ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি লেখক সম্মাননা ২০১৮ পেলেন সুমি খান সহ ৪৮ জন

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

মননশীল, শিশুসাহিত্য ও গবেষণামূলক বইয়ের জন্য  ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি (ডিআরইউ) লেখক সম্মাননা ২০১৮ পেলেন সূর্যবার্তা সম্পাদক সুমি খান সহ ৪৮ জন সাংবাদিক । ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন ডিআরইউ’র সাগর-রুনি মিলনায়তনে ডি আর ইউ সভাপতি সাইফুল ইসলামের সভাপতিত্বে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সম্মাননা দেওয়া হয়।

অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেছেন ডি আর ইউ নারী বিষয়ক সম্পাদক ঝর্ণা মনি। সাংবাদিকতার পাশাপাশি একুশে বইমেলা ২০১৮ তে প্রকাশিত জঙ্গি মৌলবাদ : বিপন্ন সভ্যতা বইটির জন্যে সুমি খান এ সম্মাননা পান।

সুমি খান বাংলাদেশের চার অনলাইন নারী সম্পাদকদের অন্যতম একজন যিনি ২৫ বছর সাংবাদিকতা জীবনে আছেন, গণসংযোগ ও সাংবাদিকতা নিয়ে মাস্টার্স শেষ করেছেন সম্প্রতি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে। ইন্টারন্যাশনাল উইমেন মিডিয়া ফাউন্ডেশন এর আই ডাবলিও এম এফ এর বৃত্তি নিয়ে সুমি খান এই মাস্টার্স ডিগ্রি সফলভাবে শেষ করেন।

১৯৮৫ সাল থেকে শুরু হয় তাঁর লেখালেখি। ১৯৯৯ সালে দৈনিক যুগান্তরে যোগ দেন তিনি ।তার আগে ৫ বছর কাজ করেছেন সাপ্তাহিক ২০০০ পত্রিকায়। চট্টগ্রামের স্থানীয় দৈনিক আজাদী, দৈনিক পূর্বকোণে লিখেছিলেন নারী অধিকার, মানবাধিকার নিয়ে। লিখেছেন বর্ণবাদবিরোধী অনেক লেখাও।

নারী নির্যাতন নিয়ে একের পর এক করতে থাকেন রিপোর্ট। আপোষ করেননি নিপীড়কদের হুমকির মুখে। প্রতিবেদন করেন জঙ্গিবাদ মৌলবাদ নিয়েও। সাংবাদিকতার জন্যে আক্রান্ত ও আহত হন; কারাবন্দী ও হন।

তথাপি লেখা অব্যহত রেখেছেন, আপোষ করেননি মৌলবাদী ও সুবিধাবাদী গোষ্ঠীর কাছে, তবে সাংবাদিকতায় দায়বদ্ধতার অনেক মূল্য তাকে দিতে হয়েছে! চাকুরী ক্ষেত্রে বিভিন্ন সময়ে তাকে বঞ্চিত ও নিষ্ক্রিয় করে রেখেছে বিগ সিন্ডিকেটের জাল ! সুমি খান ২০০৬ সালে একুশে টেলিভিশনে যোগ দেন। ২০০৯ সালে তিনি একুশে টেলিভিশনের প্রধান প্রতিবেদকের দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তী সময়ে যোগ দেন ইন্ডিপেন্ডেন্ট টেলিভিশন এবং মোহনা টেলিভিশনে। ২০১১ সালে দৈনিক আমাদের সময় এর চট্টগ্রাম ব্যুরো চিফ হিসেবে কাজ শুরু করেন।

কাজ করেছেন কাতার ভিত্তিক বিখ্যাত গণমাধ্যম আল জাজিরাতে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যমে স্ট্রিংগার হিসাবে কাজ করেছেন,  দৈনিক জনকণ্ঠের বিশেষ প্রতিনিধি হিসাবে কাজ করেছেন ২০১৫ সালে। কনসালটেন্সি করেছেন মিডিয়া এন্ড রিসার্চ অর্গানাইজেশন অরেঞ্জ কমিউনিকেশন নামক ডাচ সংস্থাটিতে । অব্যহত রেখেছেন এখনো আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে লেখালেখি ।

২০০৫ সালে তিনি নিউইয়র্ক ভিত্তিক আইডব্লুএমএফ কারেজ এ্যাওয়ার্ড, কমিটি টু প্রটেক্ট জার্নালিস্ট সিপিজে কারেজ এওয়ার্ড এবং লন্ডন ভিত্তিক  ইনডেক্স দ্য গার্ডিয়ান হুগোইয়ং এওয়ার্ড পুরস্কার লাভ করেন।সৎ ও সাহসী সাংবাদিকতা ও প্রেস ফ্রিডমের জন্য এই পুরস্কারগুলো অর্জন করেন সুমি খান। সুমি খান ই প্রথম বাংলাদেশী সাংবাদিক যিনি এই তিনটি বিখ্যাত আন্তর্জাতিক পুরস্কার লাভ করেন। এছাড়া দেশীয় অঙ্গনে পেয়েছেন ডিআরইউ বেস্ট ক্রাইম রিপোর্ট এ্যাওয়ার্ড,  ডেমোক্রেসিওয়াচ শ্রেষ্ঠ অনুসন্ধানী প্রতিবেদন পুরস্কার এবং অনন্যা শীর্ষ দশ পুরস্কার। সুমি খান ২০১৫ সালে ডি আর ইউ’র নির্বাচিত নারী বিষয়ক সম্পাদক হিসাবে সাফল্যের সাথে দায়িত্ব পালন করেন।

Leave a Reply

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

eleven + nineteen =