চিরনিদ্রায় শায়িত হলেন আজাদ

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেছেন, র‌্যাবের গোয়েন্দা প্রধান লে. কর্নেল আবুল কালাম আজাদ একজন দক্ষ ও চৌকষ কর্মকর্তা ছিলেন। তিনি ছিলেন সত্যিকারের দেশপ্রেমিক। জীবনকে বাজি রেখে তিনি জঙ্গি-সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে লড়াই করে গেছেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, তার সাহসিকতার জন্য ইতিপূর্বে বিপিএম-পিপিএম পদক দেওয়া হয়েছে। জাতি আজ এই বীরকে হারাল। তিনি বলেন, জঙ্গি দমনে আইন শৃঙ্খলা বাহিনী সমন্বিতভাবে কাজ করছে। জনগণকে সাথে নিয়ে জঙ্গি-সন্ত্রাসীদের মোকাবেলা করা হবে।

বনানী সামরিক কবরস্থানে চিরনিদ্রায় শায়িত হলেন জঙ্গিদের বোমা বিস্ফোরণে নিহত র‌্যাবের গোয়েন্দা শাখার প্রধান (ডিরেক্টর-ইন্টেলিজেন্স) লে. কর্নেল আবুল কালাম আজাদ। শুক্রবার বিকেল ৪টা ৪০ মিনিটে বনানীর সামরিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়। এ সময় তার সহকর্মী, র‌্যাব ও সেনা সদস্যরা কান্নায় ভেঙে পড়েন।

দাফনের আগে এ ‘সাহসী বীর’কে সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে গার্ড অব অনার দেয়া হয় এবং তার স্মরণে ১ মিনিট নিরবতা পালন করা হয়।

এর আগে  শুক্রবার সকালে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে আবুল কালাম আজাদের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়। ময়না তদন্ত শেষে বলা হয় স্প্লিন্টারের আঘাতেই  র‌্যাবের  গোয়েন্দা শাখার প্রধান লেফটেন্যান্ট কর্নেল আবুল কালাম আজাদের মৃত্যু হয়েছে।ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ডা. সোহেল মাহমুদ সাংবাদিকদের এমন তথ্য জানান।

তিনি জানান, আবুল কালাম আজাদের দেহে বোমা বিস্ফোরণের আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। মাথা থেকে বোমার স্প্লিন্টারের টুকরা উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়া বোমার স্প্লিন্টার মাথা দিয়ে ঢুকে যাওয়ায় তার বাম চোখ নষ্ট হয়ে গেছে।

এর আগে, সকাল ৮টার দিকে আবুল কালাম আজাদের লাশ ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে নেওয়া হয়। সকাল ৯টার দিকে ডা. সোহেল মাহমুদ ময়নাতদন্ত শুরু করেন এবং শেষ হয় পৌনে ১০টার দিকে।

মরহুম আবুল কালাম আজাদের ১ম নামাজে জানাজা বাদ জু্মা সেনানিবাস কেন্দ্রীয় মসজিদে, ২য় জানাজা র‌্যাব সদর দফতরে বিকাল ৩ টায় অনুষ্ঠিত হয়।

উল্লেখ্য, সিলেটে জঙ্গি আস্তানা আতিয়া মহলে সেনা কমান্ডোদের অভিযানের মধ্যে ২৫ মার্চ শনিবার সন্ধ্যার পর জঙ্গি আস্তানার পাশে বোমা বিস্ফোরণে আহত হন র‌্যাবের গোয়েন্দা শাখার প্রধান লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ আবুল কালাম আজাদ।

আহত অবস্থায় আজাদকে প্রথমে সিলেটের ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ও পরবর্তীতে ঢাকা সিএমএইচ-এ ভর্তি করা হয়।

সিএমএইচ থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ২৬ মার্চ রোববার আজাদকে সিঙ্গাপুরের মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতালের পাঠানো হয়। সিঙ্গাপুরে তার শারিরিক অবস্থার কোনো উন্নতি না হলে ২৯ মার্চ বুধবার রাতে আবুল কালাম আজাদকে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়।

দেশে আনার পর চিকিৎসার জন্য পুনঃরায় আবুল কালাম আজাদকে ঢাকার সিএমএইচ-এ ভর্তি করা হয়েছিল। সেখানে চিকিৎসাধীণ অবস্থায় বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ১২টা ৫ মিনিটে মারা যান তিনি।

Leave a Reply

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

16 − 10 =