চট্টগ্রামে জঙ্গি সন্দেহে সাতজন যুবক আটক

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

চট্টগ্রামে জঙ্গি সন্দেহে সাত জন যুবককে আটক করেছে র‌্যাব-৭, যাদের মধ্যে রয়েছে আন্তর্জাতিক রেডক্রসের একজন কর্মী। তাদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ ‘জিহাদি’ বই, জঙ্গি কাজে ব্যবহৃত ল্যাপটপ ও মোবাইল উদ্ধার করা হয়েছে বলে দাবি করেছে সংস্থাটি।

শনিবার বিকালে গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে র‌্যাব জানায়, শুক্রবার সন্ধ্যায় মহানগরীর কোতয়ালি থানাধীন আনন্দবাগ এলাকা থেকে তাদের আটক করা হয়।

র‌্যাব-৭ এর সহকারী পরিচালক এএসপি মিমতানুর রহমান জানান, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে জানতে পারা যায় যে, জঙ্গি মতাদর্শের কতিপয় সদস্য চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকা থেকে এসে চট্টগ্রাম মহানগরীর কোতয়ালি থানাধীন ‘হাফেজ মোহাম্মদ সাদেক ওয়াকফ্ স্ট্যান্ড’ জামে মসজিদ এলাকায় আসে। তারা সেখানে গোপনে জঙ্গি কার্যক্রম চালানোর চেষ্টা করছে। পরে গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যা ছয়টার দিকে র‌্যাব-৭ অভিযান চালিয়ে সাতজনকে আটক করে। এ সময় আটককৃতদের দেহ তল্লাশি করে জঙ্গি উস্কানিমূলক জিহাদি বই ও ব্যবহৃত মোবাইল উদ্ধার করা হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘তারা আন্তর্জাতিক জঙ্গি সংগঠন আইএস এর সমর্থক। হোয়াটস অ্যাপে তারা ‘ডিন ফোর্স এক্সট্রিম’ও ‘ইখোয়ান’নামে দুটি গ্রুপে সক্রিয় থেকে জিহাদি ভিডিও ও ছবি প্রচার করে নিজেদের কথিত জিহাদের জন্য প্রস্তুত করছিল।’

র‌্যাবের দাবি, গ্রেপ্তার ওই যুবকেরা ‘জিহাদের মাধ্যমে খিলাফত প্রতিষ্ঠার জন্য’ সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে বিভিন্ন জঙ্গিগোষ্ঠীর সঙ্গে যোগাযোগ করে আসছিল। সমমনা দেশীয় জঙ্গিদের একত্রিত করতেও তারা কাজ করছিল।

ওই সাতজনের মধ্যে মুনতাসিরুল ঢাকার আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি থেকে পাস করে কক্সবাজারে ইন্টারন্যাশনাল কমিটি অব দি রেড ক্রসের (আইসিআরসি) ফিল্ড অফিসার হিসেবে কাজ করছিলেন।

আফজার চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী। দাউদ প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ থেকে পাস করে প্রিমিয়ার সিমেন্ট লিমিটেডে কাজ করেন।

এছাড়া জাওয়াদ আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাস করে চট্টগ্রাম ইপিজেডে ইয়ংওয়ান নামে একটি পোশাক কারখানায় কর্মরত। নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিস্কৃত ছাত্র আছে। কক্সবাজার থেকে এক যুবক নিয়মিত চট্টগ্রামে এসে তাদের সঙ্গে যোগ দেন।

বিজ্ঞপ্তিতে র‌্যাব দাবি করেছে, আটকৃতরা আইএসকে অনুসরণের চেষ্টা করে। জিজ্ঞাসাবাদে আরও জানা যায়, তারা ২০১৩ সালে আসকার দিঘীর পশ্চিমপাড়ে অবস্থিত আতরজান জামে মসজিদে ইবনে মোস্তাকের সঙ্গে পরিচয় হয় এবং তারা মোস্তাকের মাধ্যমে জঙ্গি তৎপরতায় উৎসাহী হয়ে উঠে। তারা তথাকথিত জিহাদের মাধ্যমে খেলাফত প্রতিষ্ঠার জন্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিভিন্ন জঙ্গিগোষ্ঠীর সঙ্গে যোগাযোগ ও এ দেশীয় সমমনা জঙ্গিদের একত্র করে নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড সংঘটিত করার কাজে লিপ্ত ছিল।

আটককৃতদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইন, ২০০৯ এর ১০/১৩ ধারা মোতাবেক মামলা করে চট্টগ্রাম মহানগরীর কোতয়ালি থানায় হস্তান্তরের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন আছে বলে জানান এএসপি মিমতানুর রহমান।

আটকরা হলেন- কোতোয়ালি থানার ১৪৪ আনন্দবাগ (নূর আহম্মদ রোড) এলাকার মো নাছির উদ্দিনের ছেলে মো. মহিউদ্দিন তামিম (২৯), চৌমুহনী থানার আনোয়ারার মো. নূর হোসেনের ছেলে মো. আফজার হোসেন (২১), সিএমপির ৪০৪/৪৫৮ (১৯ নং জামাল খান লেইন) এলাকার আজাদ নিজামুল হকের ছেলে মো. ইমরান খান (২৭), মো. দাউদ নবী পলাশ (২৮), চৌধুরী মোহাম্মদ রিদওয়ান (২৭), এসএম জাওয়াদ জাফর (২৬) ও মো. মুনতাসিরুল মেহের (২৬)।

Leave a Reply

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

5 + 19 =