জাতিসংঘের প্রাক্তন মহাসচিব কফি আনানের জীবনাবসান

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

১৯৯৭-২০০৬ সাল পর্যন্ত নিউইয়র্কে জাতিসংঘের মহাসচিব হিসেবে দুবার দায়িত্ব পালন করেন কফি আনান। অবসর গ্রহণের পরে তিনি জেনেভার কাছে একটি গ্রামে বসবাস করতেন। ‘

১৯৯২ সালে জাতিসংঘের তৎকালীন মহাসচিব বুট্রোস ঘালি যখন জাতিসংঘে শান্তিপ্রক্রিয়া অভিযান শুরু করেন, আনান সেই বিভাগের ডেপুটি হিসেবে যোগ দেন। ১৯৯৫ সালের ২৯ অগাস্ট বিমানে থাকায় ঘালিকে যখন ফোনে পাওয়া যাচ্ছিল না, তখন আনান ই বসনিয়ায় ভেটো বিমানহানা চালাতে জাতিসংঘকে নির্দেশ দেন। যার ফলে ন্যাটো বসনিয়ায় অভিযান চালায়। আনানের এই পদক্ষেপ তাঁকে আমেরিকার প্রিয়পাত্র করে তোলে। তার পরের বছরই জাতিসংঘের মহাসচিব হন তিনি।

২০০১ সালে জাতিসংঘের সঙ্গেই তিনি ব্যক্তিগতভাবেও শান্তিতে নোবেল পুরস্কার পান। জাতিসংঘের মহাসচিব থাকাকালীন বিভিন্ন বিষয়ে জোরাল পদক্ষেপ নিয়েছিলেন কফি আনান । মহাসচিব হিসেবে ১৯৯০ দশকে রোয়ান্ডায় গণহত্যা থামাতে ব্যর্থ হওয়ায় তীব্র সমালোচনার মুখে পড়তে হয়েছিল আনানকে ।

দায়িত্ব ছাড়ার পরও আন্তর্জাতিক জগতে তাঁর ভূমিকা ছিল উল্লেখযোগ্য। ঘানার নাগরিক হিসেবে আফ্রিকার পিছিয়ে পড়া দেশগুলির উন্নয়ন এবং সেখানের গৃহযুদ্ধ থামিয়ে শান্তি ফেরাতে বরাবরই সচেষ্ট ছিলেন আনান । ছিলেন আফ্রিকা প্রোগ্রেস প্যানেলের সভাপতি এবং অ্যালায়েন্স ফর আ গ্রিন রেভোলিউশন ইন আফ্রিকার প্রথম সারির নেতা।

১৯৩৮ সালে ঘানার কুমসাইতে ৮ এপ্রিল আকান আদিবাসী প্রধানের বাড়িতে জন্ম কফি এবং তাঁর যমজ বোন এফুয়া আট্টার। ১৯৯১ সালে মৃত্যু হয় এফুয়ার। ছোট থেকেই পড়াশোনায় তুখোড় আনান পরে বলেছিলেন, প্রাথমিক স্কুলেই তিনি শিক্ষা পেয়েছিলেন, যদি কোথাও একজনও কষ্ট পায় তাহলে সর্বত্র সবাই সেই কষ্ট ভোগ করবে। সেই প্রাথমিক জ্ঞানই তিনি মনে রেখেছিলেন জীবনভর।

১৯৬১ সালে আমেরিকার মিনেসোটার বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে স্নাতক হন। পরের বছর বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বা হু–তে বাজেট অফিসার হিসেবে যোগ দেন। ১৯৭৪–৭৬ পর্যন্ত ঘানার পর্যটন বিভাগের ডিরেক্টর ছিলেন।

‘বহু ক্ষেত্রে কফি আনান ই ছিলেন জাতিসংঘ । পর্যায়ক্রমে তিনি সংস্থার শীর্ষ পদে দায়িত্ব নেন। নতুন শতাব্দীতে অনন্য সম্ভ্রম এবং দৃঢ়তার সঙ্গে জাতিসংঘকে পরিচালিত করেন,’ শনিবার নিউইয়র্কে জাতিসংঘের পক্ষ থেকে প্রকাশিত বিবৃতিতে এই কথা বলেন সংস্থার মহাসচিব অ্যান্তিনিও গুটেরেস। প্রসঙ্গত, গুটেরেসকে জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থার প্রধান হিসেবে নির্বাচিত করেছিলেন কফি আনান ।

শনিবার সকালে টুইটারে পরিবার এবং কফি আনান ফাউন্ডেশনের তরফে কফি আনানের মৃত্যুর খবর জানিয়ে বলা হয়েছে, অল্প কিছুদিন রোগভোগের পর শনিবার স্থানীয় সময় ভোরে তিনি মারা গিয়েছেন। সুইজারল্যান্ডের বার্নের একটি হাসপাতালে দিন কয়েক আগে ভর্তি হন আনান । তাঁর স্ত্রী নানে এবং তিন সন্তান আমা, কোজো এবং নিনা শেষ সময়ে তাঁর পাশেই ছিলেন।

Leave a Reply

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

18 − two =