ঢাকার ক্যারিশমাটিক মেয়রের চির প্রস্থান

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

রাজনীতিবিদ হিসাবে আবির্ভূত হয়ে আওয়ামী লীগের পক্ষে তিনি ২০১৫ সালে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের মেয়র নির্বাচিত হন। যিনি হাতের জামা গুটিয়ে উদ্যোগী হয়েছিলেন, পথে নেমে এসেছিলেন নগরবাসীকে তাদের প্রাপ্য দেয়ার অভিপ্রায়ে ।

প্রয়াত আনিসুল হকের পরিচিতি এখানেই সীমাবদ্ধ নয়, বাংলাদেশের একজন প্রথিতযশা তৈরি পোশাক ব্যবসায়ী , বিজিএমই-এর সভাপতি , পরে এফবিসিসিআইর সভাপতি নির্বাচিত হয়েছিলেন তিনি । পরবর্তীতে সার্ক চেম্বারের সভাপতির দায়িত্বেও ছিলেন। আনন্দমেলা’ ও ‘অন্তরালে’ নামক বিটিভির দুইটি জনপ্রিয় অনুষ্ঠানে উপস্থাপক হিসাবে একসময় দর্শক নন্দিত হয়ে ওঠেন । এছাড়া তিনি ছিলেন দেশের সাংস্কৃতিক জগতের একজন অন্যতম পৃষ্টপোষক।

আনিসুল হকের জন্ম নোয়াখালি জেলায় ১৯৫২ সালে। তার শৈশবের বেশ কিছু সময় কাটে তার নানাবাড়ি ফেনী জেলার সোনাগাজীর আমিরাবাদ ইউনিয়নের সোনাপুর গ্রামে। তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক ডিগ্রী অর্জন এবং চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে পড়াশোনা শেষ করেন।

২০১৭ সালের ১৩ আগস্টে, তাঁকে লন্ডনের একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তখন তাঁর মস্তিষ্কের রক্তনালীর প্রদাহ (সেরিব্রাল ভাস্কুলাইটিস) ধরা পড়ে। ৩০ শে নভেম্বর বাংলাদেশ সময় বৃহস্পতিবার রাতে চিকিৎসকেরা তাঁর কৃত্রিম শ্বাস-প্রশ্বাসযন্ত্র খুলে নেন। এরপর তাঁকে মৃত ঘোষণা করা হয়। তাঁর বয়স হয়েছিল ৬৫ বছর। তিনি স্ত্রী, দুই মেয়ে ও এক ছেলে রেখে গেছেন। বৃহস্পতিবার রাতে মেয়রের পারিবারিক সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে। বাংলাদেশ বিমানের একটি ফ্লাইটে আনিসুল হকের মরদেহ শনিবার সকালে ঢাকায় পৌঁছবে বলে জানিয়েছে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন।

রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মেয়র আনিসুল হকের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। তাঁরা শোকবার্তায় মরহুমের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন ও শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।

Leave a Reply

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

3 + 9 =