‘জাতীয় জাগরণে কবি নজরুল’- সারাদেশে ১১৯তম জন্মবার্ষিকী পালিত

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

জাতীয় কবির ১১৯তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে  ত্রিশালে জাতীয় পর্যায়ে ৩ দিনের কর্মসূচির উদ্বোধনকালে রাষ্ট্রপতি বলেন, নজরুল কেবল বাংলার জাতীয় কবিই নন, তিনি জাগরণের কবি, সাম্যের কবি।

জাতীয় কবি নজরুল ইসলামের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করে রাষ্ট্রপতি বলেন, নজরুল পশ্চিমবঙ্গের চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করলেও ১৯১৪ সাল থেকে তার জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় কাটিয়েছেন ময়মনসিংহের এই ত্রিশালে। রাষ্ট্রপতি বলেন, সাম্যের কবি হিসেবে নজরুল তার কালজয়ী প্রতিভা, সমৃদ্ধ ও মূল্যবান সাহিত্য কর্ম, বক্তৃতা, জীবনাদর্শন এবং মানবিক মূল্যবোধের স্ফূরণের মাধ্যমে বাঙালীর জাগরণে, স্বাধিকার ও স্বাধীনতার আন্দোলন সংগ্রামে এবং ধর্মান্ধতা ও সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর প্রেরণায় অনন্য ভূমিকা রেখেছেন।

রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ বলেছেন, নতুন প্রজন্ম নজরুল চর্চার মাধ্যমে নিজেদের সমৃদ্ধ করবে এবং বৈষম্যহীন, সমতাভিত্তিক একটি অসাম্প্রদায়িক সমাজ বিনির্মাণের প্রত্যয়ে দেশপ্রেমের মহান ব্রতে উজ্জীবিত হয়ে জাতি গঠনে অর্থবহ অবদান রাখবে।

রাষ্ট্রপতি বলেন, নজরুল বহুবার বাংলাদেশের পূর্ব, উত্তর ও দক্ষিণসহ বিভিন্ন অঞ্চলে ছুটে এসেছেন। অবিভক্ত বাংলার পশ্চাৎপদ জনপদসমূহের মানুষের কাছে এসেছেন। তার বর্ণাঢ্য ব্যক্তিত্ব এবং বক্তৃতা গান ও আবৃত্তির মাধ্যমে বাংলার সংখ্যাগরিষ্ট মানুষের মাঝে জাগরণের বাণী পৌঁছে দিয়েছেন এবং স্বাধীনতার বাণী শুনিয়েছেন। বীর মুক্তিযোদ্ধা রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ বলেন, নজরুলের সাহিত্য কর্ম পাকিস্তানী শাসকদের শোষণ ও বঞ্চনার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে আমাদের অনুপ্রাণিত করেছে। তার দেশপ্রেম ও উদ্দীপনামূলক কবিতা ও গান আমাদের লড়াই সংগ্রামের স্পৃহাকে শানিত করেছে।

অনুষ্ঠানে তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু, অতিরিক্ত সচিব এম মসিউর রহমান ও ময়মনসিংহের জেলা প্রশাসক ড. সুভাষ চন্দ্র বিশ্বাস বক্তৃতা করেন।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জাতীয় সংসদে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যান বেগম সিমিন আরা এমপি।

রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশে যথাযোগ্য মর্যাদায় আজ জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১১৯তম জন্মবার্ষিকী পালিত হয়েছে। ‘জাতীয় জাগরণে কবি নজরুল’ এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে আজ সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে এ উপলক্ষে বিভিন্ন অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

রাজধানীতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মসজিদের পাশে কবির সমাধিতে আজ সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যসহ শিক্ষক-কর্মচারীদের পক্ষ থেকে শ্রদ্ধা নিবেদনের মধ্যদিয়ে দিনের কর্মসূচি শুরু হয়। পরে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সংগঠনের পক্ষ থেকে কবির সমাধিতে পুস্পার্ঘ অর্পণ করা হয়। এছাড়া কাজী নজরুল ইসলামের পুত্রবধূ উমাকাজীর নেতৃত্বে পরিবারের পক্ষ থেকে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করা হয়।

জাতীয় কবির জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কবির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে পৃথক বাণী প্রদান করেন।

বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১১৯তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে। এ উপলক্ষে আজ সন্ধ্যায় জাতীয় নাট্যশালা মিলনায়তনে এবং আগামীকাল একই সময়ে একাডেমীর জাতীয় সঙ্গীত ও নৃত্যকলা কেন্দ্র মিলনায়তনে আলোচনা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। শিল্পকলা একাডেমির ও নজরুল ইন্সটিটিউট কবির জন্মবার্ষিকী উদ্যাপন উপলক্ষে আলোচনা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে।

‘জাতীয় জাগরণে কবি নজরুল এই প্রতিপাদ্য সামনে রেখে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আজ জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১১৯তম জন্মবার্ষিকী উদ্যাপন করেছে।
এ উপলক্ষে আজ ভোরে শিক্ষক, ছাত্র-ছাত্রী ও কর্মকর্তা-কর্মচারীগণ শোভাযাত্রাসহকারে কবির সমাধিতে যান এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষে কবির সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন।

পরে কবির মাজার প্রাঙ্গণে কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. কামাল উদ্দীনের সভাপতিত্বে এক স্মরণ সভা অনুষ্ঠিত হয়। স্মরণ সভায় বিশ্ববিদ্যালয় নজরুল গবেষণা কেন্দ্রের পরিচালক অধ্যাপক ড. বেগম আকতার কামাল, বিশিষ্ট কবি ও সমাজকল্যাণ গবেষণা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ড. মুহম্মদ সামাদ, বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ড. সৌমিত্র শেখর, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. এ কে এম গোলাম রব্বানী , অফিসার এসোসিয়েশনের সভাপতি সৈয়দ আলী আকবর বক্তব্য রাখেন।
নজরুলের কবিতা আবৃত্তি করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার মো. এনামউজ্জামান ও অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন বাংলা বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. ভীষ্মদেব চৌধুরী । অনুষ্ঠানে সংগীত বিভাগের চেয়ারপার্সন ড. মহসিনা আক্তার খানম (লীনা তাপসী)-এর নেতৃত্বে সংগীত পরিবেশন করেন বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।

বাংলাদেশ শিশু একাডেমী আয়োজিত জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১১৯তম জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে সকাল ৯টায় কবির মাজারে পুষ্পস্তবক অর্পণ ও সকাল ১০টায় বাংলাদেশ শিশু একাডেমীর মিলনায়তনে এক আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মাহমুদা শারমীন বেণু। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জনপ্রশাসন মন্ত্রীর একান্ত সচিব বিশিষ্ট নজরুল গবেষক এএফএম হায়াতুল্লাহ ও স্বাগত বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ শিশু একাডেমীর পরিচালক বিশিষ্ট ছড়াকার আনজীর লিটন। বিশিষ্ট নজরুল সঙ্গীতশিল্পী ইয়াসমিন মুশতারী নজরুল সঙ্গীত পরিবেশন করেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করে বাংলাদেশ শিশু একাডেমীর প্রশিক্ষণার্থী আহমেদ জাহিন জালাল। অনুষ্ঠানের শিশু একাডেমীর প্রশিক্ষণার্থী শিশু শিল্পীদের পরিবেশনায় কবিতা আবৃত্তি, ছড়াপাঠ ও গান পরিবেশিত হয়।

সোনারগাঁও বাংলাদেশ লোক ও কারুশিল্প ফাউন্ডেশন প্রাঙ্গণে আমাদের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১১৯ তম জয়ন্তী উদ্যাপন উপলক্ষে দিনব্যাপী কবির নির্বাচিত কবিতা আবৃত্তি, আলোচনা ও নজরুল সংগীতের আয়োজন করা হয়।
মঙ্গলপ্রদীপ প্রজ্বলনের মধ্যদিয়ে দিনব্যাপী অনুষ্ঠানমালার শুভ উদ্বোধন করেন ফাউন্ডেশনের পরিচালক কবি রবীন্দ্র গোপ। অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন ফাউন্ডেশনের ভারপ্রাপ্ত উপপরিচালক মো. রবিউল ইসলাম, শিল্পী একেএম আজাদ সরকার প্রমুখ।
কবিতা আবৃত্তি, সংগীতানুষ্ঠানে লালন পাঠশালার ছাত্র-ছাত্রী মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশর করে।

এছাড়া দেশের বিভিন্ন জেলায় প্রশাসনের উদ্যোগে ও সহযোগিতায় ঢাকা, কুমিল্লা , চট্রগ্রাম, সিলেট, রংপুর, বরিশালে যথাযোগ্য মর্যাদায় আজ জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১১৯তম জন্মবার্ষিকী পালিত হয়েছে।

Leave a Reply

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

2 × three =