তনু ধর্ষণ ও হত্যায় জড়িতরা চারদিনেও অধরা:ক্ষোভে উত্তাল কুমিল্লা

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

নাট্যকর্মী সোহাগী জাহান তনুকে ধর্ষণ শেষে হত্যার ঘটনার চার দিন চলে গেলেও এ ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত বা গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ। নারকীয় ঘটনায় জড়িতদের অবিলম্বে গ্রেফতার ও তাদের বিচার দাবিতে ক্ষোভে উত্তাল হয়ে উঠেছে সারা দেশ এবং সামাজিক সাইট।Mob

গত চার দিনে বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ সমাবেশ করা হচ্ছে বিভিন্ন স্থানে। ফেসবুকে বইছে প্রতিবাদের ঝড়।কুমিল্লা নগরী। সন্ধ্যায় নগরীর কান্দিরপাড়ে প্রদীপ প্রজ্বালনের মাধ্যমে তনুর  হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদ জানানো হয়।

মাঠে নেমে এসেছে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজ, সরকারি মহিলা কলেজসহ নগরীর বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের হাজার হাজার শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতা-কর্মীরা। গতকাল বৃহস্পতিবার বেলা ১০টা থেকে ১২টা পর্যন্ত শিক্ষার্থীসহ প্রতিবাদী জনতা নগরীতে দফায় দফায় বিক্ষোভ মিছিল শেষে দুপুরে কান্দিরপাড় পূবালী চত্ত্বরে এসে মানববন্ধন ও সমাবেশ করে। এতে নগরীতে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। প্রায় দুই ঘণ্টার জন্য অচল হয়ে পড়ে নগরী। পরে তারা জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের কাছে স্মারকলিপি দেন।

কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের ইতিহাস বিভাগের স্নাতক (সম্মান) দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী ও নাট্যকর্মী সোহাগী জাহান তনুকে গত রবিবার সন্ধ্যায় দুর্বৃত্তরা ধর্ষণের পর  হত্যা করে। পরে রাত সাড়ে ১০টার দিকে কুমিল্লা সেনানিবাসসংলগ্ন এলাকার পাওয়ার হাউসের পানির ট্যাংকসংলগ্ন কালভার্টের পাশের একটি জঙ্গলের ভেতর মাথা থেত্লানো সোহাগীর অর্ধনগ্ন মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়।

পরদিন সোমবার তনুর বাবা ইয়ার হোসেন অজ্ঞাত ব্যক্তিদের আসামি করে কুমিল্লা কোতয়ালী থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।

কুমিল্লা নগরীর কান্দিরপাড়ে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ সমাবেশে দুঃখ প্রকাশ করে বক্তব্য রাখেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ইমতিয়াজ আহমেদ ও কোতয়ালী মডেল থানার ওসি আবদুর রব। সমাবেশকে শান্ত করার জন্যে তারা দ্রুত অপরাধীদের সনাক্ত করার আশ্বাস দেন।

শিক্ষার্থীদের সাথে সংহতি জানিয়ে বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তব্য রাখেন সাংস্কৃতিক সংগঠক অ্যাড. শহীদুল হক স্বপন,  মহানগর ছাত্রলীগ সভাপতি আবদুল আজিজ সিহানু, ছাত্রলীগ নেতা রোকন উদ্দিন ও নাজমুল আহসান শাওন , দক্ষিণ জেলা যুবদল সভাপতি আমিরুজ্জামান আমির, দক্ষিণ জেলা ছাত্রদল সভাপতি উত্বাতুল বারী আবু প্রমুখ।

ভিক্টোরিয়া কলেজ থিয়েটারের সাবেক সভাপতি আল-আমিন বলেন, তনুর হত্যাকারীদের গ্রেফতার না করা পর্যন্ত আন্দোলন চলবে।

এদিকে জেলার মুরাদনগর উপজেলার মির্জাপুর গ্রামে তনুর বাড়িতে চলছে তার বাবা-মা ও স্বজনদের আহাজারি। গতকাল সকালে মুরাদনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ মনসুর উদ্দিন তনুর পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানাতে তাদের বাড়িতে যান। এ সময় তিনি জেলা প্রশাসন ও মুরাদনগর উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ২০ হাজার টাকা তার বাবা-মাকে প্রদান করেন এবং জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে এক খণ্ড খাস জমি তনুর পরিবারকে বন্দোবস্ত দেয়ার ঘোষণা দেন। কান্নায় ভেঙ্গে পড়ে সোহাগীর বাবা ইয়ার হোসেন বলেন, তনুর লাশ পাওয়ার পর তার মাথার পেছন দিকে আঘাতের চিহ্ন ছিল এবং মুখ দিয়ে রক্ত বের হচ্ছিল। তিনি বলেন, ‘পরিবার পরিজন নিয়ে নিরাপত্তাহীনতায় আছি, তাই আমরা গ্রামের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছি।’ তিনি অবিলম্বে খুনিদের গ্রেফতার দাবি করেন।

হত্যা রহস্য বের করতে পুলিশের একাধিক টিম ছাড়াও জেলা গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) একটি টিম এরই মধ্যে হত্যাকাণ্ডের সম্ভাব্য কারণ চিহ্নিত করতে বেশ কিছু ক্লু নিয়ে মাঠে অভিযান চালাচ্ছে বলে ডিবি পুলিশ সূত্রে জানা গেছে। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ময়নামতি পুলিশ ফাঁড়িতে কর্তব্যরত এসআই সাইফুল ইসলাম জানান, হত্যা রহস্য এখনো বের করা সম্ভব হয়নি। শিগগিরই গ্রেফতারের ব্যাপারে আশাবাদী তিনি।

আমাদের রাজশাহী বিশ্বাবিদ্যালয় সংবাদদাতা জানান, তনুকে ধর্ষণের পর হত্যার প্রতিবাদে গতকাল রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে ছাত্র ইউনিয়ন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) শাখা। সকাল সাড়ে ১১টায় মিছিলটি শুরু হয়ে প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে টুকিটাকি চত্বরে গিয়ে এক সংক্ষিপ্ত সমাবেশে মিলিত হয়। সমাবেশে ছাত্র ইউনিয়ন নেতারা বলেন, এর আগে পহেলা বৈশাখে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় টিএসসিতে নারী নিপীড়নের ঘটনায় কাউকে গ্রেফতার করা হয়নি। দেশে ধর্ষণ, খুন, নারী নির্যাতনের বিরুদ্ধে তেমন কোনো ব্যবস্থাই নিতে পারেনি প্রশাসন।

আমাদের ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় সংবাদদাতা জানান, তনুকে ধর্ষণ ও হত্যায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে গতকাল দুপুরে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় চলচ্চিত্র সংসদ। আশিকুর রহমান আতিকের সঞ্চালনায় মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির সভাপতি মোস্তফা যুবায়ের আলম, বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্র ইউনিয়ন সভাপতি সুশান্ত ওঝা, বিশ্ববিদ্যালয় থিয়েটার সভাপতি মিনহাজ কবির, সাংস্কৃতিক কর্মী ইসমাত জেরিন প্রমুখ।

Leave a Reply

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

10 − 6 =