ঢাবি প্রক্টর গোলাম রব্বানীর কুশপুত্তলিকায় আগুন দিয়েছে বাম ছাত্র সংগঠন

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) প্রক্টর অধ্যাপক একেএম গোলাম রব্বানীর কুশপুত্তলিকায় আগুন দিয়েছেন কয়েকটি বামপন্থি ছাত্র সংগঠনের নেতাকর্মী।কুশপুত্তলিকায় আগুন দেয়ার আগে টিএসসি থেকে ‘রঙিন চশমা মিছিল’ ও করেছেন ‘নিপীড়নবিরোধী শিক্ষার্থীবৃন্দ’। সানগ্লাস পরে প্রক্টরের অপসারণের দাবি লেখা প্ল্যাকার্ড নিয়ে এই মিছিলে অংশগ্রহণকারীরা ভিসি চত্বর হয়ে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে আবারও টিএসসিতে ফেরেন।

মঙ্গলবার দুপুর দেড়টার দিকে টিএসসির রাজু ভাস্কর্যের সামনে ‘নিপীড়নবিরোধী শিক্ষার্থীবৃন্দ’র ব্যানারে এ কর্মসূচি পালন করেন তারা। সরকারি সাত কলেজের অধিভুক্তি বাতিলের দাবিতে আন্দোলনরতদের ওপর হামলার ঘটনায় অভিযুক্ত ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেয়ায় প্রক্টরের অপসারণ দাবিতে এ কর্মসূচি পালিত হয়।

গত সোমবার প্রগতিশীল ছাত্রজোটের ডাকা ধর্মঘটের মধ্যেই মঙ্গলবারের কর্মসূচি পালিত হয়েছে। এ কর্মসূচির সমন্বয়ক মাসুদ আল মাহদী প্রক্টর অধ্যাপক একেএম গোলাম রব্বানীর ব্যাপারে সাংবাদিকদের কাছে বিভিন্ন অভিযোগ তুলে ধরেন। তিনি বলেন, প্রক্টর হওয়ার পর টিএসসিতে অধ্যাপক গোলাম রব্বানী শিক্ষকদের সভায় মারামারি করেছেন। গত ১৫ জানুয়ারি তার সামনেই ছাত্রলীগ কর্মীরা আন্দোলনরত মশিউর রহমানকে মারধর করে। এর কারণ জানতে তার কার্যালয় ঘেরাও করা হলে তিনি উত্তর দেননি। বরং আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে।

এ জন্য প্রক্টরকে ব্যর্থ বলে অভিহিত করে মাহদী বলেন, তাকে এতদিন পদত্যাগের আহ্বান জানানো হয়েছে; এবার শিক্ষার্থীরা তার অপসারণ চায়।

পাল্টাপাল্টি সমাবেশ বুধবার: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যকে লাঞ্ছনার প্রতিবাদে বুধবার ক্যাম্পাসে সন্ত্রাসবিরোধী ছাত্র সমাবেশ ডেকেছে ‘ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ’। অপরাজেয় বাংলার পাদদেশে এ কর্মসূচি পালন করবে তারা।

অন্যদিকে ছাত্রলীগের হামলার প্রতিবাদে ‘প্রগতিশীল ছাত্রজোট’-এর ব্যানারে বুধবার বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে।

ঢাবি ক্যাম্পাসে পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি নিয়ে প্রক্টর অধ্যাপক ড. একেএম গোলাম রব্বানী সমকালকে বলেন, শিক্ষার্থীরা তাদের গণতান্ত্রিক অধিকার আদায়ে সভা-সমাবেশ করতেই পারে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তাদের সহায়তা করবে।

আন্দোলনের নামে কেউ বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করবে না বলে আশা করেন তিনি।

গত সোমবার ধর্মঘট-পরবর্তী সমাবেশ থেকে বুধবারের বিক্ষোভ সমাবেশ ডাকে প্রগতিশীল ছাত্রজোট। এর আগে উপাচার্যকে লাঞ্ছনা ও বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্পদহানির অভিযোগ এনে জড়িতদের বিচার চেয়ে একই দিন অপরাজেয় বাংলার পাদদেশে সন্ত্রাসবিরোধী ছাত্র সমাবেশ করার ঘোষণা দেয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ।

‘নিপীড়নবিরোধী শিক্ষার্থীবৃন্দ’র ব্যানারে আন্দোলনরতরা উপাচার্যের কার্যালয় ঘেরাও করতে গেলে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের সঙ্গে সংঘর্ষ হয়। এর পর থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি অব্যাহত রয়েছে। ক্যাম্পাসের বামপন্থি ছাত্র সংগঠনগুলো ২৩ জানুয়ারি থেকে ‘প্রগতিশীল ছাত্রজোট’-এর ব্যানারে কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছে।

ছাত্রলীগ প্রথমে ‘সচেতন শিক্ষার্থী’দের ব্যানারে কর্মসূচি চালিয়ে গেলেও এবার ‘ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ’-এর ব্যানারে সমাবেশ করছে।

Leave a Reply

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

14 − 2 =