ষিণ প্রাচ্য এবং এর ‘সিনেমায় নারী’ অনেক দিক থেকে এগিয়ে। শুধু নারী কেন রাজনৈতিক আলোতে দেখলেও আমরা সত্যিকার অর্থে পিছিয়ে আছি।’

আলোচনায় উঠে আসে তুলনাগত অবস্থানও। সিডনি জানান, ‘ হলিউডে নারী বিনিয়োগকারী বা স্টুডিওর মালিক কিংবা চিত্রনাট্যেও নারীর অবস্থান সেই অর্থে তাথৈবচ।তবে স্বাধীন নির্মাণে-বিনিয়োগে বা সিনেমার অন্যক্ষেত্রে সে অবস্থান খুব একটা খারাপ নয়। অনেক ভালো, হলিউড ঘরানার চাইতে। মান এবং পরিসংখ্যানসহ বাংলাদেশ, ভারত, নেপাল, পাকিস্তান, আফগানিস্তান, ইরান, মালয়শিয়া এবং ইন্দোনেশিয়ার সিনেমায় নারীর অংশগ্রহণের বিষয় আলোচনায় প্রাধান্য পায়।

 

সেমিনারের সভাপতি আলিন তাসকিয়ান পাশ্চাত্য এবং প্রাচ্যের নারী নির্যাতনের ভয়াবহ তথ্য তুলে ধরেন। তাতে পাশ্চাত্য অনেক ক্ষেত্রেই ভয়াবহ অবস্থায় আছে বলে তথ্য উঠে আসে।সেমিনারটি পরিচালনা করেন তরুণ ব্রিটিশ চলচ্চিত্র প্রযোজনা সমন্বয়ক বার্ণাডেটে শার্ম। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ওমেন এবং জেন্ডার স্টাডি বিভাগের সহায়তায় সেমিনারটি অনুষ্ঠিত হয়।

আলোচনায় নারীর প্রতি পুরুষের নির্যাতনমূলক আচরণ বা বৈষম্যর বিরুদ্ধে চলচ্চিত্রসহ নানা মাধ্যমে নারীদের এগিয়ে আসা উচিত বলে বক্তারা অভিমত ব্যক্ত করেন। তবে শেষ পর্যায়ে অপর্ণা সেন বলেন, নারী-পুরুষের জায়গা নয়, আমার কাছে দিন শেষে মানবিক পরিচয়টাই মুখ্য। কাউকে আঘাত না করাটাই আসল। হৃদয়ের কাছে দায়বদ্ধ থাকাটা জরুরী।

Leave a Reply

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

2 × four =