“ছেলেমেয়েদের লেখাপড়া শিখিয়েছি -বলেছি, তোমাদের কোনো সম্পদ দিতে পারব না”-প্রধানমন্ত্রী

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয় নিজের পথ নিজেই দেখবেন বলে জানিয়েছেন তাঁর মা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, ‘জয় ভবিষ্যতে কী করবে, সেটা সম্পূর্ণ তার ওপরই নির্ভর করছে। তবে সে কিন্তু আমাদের সহযোগিতা করছে।’ আজ বুধবার জাতীয় সংসদে প্রধানমন্ত্রীর জন্য নির্ধারিত প্রশ্নোত্তরে জাতীয় পার্টির (জাপা) সাংসদ ফখরুল ইমামের সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন।
সম্পূরক প্রশ্নে জয় সম্পর্কে ফখরুল ইমাম বলেন, ‘জয় বাংলা’ দুটি শব্দ এবং ‘প্রথম’ শব্দটি নিয়ে আপনি কী চিন্তাভাবনা করছেন? তাঁর দ্বিতীয় প্রশ্নটি ছিল, পুরুষের অধিকার নিয়ে প্রধানমন্ত্রী কী চিন্তাভাবনা করছেন? প্রশ্নকর্তার এসব প্রশ্ন শুনে স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী বলেন, ‘মাননীয় সংসদ সদস্য, আপনার প্রশ্ন তো সম্পূরক নয়।’ তবে প্রধানমন্ত্রী প্রশ্নটির উত্তর দেন। জয় বাংলা-সম্পর্কিত প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “‘জয়” একটি শব্দ এবং “বাংলা” আরেকটি শব্দ। দুটো মিলেই জয় বাংলা। জয় বাংলা আমাদের মুক্তিযুদ্ধের স্লোগান। জয় বাংলা এবং জয় বঙ্গবন্ধু স্লোগান দিয়েই আমরা বাংলাদেশ স্বাধীন করেছি। মুক্তিযুদ্ধের সময় এটাই ছিল আমাদের কাছে সবচেয়ে অনুপ্রেরণাদায়ী স্লোগান। কাজেই এই শব্দটাকে ভাগ করার উপায় নেই। তবে আমি জানি না, মাননীয় স্পিকার উনি (প্রশ্নকর্তা সাংসদ) কী বলতে চেয়েছেন।’

প্রধানমন্ত্রী তখন বলেন, ‘ছেলেমেয়েদের লেখাপড়া শিখিয়েছি। তাদের বলেছি, তোমাদের কোনো সম্পদ দিতে পারব না। তোমাদের একটি বড় সম্পদ- যত পারো শিক্ষা গ্রহণ করো। ওটাই তোমাদের জীবন-জীবিকা তৈরি করে দেবে। আর তাদের জীবনের ভবিষ্যৎ তারা নিজেরাই ঠিক করবে। এ দায়িত্ব তাদের ওপরেই ছেড়ে দিয়েছি। কাজেই জয় ভবিষ্যতে কী করবে এটা সম্পূর্ণ তার ওপর নির্ভর করে। সে কিন্তু আমাদের সহযোগিতা করছে। আজকে যে ডিজিটাল বাংলাদেশ করছি, সেখানে যতটুকু অর্জন, তার পরামর্শমতোই হচ্ছে।’ তিনি বলেন, সে (জয়) জনগণের জন্য সেবা ও সাহায্য করছে। কিন্তু কোনো কিছু পাওয়ার আশা বা নিতে আসেনি। সে যতটুকু পারছে দিচ্ছে। ‘জয় বাংলা’ স্লোগানের প্রেরণাই তাকে উদ্দীপ্ত করছে দেশের সেবা করতে। আর তার পথ সে নিজে দেখবে।

পুরুষের অধিকার সম্পর্কে প্রশ্নকর্তা সাংসদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ওনার ঘরে উনি যে ওনার বউকে এত ভয় পান, এটা আমরা জানতাম না। তবে ভাগ্য ভালো, উনি ওনার ঘরে পুলিশি পাহারার কথা বলেন নাই। পৃথিবীকে আসলে কেউ বদলাতে পারে না। জীবন বদলাতে পারে। ঘরে আপনি চ্যানেল বদলাতে পারেন না। এটা তো সমঝোতা করে নেওয়া যায়। কে কখন কতটুকু সময় টেলিভিশন দেখবেন, তা ঘরের কর্ত্রীর সঙ্গে বসে একটা সমঝোতা করে নেন। যাতে চ্যানেল বদলানো নিয়ে কোনো সংঘাত না হয়।’

Leave a Reply

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

twelve + seven =