ঢাকা-চট্টগ্রাম উড়াল এক্সপ্রেসওয়ে তৈরির নির্দেশ হাসিনার

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

রাজধানী ঢাকার সঙ্গে দেশের বাণিজ্যিক রাজধানী চট্টগ্রামের সঙ্গে যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত করতে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের চার লেনের উপরে হবে আরো চার লেন। এ মহাসড়কের ওপরে ২২০ কিলোমিটার উড়াল মহাসড়ক বা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

বর্তমানে মূল চার লেনের দৈর্ঘ্য ১৯০ কিলোমিটার হলেও, এক্সপ্রেসওয়েটির দৈর্ঘ্য আরো ৩০ কিলোমিটার বাড়ানো হবে। পদ্মাসেতুর মতো এটিও একটি বৃহৎ ও গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প হতে যাচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আজ রোববার বলেন, সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (মিলেনিয়াম ডেভেলপমেন্ট গোল-এমডিজি) পূরণে বাংলাদেশের সাফল্য অভাবনীয়। তিনি প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে ‘টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (সাস্টেইনেবল ডেভেলপমেন্ট গোল-এসডিজি) অর্জন’ বিষয়ে দক্ষিণ এশীয় স্পিকারদের প্রথম শীর্ষ সম্মেলনের সমাপনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখছিলেন।

প্রধানমন্ত্রী আজ মঙ্গলবার রাজধানীর শেরে বাংলানগর এনইসি সম্মেলন কক্ষে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) বৈঠকে এ নির্দেশনা দেন।

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের চার লেনের ওপর দিয়ে এ এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণ করা হবে। ঢাকা থেকে এক্সপ্রেসওয়ে ব্যবহার করলে একবারে চট্টগ্রামে গিয়ে নামতে হবে। ২২০ কিলোমিটার দীর্ঘ এই এক্সপ্রেসওয়ের অন্য কোথাও থামা যাবে না, এবং এর উপরে কোনো দোকানপাট থাকবে না।

এদিকে বৈঠকে চলমান ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক চার লেনে উন্নীতকরণ প্রকল্পের ব্যয় ও মেয়াদ বাড়ানোর চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে একনেক। চতুর্থ দফায় আরো ৬২৬ কোটি ৬৪ লাখ টাকা ব্যয় বেড়ে এ প্রকল্পের মোট ব্যয় দাঁড়িয়েছে ৩,৮১৬ কোটি ৯৩ লাখ টাকা। অন্যদিকে প্রকল্প বাস্তবায়নের সময় এক বছর বাড়িয়ে হয়েছে এ বছরের ডিসেম্বর পর্যন্ত।

চারলেনের ওপরে প্রস্তাবিত উড়াল সড়ক দিয়েও বাস, ট্রাকসহ অন্যান্য পরিবহন চলাচলের ব্যবস্থা করা হবে। একটি রুটে রেলপথের ব্যবস্থা করা যায় কিনা, সে-বিষয়ে খুব শিগগিরই সংশ্লিষ্টদের নিয়ে বসবেন পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল।

বৈঠক শেষে পরিকল্পনামন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে একনেক বৈঠকে এক্সপ্রেসওয়ে নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। তিনি(প্রধানমন্ত্রী) আমাদের বলে দিয়েছেন এক্সপ্রেসওয়ের কাজ শুরু করতে।

তিনি জানান, ঢাকা-চট্টগ্রাম ফোরলেনের ওপরে আরও একটি ফোরলেন হবে। নির্মাণাধীন ফোরলেনটি ১৯০ কিলোমিটার, তবে এক্সপ্রেসওয়ে আরও একটু বেশি ২২০ কিলোমিটার হবে। এটি নির্মাণের ফলে সড়কপথে খুব কম সময়ে ঢাকা থেকে চট্টগ্রামে যাতায়াত করা যাবে।

পরিকল্পনামন্ত্রী আরও জানান, এই দীর্ঘ এক্সপ্রেসওয়ের মাঝপথে থামার কোনো সুযোগ নেই। ঢাকা থেকে চট্টগ্রামে গিয়ে থামতে হবে। মহাসড়ক অনেক সময় হকাররা দখল করে ফেলেন। কিন্তু এখানে কারোরই দাঁড়ানোর কোনো সুযোগ নেই।

একনেক বৈঠকে দেশের প্রতিটি বিভাগীয় শহরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নামে নভোথিয়েটার নির্মাণেরও নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। ঢাকার বিজয় সরণিতে অবস্থিত  বঙ্গবন্ধু নভোথিয়েটারের আদলে সেগুলো নির্মাণ করা হবে।

Leave a Reply

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

two × 3 =