চার বাংলাদেশি জঙ্গি সিঙ্গাপুরের আদালতে দোষী সাব্যস্ত

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

 

সিঙ্গাপুরের চার প্রবাসী বাংলাদেশি জঙ্গি অর্থায়নের অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন, এরা সিঙ্গাপুরের আদালতে অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা আইনে গ্রেপ্তারকৃত ছিলো । সিঙ্গাপুরের দৈনিক স্ট্রেইটস টাইমস এ তথ্য প্রকাশ করেছে।

চার জনই আদালতে তাদের দোষ স্বীকার করেছে। এরা হল মিজানুর রহমান (৩১),রুবেল মিয়া (২৬), মো. জাবাথ কায়সার হাজী নুরুল ইসলাম সওদাগর (৩১) এবং সোহেল হাওলাদার ইসমাইল হাওলাদার (২৯।

দলের অপর দুজন জামান দৌলত (৩৪) এবং মামুন লিয়াকত আলী (২৯) তাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করেছে। বিচার প্রক্রিয়া শুরুর আগে আগামী ৯ জুন এ দুজনের বক্তব্য নেওয়ার কথা রয়েছে।

গত মাসে সিঙ্গাপুরের টেরোরিজম (সাপ্রেসিং অফ ফাইনান্সিং) অ্যাক্টের অধীনে যাদের আটক করা হয়, এই চার জন ওই দলভুক্ত। এবারই প্রথম এই আইনে দেশটিতে কোনো মামলা হয়েছে।

মিজানুর রহমান দলটির অধিনায়ক। দলে মামুন লিয়াকত আলীর অবস্থান ছিল দ্বিতীয়। রুবেল মিয়া আর্থিক ব্যবস্থাপনা দেখত ও যোগাযোগ রক্ষার কাজ করত।

এ ছাড়া জামান ও সোহেল দলের নিরাপত্তা ও যোদ্ধা অংশটির তত্ত্বাবধান করত। রুবেল মিয়া ও জাবেদের কাছে জঙ্গি কার্যক্রমে অর্থায়নের জন্য তহবিল রাখারও অভিযোগ আছে।

সিঙ্গাপুরের স্ট্রেইটস টাইমস বলছে, আদালতের নথি পর্যালোচনায় দেখা গেছে জঙ্গি কার্যক্রম পরিচালনায় অভিযুক্তদের আলাদা আলাদা ভূমিকা ছিল।

“সিঙ্গাপুরে যারা অভিযুক্ত হয়েছে তাদের ব্যাপারে ঢাকায় খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে,” বেনারকে জানান ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের (ডিবি) উপকমিশনার মাশরুকুর রহমান। তিনি বলেন, সিঙ্গাপুরে কিছু প্রবাসী বাংলাদেশীর জঙ্গিবাদে জড়িয়ে পড়ার বিষয়টি খোঁজখবর রাখা হচ্ছে। তিনি বলেন, “সিঙ্গাপুর পুলিশের সঙ্গে আমরা সর্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছি। নিয়মিত তথ্য বিনিময় করা হচ্ছে।”

সিঙ্গাপুরের আদালতে উত্থাপিত নথিপত্রে বলা হয়েছে, দলটির প্রধান মিজানুর রহমান গত বছরের এপ্রিলে বাংলাদেশে জাহাঙ্গীর আলম নামে এক ব্যক্তির সংস্পর্শে আসে। সেই তাকে জঙ্গি কার্যক্রমে উদ্বুদ্ধ করে।

মিজানুর পরে রুবেল মিয়া, জামান ও সোহাগ ইব্রাহীম নামের তিন বাংলাদেশিকে দলে ভেড়ায়। সোহাগ ইব্রাহীম অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা আইনে গ্রেপ্তার রয়েছে। দলটি ফেব্রুয়ারি ও মার্চে নিয়মিত বৈঠকে বসে ও সাংগঠনিক কাঠামো দাঁড় করায়।

নথিপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, দলের সদস্যরা বাংলাদেশে ফিরে ‘অবিশ্বাসীদের’ বিরুদ্ধে সশস্ত্র জিহাদ শুরুর ব্যাপারেও আলোচনা করেছে। প্রচার অভিযান, খাবার, আগ্নেয়াস্ত্র ও ছুরি কেনার জন্য তাদের টাকার প্রয়োজন ছিল। তারা নিজ বেতনের একটা অংশ এই কাজে দান করে আসছিল।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, জাবেদের কাছে জঙ্গি কর্মকাণ্ডের জন্য সংগ্রহ করা এক হাজার ৩৬০ মার্কিন ডলার ছিল, যার মধ্যে এক হাজার ৬০ ডলার সংগ্রহ করে দিয়েছিল রুবেল। ওই দলের সবাই নিজেরাও ৬০ থেকে ৫০০ ডলার পর্যন্ত চাঁদা দিয়েছিল ‘জিহাদের’ জন্য।

রাষ্ট্রপক্ষ তিন সপ্তাহের জন্য আদালতের কার্যক্রমে বিরতি চেয়েছে। আগামী ২১ জুন অভিযুক্ত চার জনের আদালতে হাজির হওয়ার কথা আছে।

ডিবির অতিরিক্ত উপ কমিশনার ছানোয়ার হোসেন বেনারকে জানিয়েছেন, “সিঙ্গাপুরে প্রবাসী বাংলাদেশিরা যেন জঙ্গি কার্যক্রমে জড়িয়ে না পড়েন সে জন্য পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও পুলিশ একযোগে কাজ করছে। প্রয়োজনে তদন্ত কর্মকর্তারা তথ্য সংগ্রহের জন্য সিঙ্গাপুরে যেতে পারেন।”

সিঙ্গাপুরে প্রবাসী বাংলাদেশীদের জঙ্গি কার্যক্রমে জড়িয়ে পড়ার পরিপ্রেক্ষিতে সম্প্রতি ডিবি ও সিঙ্গাপুর ভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান আইসিপিভিটিআর একটি কর্মশালার আয়োজন করে। গত ২৬ মে সমাপনী অনুষ্ঠানে সিঙ্গাপুরের ওই গবেষণা প্রতিষ্ঠান জানায়, বাংলাদেশের সব শ্রমিককে জঙ্গি বলার সুযোগ নেই। তাঁদের বড় অংশ সৎ ও কর্মঠ।

উপকমিশনার মাশরুকুর রহমান বলেছেন, “প্রবাসীদের জঙ্গি কর্মকাণ্ডে কারা উদ্বুদ্ধ করছে সে বিষয়ে আমরা কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পেয়েছি। সিঙ্গাপুর পুলিশ আমাদের যে নামগুলো জানিয়েছে সে সম্পর্কেও খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে।”

Leave a Reply

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

sixteen − three =