জেএমবি’র সাথে বন্দুকযুদ্ধ-২ পুলিশ আহত:অভিজিৎ হত্যার গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পেয়েছে পুলিশ

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

রাজধানীর বাড্ডা সাঁতারকুল রোডে  আবদুল্লাহবাগ জিএম বাড়ি এলাকায় শুক্রবার রাতে জঙ্গি সদস্যদের সঙ্গে গোয়েন্দা পুলিশের প্রায় আধা ঘণ্টা ব্যাপী বন্দুকযুদ্ধ হয়েছে।  ডিবি’র পরিদর্শক বাহাউদ্দিন ফারুকী (৪২) সহ ২ কর্মকর্তাকে চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে জঙ্গীরা পালিয়ে যায়।তাঁকে প্রথমে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ও পরে স্কয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বাহাউদ্দিন  বর্তমানে আশংকামুক্ত বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা। ঘটনার পর পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে ছুটে যান। ঘটনাস্থলে ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার ও নবগঠিত ‘কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিট’ এর প্রধান মনিরুল ইসলাম বলেন, জঙ্গিদের মধ্যে দু’জন তাদের নাম মনির ও কাদের বলে দাবি করেছেন। এসব তাদের প্রকৃত নাম কিনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তিনি বলেন, জিজ্ঞাসাবাদের জন্য বাড়ির মালিককে আটক করা হয়েছে। গুলশান বিভাগ পুলিশ ও ডিবির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এলাকায় যান।সেই  বাড়ির নিচতলার মেস এবং এলাকায় অভিযান চালিয়ে জঙ্গি সন্দেহে দুজনকে আটক করে পুলিশ।রাতে  জেএমবি জঙ্গী মনির ও কাদেরকে জিজ্ঞাসাবাদে গোয়েন্দারা জানতে পেরেছেন, তারা আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের সদস্য। তাদের কাছ থেকে অভিজিৎ হত্যার কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছেন পুলিশ কর্মকর্তারা।গোয়েন্দারা জানান,  সেই মেসের পাশের মসজিদ ও মাদ্রাসা ঘিরে জঙ্গিরা সংগঠিত হচ্ছিল।

বাড্ডা এলাকার জঙ্গী আস্তানায় বন্দুকযুদ্ধের পর শুক্রবার রাতে ঘিরে রেখেছে পুলিশ
বাড্ডা এলাকার জঙ্গী আআস্তানা ঘিরে রেখেছে পুলিশ

ঘটনার পর সেই বাড়িসহ (জঙ্গি আস্তানা) আশপাশের পুরো এলাকা ঘিরে চিরুনি অভিযান চালাচ্ছে র‍্যাব ও পুলিশ। ওই এলাকায় কাউকে প্রবেশ করতে দেয়া হচ্ছে না। এদিকে গুলি বর্ষণ করতে করতে পালানোর সময় স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় পুলিশ তিনজনকে আটক করে।  পুলিশ বলেছে, রিমান্ডে থাকা জঙ্গিদের তথ্যের ভিত্তিতে ডিবি জামাআতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশের (জেএমবি) আস্তানায় অভিযান চালাতে গেলে এই বন্দুকযুদ্ধ হয়।

রিমান্ডে থাকা জঙ্গিদের জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, সাঁতারকুলের আবদুল্লাহবাগে পাঁচতলা একটি বাড়ির নিচতলায় জেএমবির আস্তানা আছে। এ তথ্যের ভিত্তিতে এক জঙ্গিকে সঙ্গে নিয়ে গতকাল রাত সাড়ে আটটার দিকে পরিদর্শক বাহাউদ্দিন ফারুকীর নেতৃত্বে ডিবি দক্ষিণ বিভাগের আট সদস্য সেই জঙ্গি আস্তানায় অভিযানে যান। সঙ্গে নেয়া জঙ্গিকে ডিবির গাড়িতে বসিয়ে রেখে ডিবির দলটি বাড়িটির নিচতলার দরজার কড়া নাড়ে। এ সময় দরজা খুলে ১০-১২ জন জঙ্গি ডিবির দলকে লক্ষ্য করে গুলি ছুঁড়তে থাকে। অভিযানে অংশ নেওয়া ডিবির এসআই মিজানুর রহমান বলেন, তাঁরা কিছু বুঝে ওঠার আগেই জঙ্গিরা গুলি ছোড়ে। তাঁরাও পাল্টা গুলি চালান। একপর্যায়ে জঙ্গিরা ডিবির পরিদর্শক বাহাউদ্দিনকে চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে পালিয়ে যায়। বাহাউদ্দিনের মাথায় গুরুতর জখম হয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শুক্রবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে সাঁতারকুল রোডের ৫৭৭ আবদুল্লাহবাগের (জিএম বাড়ি) পাঁচ তলা বাড়ির নিচ তলায় একটি মেসে অভিযান চালায় পুলিশ। ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী গার্মেন্টকর্মী আলেয়া খাতুন জানান, ৭ থেকে ৮ জন পুলিশ সদস্য সাদা পোশাকে ওই ঘরের সামনে দাঁড়িয়ে দরজা খুলতে বলেন। প্রায় ২ থেকে ৩ মিনিট পর ভেতর থেকে দরজা খুলেই মেসের লোকজন এলোপাতাড়ি গুলি ছুড়ে পালাতে থাকে। পুলিশও তখন পাল্টা গুলি ছুড়লে পুরো এলাকায় আতংক ছড়িয়ে পড়ে। পার্শ্ববর্তী বাড়ির বাসিন্দা সাজ্জাদ আলী যুগান্তরকে জানান, ঘটনার সময় তিনিসহ ৭-৮ জন পার্শ্ববর্তী তাসলিমুল উলুম হাফিজিয়া মাদ্রাসা ও পুরনো মসজিদ থেকে নামাজ পড়ে বাসায় ফিরছিলেন। এ সময় কয়েকজন যুবক গুলি ছুড়তে ছুড়তে তাদের সামনে দিয়ে পলিয়ে যেতে থাকে। তাদের পেছনে পুলিশও গুলি ছুড়ছিল। সাজ্জাদ আলী বলেন, মুহুর্মুহু গুলির শব্দে তারা আতংকিত হয়ে রাস্তার পাশে শুয়ে পড়েন। এভাবে প্রায় ১৫ থেকে ২০ মিনিট শুয়ে থাকার পর গুলির শব্দ কিছুটা কমলে তারা বাসায় যান। এদিকে ঘটনাস্থল থেকে মাথায় আঘাতগ্রস্ত অবস্থায় ইন্সপেক্টর বাহাউদ্দিনসহ অপর আরেক পুলিশ সদস্যকে প্রথমে বাড্ডা জেনারেল হাসপাতাল ও পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য স্কয়ার হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।

পুলিশের গুলশান বিভাগের সহকারী কমিশনার (এসি) রফিকুল ইসলাম জানান, শুক্রবার গাজীপুর থেকে গ্রেফতারকৃত এক জঙ্গি সদস্যকে নিয়ে গোয়েন্দা পুলিশের দলটি ওই বাড়িতে অভিযান চালাতে যায়। ওই আসামি ব্লগার অভিজিৎ হত্যার সন্দেহভাজন খুনি। এ সময় কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগেই ওই বাড়ির নিচ তলার মেস থেকে জঙ্গি সদস্যরা পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলিবর্ষণ করতে থাকে। তিনি বলেন, খবর পেয়ে বিপুলসংখ্যক পুলিশ ও র‌্যাব সদস্যরা ওই এলাকায় ছুটে গিয়ে পুরো এলাকা ঘিরে ফেলেন। পরে স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় চিরুনি অভিযান চালিয়ে তিনজনকে আটক করা হয়। রাতে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত অভিযান চলছিল।
স্থানীয় লোকজন জানান, সাঁতারকুল রোড (জিএম বাড়ির) আবদুল্লাহবাগের ওই বাড়িটির মালিক প্রকৌশলী মো. হানিফ। গার্মেন্টকর্মীসহ স্বল্প আয়ের লোকজন বাড়িটির বিভিন্ন তলায় ছোট ছোট কক্ষে মেস করে থাকেন। শুক্রবার রাতে পুলিশ যে মেসটিতে অভিযান চালায় সেখানে ১০-১২ জন যুবক থাকতেন বলে জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা শেফালী বেগম। মাত্র ২ মাসে আগে তারা মেসে ওঠে বলে তিনি জানান। ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) উপকমিশনার (দক্ষিণ) মাশরুকুর রহমান খালেদ জানান, সাঁতারকুলের সেই বাসার নিচ তলায় জঙ্গি আস্তানা রয়েছে এমন সংবাদের ভিত্তিতে ডিবির একটি দল অভিযানে যায়। তবে দলটি বাসায় ঢোকার আগেই ভেতর থেকে গুলি ছোড়া হয়। তিনি বলেন, গোলাগুলির মধ্যেই জঙ্গিদের কয়েকজন কৌশলে বাসা থেকে পালিয়ে যায়। বাসার ভেতর থেকে গুলি ছোড়া বন্ধ হওয়ার পর ডিবি কর্মকর্তারা ভেতরে ঢোকার চেষ্টা করেন। তখন জঙ্গিদের একজন ধারালো অস্ত্র দিয়ে বাহাউদ্দিনের ওপর হামলা চালায়। এতে তার কাঁধে আঘাত লাগে।

Leave a Reply

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

seven + 15 =