‘টু কিল আ মকিং বার্ড’-এর লেখিকা লি আর নেই

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

বিশ্ববিশ্রুত মার্কিন লেখিকা হার্পার লি’র জীবনাবসান ঘটেছে। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮৯ বছর।

গতকাল শুক্রবার সকালে (স্থানীয় সময়) যুক্তরাষ্ট্রের আলবামা রাজ্যের মনরোভিল শহরে নিজ বাসভবনে ঘুমের মধ্যে লি শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন বলে এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন তাঁর অ্যাটর্নি তোন্‌জা কার্টার।

শহরটির মেয়র মাইক কেনেডিও লি’র মৃত্যুসংবাদ নিশ্চিত করেছেন। তবে কিভাবে এই নবতিপর ঔপন্যাসিকার মৃত্যু হয়েছে, তা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।

বিখ্যাত এই লেখিকার অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া পারিবারিকভাবেই সম্পন্ন করা হবে বলে কার্টারের বিবৃতিতে জানানো হলেও, কবে তা অনুষ্ঠিত হবে, সে ব্যাপারে কিছু জানানো হয়নি।

‘টু কিল আ মকিং বার্ড’ উপন্যাসের জন্য প্রবাদতুল্য জনপ্রিয়তা পাওয়া হার্পার লি ১৯২৬ সালের ২৮ এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্রের মনরোভিল শহরে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পুরো নাম নেল হার্পার লি।

১৯৬০ সালে তার বিখ্যাত বই টু কিল আ মকিং বার্ড প্রকাশিত হয়। প্রকাশের পরের বছর বইটি পুলিৎজার পুরস্কারও পায়। বিশ্ব জুড়ে বইটির ইংরজি সংস্করণই চার কোটিরও বেশি বিক্রি হয়েছে। মোট চল্লিশটি ভাষায় অনূদিত হয় এই উপন্যাস।

‘টু কিল আ মকিংবার্ড’ উপন্যাসটি অ্যালাবামা শহরে বর্ণবাদী অবিচার নিয়ে লেখা। সমালোচকরা বলছেন, এই বইটির জন্য লেখক সাহিত্যের ইতিহাসে অমর হয়ে থাকবেন।

একজন সাহিত্য সমালোচকের মন্তব্য, কেবল ‘প্রাইড অ্যান্ড প্রেজুডিস’-এর প্রথম অধ্যায়ই জেন অস্টেনকে অমর রাখতে যথেষ্ট। ঔপন্যাসিক হার্পার লি সম্বন্ধে এতটা স্পর্ধা সঙ্গত হবে না। আবার তার মকিংবার্ড জনমনে যে দাগ কেটেছে, তা সহসা মুছে যাবে, এ ধারণা করাও অকল্পনীয়। ভদ্রমহিলার লেখকসত্তার অন্তর্নিহিত শক্তি কিন্তু টের পাওয়া যায় অর্ধশতাব্দী পর সম্প্রতি প্রকাশ দ্বিতীয় বই ‘গো সেট এ ওয়াচম্যান’-এর প্রকাশপূর্ব আলোড়ন সৃষ্টির ক্ষমতা দেখে।

দীর্ঘ ৫৫ বছর পরে গত বছর হার্পার লি’র দ্বিতীয় ও সর্বশেষ উপন্যাস ‘গো সেট অ্যা ওয়াচম্যান’ প্রকাশিত হয়। মকিংবার্ডের সিক্যুয়েল হলেও এটি ‘টু কিল অ্যা মকিং বার্ড’ এর আগেই লেখেন তিনি।

নিয়েলসেন ইনস্টিটিউটের হিসাব অনুযায়ী, ২০১৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রে প্রকাশিত বইগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি বিক্রি হয়েছে গো সেট অ্যা ওয়াচম্যান। এটি বিক্রি হয়েছে ১ দশমিক ৬ মিলিয়ন কপি।

মৃত্যুর আগে হারপার লি সচরাচর জনসম্মুখে আসতেন না। ২০০৭ সালে জর্জ বুশের কাছ থেকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেনশিয়াল মেডেল অব ফ্রিডম লাভ করেন তিনি।

হারপার লি’র মৃত্যুতে মার্কিন সাহিত্য অনুরাগীদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। তার মৃত্যুতে শোক জানিয়েছেন অ্যাপলের প্রধান নির্বাহী টিম কুক।

হারপার লির সাহিত্যবিষয়ক এজেন্ট অ্যান্ড্রু নুর্নবার্গ বলেন, “বিগত কয়েক বছর লি’র সঙ্গে পরিচয় থাকা কেবল আনন্দের নয়, বিশেষ সুযোগও। মাত্র ছয় সপ্তাহ আগে আমি যখন তাঁকে দেখেছিলাম, তিনি খুব প্রাণবন্ত ছিলেন। তাঁর মন ও খুনসুটি ধরনের কথাবার্তা ছিল সবসময়ই ক্ষুরধার। তিনি টমাস মুর থেকে উদ্ধৃতি দিচ্ছিলেন এবং টিউডর ইতিহাস আমাকে বাতলে দিচ্ছিলেন। আমরা একজন মহান লেখক, একজন বন্ধু ও বিশুদ্ধতার এক বাতিঘরকে হারালাম।“

Leave a Reply

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

8 + fifteen =