‘জিকা’ আতঙ্কে বিশ্ব: ‘হু’র হুঁশিয়ারি, ভারতে জরুরি বৈঠক

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

ভারত-সহ অন্যান্য যেসব দেশে ‘এডিস’ মশা রয়েছে, সেখানে আগাম সতর্কতা ব্যবস্থা নেয়া জরুরি বলে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ‘হু’-এর পক্ষ থেকে সম্প্রতি জানানো হয়েছে।

এর প্রেক্ষিতে ভারতের কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী জে. পি. নড্ডার আজ শনিবার এক জরুরি বৈঠক ডেকে কিছু প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেন এবং কিছু নির্দেশনাও দেন।

‘জিকা’ ভাইরাসের বাহক-মশা ‘এডিস ইজিপ্টাই’ ডেঙ্গু রোগেরও বাহক। তবে এ ভাইরাস আক্রমণ করে ভ্রূণে, যার ফলে শিশু জন্ম নেয় অপেক্ষাকৃত ছোট মস্তিষ্ক নিয়ে। এ কারণে লাতিন আমেরিকার কলম্বিয়া, ইকুয়েডর-সহ বিশ্বের একাধিক দেশে মহিলাদের সন্তানধারণ আপাতত বন্ধ রাখতে বলেছে সেসব দেশের সরকার।

এ ভাইরাস প্রথম পাওয়া যায় ১৯৪৭-এ উগান্ডার জিকা অরণ্যের একটা বাঁদরের রক্তে। বর্তমানে পৃথিবীর অন্তত ২৪টি দেশে এ ভাইরাসের প্রকোপ দেখা গেছে। যেরকম দ্রুতগতিতে এ ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ছে, তাতে ভীষণ উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (হু)। সংস্থাটির পক্ষ থেকে সম্প্রতি জানানো হয়েছে, ভারত-সহ অন্যান্য যেসব দেশে ‘এডিস’ মশা রয়েছে, সেখানে আগাম সতর্কতা নেয়া হোক। এরই প্রেক্ষিতে ভারতের কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী জে. পি. নড্ডা আজ শনিবার নয়াদিল্লিতে চিকিৎসক এবং গবেষকদের সঙ্গে বৈঠক করেন।

ভারতীয় সরকারি সূত্রে জানানো হয়, বর্তমানে মূলত নজর দেওয়া হবে ‘এডিস’ নিধনের দিকেই। পরিস্থিতির উপর নজর রাখতে এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে একটি সরকারি কমিটিও গঠন করা হয়েছে। ভাইরাস-আক্রান্ত দেশগুলি থেকে ভারতে আগত বিমানযাত্রীদের স্বাস্থ্যপরীক্ষার পদক্ষেপও নেয়া হতে পারে। ইন্ডিয়ান মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশন (আইএমএ) ইতোমধ্যেই এক বিবৃতিতে সন্তানসম্ভবা ভারতীয় মহিলাদেরকে ব্রাজিল, এল সালভাদর, ইকুয়েডর, কলম্বিয়া-সহ একাধিক দেশে না যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছে।

এ বছর আগস্টে ব্রাজিলের রিও ডি জেনেইরোতে অলিম্পিক অনুষ্ঠিত হবে, যা ‘হু’ এবং অলিম্পিকে যোগদানেচ্ছু দেশগুলোর উদ্বেগকে আরো বাড়িয়ে তুলছে।

‘জিকা’য় আক্রান্ত ব্যক্তির ক্ষেত্রে সাধারণত জ্বর, গা-ব্যথা, বমিভাব ইত্যাদি লক্ষণ দেখা যায়, যা অনেকটাই ডেঙ্গু সংক্রমণের মতোই। সন্তানসম্ভবা মহিলারা এ ভাইরাসে আক্রান্ত হলে তার প্রভাব পড়ে ভ্রূণে, যার ফলে অনেক ক্ষেত্রেই ‘মাইক্রোকেফালি’ নিয়ে জন্মায় সন্তান। এক্ষেত্রে শিশুর মস্তিষ্ক অস্বাভাবিক ছোট হয় বলে তার বিকাশ ঠিকমতো হয় না। এছাড়াও, ‘গুলেন-ব্যারি সিনড্রোম’ বা অন্যান্য স্নায়ুঘটিত রোগেও আক্রান্ত হতে পারে নবজাতক।

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, অন্তঃসত্ত্বাদের মধ্যে বিষয়টি নিয়ে সচেতনতা বাড়ানো দরকার। এ ছাড়া, বাহক মশার বংশবৃদ্ধিও বন্ধ করতে হবে। বাড়িঘর পরিষ্কার রাখতে হবে। কোথাও যেন জল না জমে—এমনকি বাটি, কলসিতেও যেন জল জমিয়ে রাখা না হয়।

আসন্ন অলিম্পিক ক্রীড়ানুষ্ঠানকে সামনে রেখে ব্রাজিল সরকার আপ্রাণ চেষ্টা করছে জিকা ভাইরাসের একটি টিকা বের করার জন্যে। ব্রাজিলের সাও পাওলো শহরে অবস্থিত বিশ্ববিশ্রুত ফার্মাসিউটিক্যাল গবেষণা প্রতিষ্ঠান বুতান্তান ইনস্টিটিউট এ-ক্ষেত্রে অগ্রণী ভূমিকা নিচ্ছে বলে বিবিসি জানায়।

 

Leave a Reply

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

2 × three =