গাড়িচাপায় ২ বাংলাদেশী হত্যা:আরসালানকে ২৯ আগস্ট পর্যন্ত পুলিশ হেফাজতে রাখার নির্দেশ

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

জাগুয়ারের প্রচণ্ড ধাক্কা খেয়ে রাস্তা থেকে ২০ ফুট দূরে ছিটকে গিয়েছিল ব্যবসায়ী অমিত কাজারিয়ার মার্সিডিজ। সেখান থেকেই স্পষ্ট কতটা জোরে গাড়ি চালাচ্ছিল আরসালান পারভেজ,কলকাতার আদালতে রবিবার এমনটাই দাবি করেন সরকারি আইনজীবী।রবিবার আরসালানকে আদালতে পেশ করে পুলিশ তদন্তের জন্য ১৪ দিনের জন্য তাদের হেফাজতে নেওয়ার আবেদন করে। বিচারক অলকানন্দা সরকার দু’পক্ষের সওয়াল-জবাব শুনে আরসালানকে আগামী ২৯ অগস্ট পর্যন্ত পুলিশ হেফাজতে রাখার নির্দেশ দিয়েছেন।উল্লেখ্য,গত শুক্রবার গভীর রাতে দুই বাংলাদেশিকে আরসালান তার জাগুয়ার গাড়ি চাপায় হত্যা করে।

কলকাতা পুলিশের তদন্তকারীদের দাবি, জেরার মুখেও বেশ কিছু তথ্য লুকাচ্ছেন আরসালান। প্রাথমিকভাবে পুলিশ জানতে পেরেছে, শুক্রবার রাত ১১টা নাগাদ বেকবাগানের বাড়ি থেকে নিজের প্রিয় জাগুয়ার গাড়ি নিয়ে বেরোন আরসালান। সেখান থেকে তিনি কলকাতার বিভিন্ন জায়গায় যান। বেশ কয়েকজন বন্ধুর সঙ্গেও দেখা করেন। ইস্টার্ন মেট্রোপলিটন বাইপাসেও তিনি বেশ কিছুক্ষণ সময় কাটান। তদন্তকারীদের দাবি, গোটা ঘটনাক্রমের যে বর্ণনা আরসালান দিয়েছেন তদন্তকারীদের তার সঙ্গে প্রকৃত ঘটনার বেশ কিছু ফাঁক রয়ে গেছে। সেই ফাঁকগুলো পূরণের জন্যই তাকে আবারো জেরা করা প্রয়োজন।

কলকাতা পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, শুক্রবার গভীর রাতে শেকসপিয়র সরণি থানার সামনে মার্সিডিজে ধাক্কা মারার পরই গাড়ি ছেড়ে পায়ে হেঁটে ওই এলাকা থেকে চলে যান আরসালান। তার পরিবারের সদস্য মহম্মদ মুস্তাফা বলেন, ‘‘দুর্ঘটনার পরই আরসালান তার বাবাকে ফোন করেন। তিনি আমাদের জানান। আমরা খবর পেয়ে আরসালানকে গাড়ি করে নিয়ে আসি।’’ পরিবারের সদস্যদের দাবি, আরসালান পরের দিন সকালে নিজেই ডেপুটি কমিশনার (সাউথ)  এর অফিসে গিয়ে আত্মসমর্পণ করেন।

পরিবারের দাবি, আরসালান শুক্রবার রাতে তাদের তারাতলার দোকানে গিয়েছিলেন। সেখান থেকে ফেরার পথে ওই ঘটনা ঘটেছে। তবে পুলিশ ওই দাবি ‘অসত্য’ বলেই দাবি করেছে। তদন্তকারীদের একাংশের ইঙ্গিত, আরসালানকে জেরা করে গোটা ঘটনা জানা হবে। সেখান থেকেই জানা যাবে ওই দিন রাতে তিনি মদ্যপান করেছিলেন কি না।

তদন্তকারীদের দাবি, ওই জাগুয়ারের বিরুদ্ধে এর আগেও সিগন্যাল ভাঙার বেশ কয়েকটি অভিযোগ রয়েছে। পুলিশ সূত্রে খবর, ওই রাতেও, লাউডন স্ট্রিট-শেকসপিয়র সরণি সংযোগস্থলে মার্সিডিজটিকে ধাক্কা মারার আগে জীবনদীপ বিল্ডিংয়ের কাছে আরসালানের গাড়ি একবার সিগন্যাল ভাঙে। তদন্তকারীদের সূত্রে জানা গিয়েছে, ওই গাড়িটি কেনা হয়েছিল ২০১৭ সালের ১৩ এপ্রিল।

তবে এ দিন সরকারি আইনজীবী অভিজিৎ চট্টোপাধ্যায় আদালতে বলেন, ‘‘অত্যন্ত বেপরোয়া ভাবে গাড়ি চালাচ্ছিলেন আরসালান। ওই মার্সিডিজে থাকা দুই যাত্রী অমিত কাজারিয়া এবং তাঁর স্ত্রী কণিকা গুরুতর জখম হয়েছেন। তাঁদের চিকিৎসা চলছে একটি বেসরকারি হাসপাতালে।’’ সরকারি আইনজীবী আরসালান পারভেজের বিরুদ্ধে  অনিচ্ছাকৃত খুনের চেষ্টা এবং সরকারি সম্পত্তি নষ্ট করার জন্য ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩০৮ এবং পিডিপিপি আইন যুক্ত করার আবেদন জানান আদালতে । আনন্দবাজার

Leave a Reply

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

eight − one =