তাবিথের সামনেই দুই কাউন্সিলর প্রার্থীর জুতা ছোড়া-ছুড়ি

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ৩৫ নম্বর ওয়ার্ডের ভোটারদের  কারো কারো মতে, এই ওয়ার্ডে বিএনপির যারা প্রার্থী হয়েছেন ,তারা  দলের মনোনীত মেয়র প্রার্থী তাবিথ আউয়ালের পক্ষে আজো কারো কাছে ভোট চান নি ।  এলাকার জনগণের সুখে-দুঃখেও এসব প্রার্থীকে তেমন  পাওয়া যায় না।  একই অবস্থা বিরাজ করছে আ’লীগ প্রার্থীদের মধ্যেও। তারাও একে অপরের সাথে বিবাদে ব্যস্ত। এ কারণে অনুমান করা যাচ্ছেনা ,কে হবেন এই ওয়ার্ডের প্রতিনিধি।

এ পরিস্থতিতে বুধবার বিকেল ৬টায় মগবাজারস্থ নয়াটোলা মাজারের সামনে মেয়র প্রার্থী তাবিথ আউয়ালের সামনেই   ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ৩৫ নম্বর ওয়ার্ডের বিএনপি সমর্থিত কমিশনার প্রার্থী (সাবেক কমিশনার) সর্মিলা এবং অপর কমিশনার প্রার্থী শেখ আমির জুতা ছোঁড়া ছুড়ি এবং হাতা-হাতি করলেন। দু’জনই একজন আরেকজনকে বেশ শাসালেন। এ কান্ড দেখে তাবিথ আউয়াল হতচকিত হয়ে পড়েন।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে বিএনপি কাউন্সিলর প্রার্থী সর্মিলা বলেন, আমীরের সাথে আমার জুতা ছোড়াছুড়ি হয়নি। লোকজন গন্ডগোল করতে চেয়েছিল আমি তাদেরকে বারন করেছি।আমীর আমার স্বামী হত্যার আসামী।কিছুদিন আগে সে আট লাখ টাকা দিয়ে জামিন নিয়েছে।তাকে বলে দেন কোন বাড়াবাড়ি যেন না করে । আমি এলাকার মেয়ে এবং বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী।

এর জবাবে  শেখ আমীর বলেন, তিনি সর্মিলার সাথে কোন গন্ডগোল করেননি। অভিযোগ করেন, সর্মিলাই ওনাদের সাথে খারাপ আচরণ করেছেন। তিনি দাবি করেন  বিএনপি থেকে সর্মিলা অনেক আগেই বহি:স্কৃত হয়েছে।গত জাতীয় নিবাচনের আগে সর্মিলা বিকল্প ধারায় যোগদান করে। সে বিএনপির কোন সমর্থিত প্রার্থী নয়।

তারা দু’জনই নিজেদের বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী বলে দাবি করেন।প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে,  শেখ আমির সর্মিলাকে উদ্দেশ্য করে বলেন, “আপনি বিএনপি ছেড়ে বিকল্প ধারায় যোগ দিয়ে ছিলেন। এখন ভোটের সময় হয়েছে আবার বিএনপি’র পতাকা তলে ভোট চাচ্ছেন।” একথার জবাবে উত্তেজিত হয়ে সর্মিলা শেখ আমিরকে  ,”আপনি তো আমার স্বামী হত্যার আসামী। আপনার ষড়যন্ত্রেই আমার স্বামী খালেদ ইমামকে হত্যা করা হয়।”

দুই প্রার্থীর হট্রগোল দেখে কিংকর্তব্য বিমূঢ় হয়ে যান বিএনপি সমর্থিত  মেয়র প্রার্থী তাবিথ আউয়াল। এই দুইজন ছাড়াও বিএনপি’র পতাকায় আরো একজন প্রার্থী মাঠে সক্রিয় রয়েছেন। তিনি সিদ্ধেশ্বরী কলেজের সাবেক জিএস ও  কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক দলের শিল্প বিষয়ক সম্পাদক হাজী মোসফিকুল জামিল কাকন।  কাকন এবং আমিরকে ডিঙ্গিয়ে বিএনপি’র সমর্থন নিয়ে মাঠে আছেন সর্মিলা।
এদিকে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ৩৫ নম্বর ওয়ার্ডের কমিশনার পদে ৯ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এদের মধ্যে একজন প্রতীক পাওয়ার পর গণসংযোগ না করলেও বাকী ৮জন প্রচারভিযান চালাচ্ছেন। এরা হলেন, হাজী মোসফিকুল জামিল কাকন (লাটিম), শেখ আমির (এয়ারকন্ডিশন) ও সর্মিলা (মিষ্টিকুমড়া)। এই তিন প্রার্থীই বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত। আ’লীগ সমর্থিতরা হলেন, সাবেক কমিশনার আলহাজ মোখলেছুর রহমান  (র‍্যাকেট), ফয়জুল মনির চৌধরী (ঘুড্ডি) ও মুক্তার হোসেন (কাঁটা চামচ)। এছাড়াও কালাম (ট্রাক্টর) হেলাল (ঝুড়ি) ও জাহিদ  (ঠেলা গাড়ি) এ প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

৩৫ নম্বর ওয়ার্ডে নারী-পুরুষ মিলিয়ে মোট ভোট সংখ্যা ৫৭ হাজারের উপরে। এই ওয়ার্ডে দুটিতে বস্তিও রয়েছে। সেখানে প্রায় দেড় হাজার লোকের বসবাস।

 

Leave a Reply

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

1 × 1 =