জানাজা পড়াতে গিয়ে কন্যা হত্যার বিচার চাইলেন রাফির বাবা মুসা মিয়া:শোকার্ত পরিবারের পাশে সর্বস্তরের মানুষ

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

জীবন্ত দগ্ধ নুসরাত জাহান রাফিকে দাদীর কবরের পাশে চিরনিদ্রায় শায়িত করা হলো।রাফির জানাজা পড়ান তার বাবা এ এস এম মুসা মিয়া।ফেনীর সোনাগাজীর মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফির জানাজা হয় স্থানীয় ছাবের সরকারি পাইলট উচ্চবিদ্যালয় মাঠে।আজ বিকেল পাঁচটা আট মিনিটে নুসরাতের লাশ সোনাগাজীর উত্তর চর চান্দিয়া এলাকার বাড়িতে পৌঁছায়। জানাজায় নুসরাতের মা শিরিন আক্তার ও ছোট ভাই রায়হান এবং পরিবারের অন্য সদস্যদের সঙ্গে কয়েক হাজার মানুষ উপস্থিত ছিলেন। জানাজা শেষে আজ বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় পারিবারিক কবরস্থানে নুসরাত জাহান রাফিকে সমাহিত করা হয়।

জানাজার আগে স্থানীয়দের উদ্দেশে মুসা মিয়া বলেন, ‘বাড়ির আগুন সবাই দেখে। মনের আগুন কেউ দেখে না।’ কন্যা হত্যার বিচার চেয়ে বাবা বলেন, ‘আমাদের মতো কোনো বাবা-মার কোল যেন এভাবে খালি না হয়।’ তিনি নৃশংস এই ঘটনার বিচার দাবির পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী, হাসপাতালের চিকিৎসক ও গণমাধ্যমকর্মীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।

ফেনীর মানুষ বলছেন, মাদ্রাসা অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলার বিরুদ্ধে আগের অভিযোগগুলোর উপযুক্ত বিচার হলে তার লোকজন নুসরাতকে হত্যার সাহস দেখাতে পারতো না। যৌন হয়রানি ছাড়াও সিরাজ উদ দৌলার বিরুদ্ধে আরো অনেক অভিযোগ তুলে ধরেছেন তারা।নুসরাত জাহান রাফির মৃত্যুর খবরের পর থেকেই সোনাগাজী শোকের জনপদ। যারা নুসরাতের শ্লীলতাহানিকারী এবং নুসরাত হত্যার মূল আসামী মাদ্রাসা অধ্যক্ষ সিরাজ উদ্দৌলার পক্ষে মাঠে নেমেছিল, তারা পালিয়ে গেছে। নুসরাতের শোকার্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানাতে সর্বস্তরের হাজার হাজার মানুষের ঢল নামে।

বুধবার রাতে নুসরাতের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে আজ সকাল থেকেই সোনাগাজী সদরে হাজারো মানুষের ঢল নামে। বিশেষ করে নুসরাতের বাড়ি ও আশপাশের এলাকায় তিল ধারণের ঠাঁই ছিল না। হাজার হাজার মানুষকে সামাল দিতে উপজেলা সদরের বিভিন্ন মোড়ে পুলিশ মোতায়েন করা হয়। শত শত তরুণকে শৃঙ্খলা রক্ষার কাজে নিয়োজিত থাকতে দেখা যায়।

নুসরাতের বাড়ি থেকে দেড় কিলোমিটার দূরে বিদ্যালয় মাঠে লাশ আনা হয় বিকেলে। সেখানে বক্তব্য দেন সাংসদ মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীর পক্ষে তাঁর ভাই সাইফুদ্দিন চৌধুরী, আওয়ামী লীগ নেতা আলাউদ্দিন আহমেদ চৌধুরী, জেলা প্রশাসক মো. ওয়াহিদুজজামান, পুলিশ সুপার এস এম জাহাঙ্গীর আলম সরকার, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবদুর রহমান, উপজেলা চেয়ারম্যান জহির উদ্দিন মাহমুদ প্রমুখ। সবাই নুসরাতের খুনিদের আইনের আওতায় এনে শাস্তির প্রতিশ্রুতি দেন।

৬ এপ্রিল সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার প্রশাসনিক ভবনের ছাদে নুসরাতের শরীরে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয় দুর্বৃত্তরা। সংকটজনক অবস্থায় ওই দিনই তাঁকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হয়। গত বুধবার রাত সাড়ে নয়টার দিকে নুসরাত মারা যান। তাঁর শরীরের ৮০ শতাংশ পুড়ে যায় বলে জানিয়েছিলেন চিকিৎসকেরা।

এর আগে গত ২৭ মার্চ অধ্যক্ষ সিরাজ উদ্দৌলাহর বিরুদ্ধে শ্লীলতাহানির অভিযোগে মামলা করেন নুসরাতের মা। গত রোববার নুসরাত চিকিৎসকদের কাছে দেওয়া শেষ জবানবন্দিতে বলেছিলেন, নেকাব, বোরকা ও হাতমোজা পরা চারজন তাঁর গায়ে আগুন ধরিয়ে দেন। ওই চারজনের একজনের নাম শম্পা।

Leave a Reply

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

ten + 7 =